ফিনিশ করতে পারলেন না নাসির, জিতল নর্থ জোন

ফিনিশ করতে পারলেন না নাসির, জিতল নর্থ জোন
Vinkmag ad

ম্যাচের মোড় বদলেছে ক্ষণে ক্ষণে। ২৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় এনামুল হক বিজয়-জাকির হাসানের ব্যাটে সহজ জয়ের পথে ছিল বিসিবি সাউথ জোন। এরপর ১০ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে মুহূর্তেই খাদের কিনারায়। সেখান থেকে নাসির হোসেন ও নাসুম আহমেদের ব্যাটে আবারও জয়ের পথে সাউথ জোন। দারুণ এক ইনিংসে দলকে শিরোপা জিতিয়েই দিচ্ছিলেন নাসির, তবে শেষ ওভারে খেই হারিয়ে পরাজিত দলেই থাকতে হল তাকে। ৬ রানে জিতে শিরোপা ঘরে তুলল বিসিবি নর্থ জোন।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে নর্থ জোনের পুঁজি ৮ উইকেটে ২৪৪। সর্বোচ্চ ৬৮ রান ফজলে রাব্বির ব্যাটে। এ ছাড়া আকবর আলি ৪৪, রিয়াদ ৩৯ ও শামীম করেন ৩৭ রান।

জবাবে ৯ উইকেটে ২৩৮ রানে থামে বিসিবি সাউথ জোন। নাসিরের ৬১ রানের সাথে বিজয়ের ৫৯ রানও বৃথা গেল। কাজে আসেনি জাকিরের ৪২ ও নাসুমের ৩৮ রান।

নর্থ জোনকে শুরুতে চেপে ধরে সাউথ জোনের বোলাররা। বিশেষ করে প্রথম স্পেলে দারুণ করেছেন শরিফুল ইসলাম। দুই ওপেনার লিটন দাস (১) ও শাহাদাত হোসেন দিপুকে (৪) দ্রুতই ফেরান এই বাঁহাতি পেসার। ২ উইকেটে ১৮ রানে পরিণত হয় নর্থ জোন।

এরপর সৈকত আলি ও ফজলে রাব্বির জুটিও টিকেনি ২৭ রানের বেশি। সৈকত রান আউটে কাটা পড়েন ২২ রান করে।

৪৫ রানে ৩ উইকেট হারানো নর্থ জোনকে এরপর পথ দেখান রিয়াদ ও ফজলে রাব্বি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৭৮ রান।

৫৩ বলে ৩৯ রান করে নাসির হোসেনের বলে রিয়াদ বোল্ড হলে ভাঙে জুটি। তবে অন্যপ্রান্তে ততক্ষণে ৮৯ বলে ৪ চারে ফিফটি তুলে নেন ফজলে রাব্বি।

ফিফটির পর অবশ্য বেশি দূর যেতে পারেননি। ১১৪ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় সাজান ৬৫ রানের ইনিংসটি।

তবে শেষদিকে দারুণ কার্যকর দুটি ইনিংস খেলেন আকবর আলি ও শামীম পাটোয়ারী।

৪১ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় আকবরের ব্যাটে ৪৪ রান। ২০ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় শামীম করেন ৩৭ রান। শেষ ১০ ওভারে নর্থ জোনের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৮৭ রান।

বল হাতে সাউথ জোনের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন শরিফুল। ৩১ রান খরচায় ২ টি উইকেট নেন মিরাজ।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই সাউথ জোন হারায় ওপেনার নাইম শেখকে (১১)। এরপর শতরানের জুটি আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও জাকির হাসানের।

রান তোলাতে নর্থ জোনের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সাউথ জোনের ইনিংসে। বেশ সাবলীল ব্যাটিং করেন বিজয়-জাকির। ১৫ ওভারেই দলীয় রান ১০০ পেরোয়।

৩৯ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় জাকির ৪২ রান করে আউট হলে বিজয়ের সাথে ১০০ রানের জুটি ভাঙে। জাকির না পারলেও ফিফটি হাঁকান ফর্মহীন সময় কাটানো বিজয়। ৪৮ বলে ৩ চার ৫ ছক্কায় খেলেন ৫৯ রানের ইনিংস।

কিন্তু ১০ রানের ব্যবধানে বিজয়-জাকির সহ সাজঘরে ফেরেন নাইম ইসলাম, তৌহিদ হৃদয় ও মিরাজ। রানের খাতাই খুলতে পারেননি নাইম-হৃদয়-মিরাজ।

১ উইকেটে ১১৭ থেকে ৬ উইকেটে ১২৭ রানে পরিণত হয় সাউথ জোন। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ১ বলের বেশি ক্রিজে টিকেননি জিয়াউর রহমান।

অমন বিপাকে পড়া পরিস্থিতি থেকে দলকে জয়ের পথ দেখান নাসির ও নাসুম। দুজনের ৮৫ রানের জুটি ভাঙে ৩৮ রান করা নাসুম আউট হলে।

সুস্থ হয়ে ক্রিজে আসেন জিয়া, কিন্তু এ দফায় ৬ বল খেলে কোনো রান না করেই ফেরেন। ৮ উইকেটে ২১৬ নর্থ জোনের।

জয়ের পথটা আবারও কঠিন হয়ে যায় সাউথ জোনের জন্য। ততক্ষণে ৭৬ বলে নাসির ছুঁয়েছেন ফিফটি।

শেষ ওভারের সমীকরণ ১০, শফিকুল ইসলামের করা প্রথম বলেই রান আউট নাসির। ৮৮ বলে ৪ চারে ৬১ রান তার ব্যাটে। নাসিরের বিদায়ের পর শেষের ওই সমীকরণ আর মেলাতে পারেনি কামরুল ইসলাম রাব্বি-শরিফুল ইসলামরা। সঙ্গী ৬ রানের পরাজয়।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বোলিংয়ে উজ্জ্বল সাকিব, আজও জেতেনি তার দল

Read Next

ব্রাজিল ভক্ত পাপন বলছেন আর্জেন্টিনা সাংঘাতিক

Total
6
Share