দলের কথা ভেবে হ্যাটট্রিকের লোভ সামলেছেন তাসকিন

তাসকিন ৪
Vinkmag ad

ইনিংসের প্রথম দুই বলেই উইকেট, পেস বান্ধব উইকেটে লেংথ ডেলিভারিতে হাল্কা সুইং। এ যেন স্বপ্নের মতো শুরু, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এমন কিছু করলেন বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদ। হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগিয়েও তৃতীয় বলে লোভ নিয়ন্ত্রণ করেছেন, উইকেটের চেয়ে দলের কথা ভেবে ঝুঁকি নেননি।

৯ রানের জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের। হোবার্টের বেলেরিভ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ১৪৪ রানের পুঁজি পায়। জবাবে তাসকিনের ৪ উইকেট শিকারের দিনে ১৩৫ রানে অলআউট ডাচরা।

২৫ রান খরচায় ৪ উইকেটে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার তাসকিনের হাতে। প্রথম দুই বলে উইকেট নিয়ে গড়লেন কীর্তি। যেকোনো বিশ্বকাপে এমন নজির এতোদিন ছিল কেবল শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তী পেসার চামিন্দা ভাসের।

২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভাস বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম তিন বলেই নেন উইকেট। তাসকিন অবশ্য তিন বলে তিন উইকেট নিতে পারেননি। কিন্তু প্রথম দুই বলে নেদারল্যান্ডসের বিক্রমজিত সিং ও বাস ডি লিডের উইকেট নিয়েই হলেন ইতিহাস। ভাসের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে যে গড়লেন এই কীর্তি।

তৃতীয় বলে উইকেট নিলে ভাসের মতো প্রথম তিন বলে উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলারও হতেন তাসকিন। সাথে এবারের আসরের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকও তুলে নিতে পারতেন এই ডানহাতি।

তবে একই লেংথে করা তৃতীয় বলটি সামলে নেন ডাচদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করা কলিন অ্যাকারম্যান। যদিও পরে অ্যাকারম্যান ও সারিজ আহমেদকে ফিরিয়ে চতুর্থ শিকার পূর্ণ করেন তাসকিন।

তৃতীয় বলটি করার আগে কি ভাবনা কাজ করেছে জানাতে গিয়ে তাসকিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমার ভাবনা বেসিকই ছিল, যেটা প্রথম দুইটা লেংথে ফেলে সুইং করানোর চেষ্টা করেছি। আল্লাহর রহমতে হয়েছেও। তৃতীয় বলটাও ঐ একই লেংথে করেছি। খুব বেশি লোভী হইনি, কারণ উপরে করতে গিয়ে দেখা গেলো একটা চার হল, সেটা দলের ক্ষতি হয়ে যেত। আমি শুধু শৃঙ্খলা মেনে বল করেছি।’

এদিকে হোবার্টের উইকেট দারুণ সহায়ক ছিল বলেও উল্লেখ করেন টাইগার পেসার। তার মতে লেংথ, ব্যাক অফ লেংথ ও বাউন্সার বেশ ভালো হচ্ছিল বলে ইয়র্কার লেংথে বল করেছেন কম।

তাসকিন যোগ করেন, ‘আজকের উইকেটে লেংথ বল, ব্যাক অফ লেংথ বল, বাউন্সার এসব বেশ ভালো হচ্ছিল। এ কারণে আজকে আমাদের লেংথ বলটাই বেশি কার্যকর ছিল ইয়র্কার চেষ্টা করার চেয়ে। তবে হ্যাঁ আমি আর হাসান কিছু বল ইয়র্কার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু লেংথ বলে যখন মুভমেন্ট ও বাউন্স পাচ্ছিলাম আমরা ওটাতেই স্থির ছিলাম।’

তবে দারুণ এক ইয়র্কারে টিম প্রিঙ্গলকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। চোটের সাথে লড়াই শেষে জাতীয় দলে ফিরেই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছেন এই পেসার। অনুশীলনে ইয়র্কার নিখুঁত করতে নিয়মিত টায়ার ব্যবহার করছে বাংলাদেশ দলের পেসাররা। যেখানে হাসানকে দেখা যায় বাড়তি সময় দিতে।

ম্যাচে তার প্রতিফলন করা নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘টায়ার অনুশীলনের বিষয়টা আমাদের যে প্রধান কোচ আছে সেই-ই তৈরি করেছে যেন ইয়র্কার, ওয়াইড ইয়র্কারে আরও বেশি ধারাবাহিক হতে পারি। এই অনুশীলনটা আমরা সবসময়ই করি ইয়র্কারের উন্নতির জন্য। ডেথ ওভারে আমাদের রেকর্ড হয়তো খুব একটা ভালো না তবে আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টি-টোয়েন্টিতে টেস্ট ম্যাচের কৌশল ব্যবহার করে সফল হলেন তাসকিন

Read Next

যখন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ও ‘বড়’

Total
1
Share