হারমানপ্রীতের চা বাগান প্রেম ও একটি এশিয়া কাপের ফাইনাল

167A3974
Vinkmag ad

সবুজের কোলে, চা বাগান যেন আগলে রেখেছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে। চোখ বন্ধ করেই হয়তো বলে দেওয়া যায় বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর মাঠ এটি। বিশ্বের সুন্দর স্টেডিয়ামগুলোর একটি বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। নারী এশিয়া কাপ খেলতে এসে অন্য অনেকের মতো ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত করও এই মাঠের প্রেমে পড়েন। বিশেষ করে মাঠের আশেপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা টিলা ও চা বাগান মুগ্ধ করেছে

আগামীকাল (১৫ অক্টোবর) ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের নারী এশিয়া কাপের। এই টুর্নামেন্টের সব আসরের ন্যায় এবারও ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে ভারতের। তাদের প্রতিপক্ষ ১৪ বছর পর এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলতে আসা শ্রীলঙ্কা।

দুই দলের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন ও ট্রফি নিয়ে ফটো সেশন হয়েছে আজ (১৪ অক্টোবর) বিকেলে। বিকেল ৪ টায় সংবাদ সম্মেলন শেষে মূল মাঠে দুই অধিনায়কের ট্রফি নিয়ে ছবি তোলার কথা থাকলেও ভারতীয় কাপ্তান জুড়ে দেন আবদার। মাঠের পাশে চা বাগানে ঘেরা টিলায় আনুষ্ঠানিক ছবি তুলবেন।

আয়োজকরাও এই আবদারে না করেনি। কিছুটা কষ্ট হয়তো হয়েছে কারণ ততক্ষণে নিয়মিত দর্শনার্থীরা লাক্কাতুরা চা বাগানে ঘুরতে চলে এসেছেন। তাদের সামলে ঠিকই চা বাগানের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবির জন্য পোজ দেন হারমানপ্রীত কর ও লঙ্কান দলপতি চামারি আত্তাপাত্তু। হারমানপ্রীতের এমন আবদারের মাঝেই প্রকাশ পায় মুগ্ধতার বিষয়টি।

এবার ফেরা যাক সংবাদ সম্মেলনে। ফাইনালের আগেরদিন লঙ্কানরা অনুশীলন করলেও ভারত স্বভাবসুলভ অনুশীলন বিহীন। পুরো টুর্নামেন্টে ম্যাচের বাইরে এমনিতেই খুব বেশি অনুশীলন করতে দেখা যায়নি স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি ভার্মাদের।

এই নিয়ে এশিয়া কাপের ৮ম আসরের সবকটিতেই ফাইনালে ভারত। যেখানে আগের ৭ বারের মাঝে প্রথম ৬ বারই জিতেছে তারা। কেবল গত আসরে (২০১৮) ফাইনালে হারে বাংলাদেশের কাছে।

নারী এশিয়া কাপের সবচেয়ে সফল দলের অধিনায়ক অবশ্য বলছেন অতীত অতীতই। আগামীকাল একদম নতুন এক দিন, নতুন ম্যাচ, যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে। অনেকটা প্রথাগত কথাবার্তা।

হারমানপ্রীতের ভাষায়, ‘যখন আপনি একটা স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করে ফেলবেন, তখন আপনার কাছে অনেক প্রত্যাশা থাকবে। এটা আমদের জন্য খুবই গুরিত্বপূর্ণ যে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলা। আমরা জানি আমরা ইতিহাস গড়েছি তবে আগামীকাল একটা নতুন ম্যাচ। আমাদের সেখানেই থাকতে হচ্ছে, নজরটাও সেদিকে।’

প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা নিয়েও নিজের অভিমত দেন ভারতীয় অধিনায়ক। লিগ পর্বে অবশ্য ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরেই অবশ্য টুর্নামেন্ট শুরু করে শ্রীলঙ্কা। ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হওয়াকে ইতিবাচক মনে করেন হারমানপ্রীত।

‘আমরা তাদের দলে বেশ কিছু ইতিবাচকতা দেখেছি। বিশেষ করে তারা শেষ বল পর্যন্ত হাল ছাড়ে না। তাদের লড়াই দেখাটা সত্যি অসাধারণ। যখন কোনো দল ভালো ক্রিকেট খেলবে তখন আপনিও তাদের কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখবেন।’

অন্যদিকে নারী এশিয়া কাপের প্রথম চার আসরেই ফাইনাল খেলে শ্রীলঙ্কা। প্রতিবারই হেরেছে ভারতের কাছে। সর্বশেষ খেলে ২০০৮ সালে। এবার তাদের সামনে দারুণ সুযোগ ইতিহাস বদলানোর।

অধিনায়ক চামারি যেমনটা বলছিলেন, ‘এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ যেহেতু গত ১৪ বছর আমরা এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলিনি। আমরা সুযোগটা পেয়েছি ভারত নিঃসন্দেহে ফেভারিট দল। গত কয়েক সপ্তাহ তারা টানা ভালো খেলছে, বিশেষ করে ইংল্যন্ডে ভালো খেলে এখানে এসেছে। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই কারণ সংবাদ মাধ্যম ও টিভি সম্প্রচারের কারণে দর্শকরাও দেখবে।’

এর আগে ২৩ বার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয় ভারত-শ্রীলঙ্কা। যেখানে ভারতের ১৭ জয়ের বিপরীতে মাত্র ৪ জয় শ্রীলঙ্কার। বাকি দুইটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। লঙ্কানরা সর্বশেষ জিতেছে ২০১৪ সালে।

ভারত ফেভারিট হলেও নিজেরা শুরুতেই ভড়কে যাওয়া কিংবা চাপ অনুভব করা থেকে দূরে থাকতে চায় শ্রীলঙ্কা।

চামারির ভাষায়, ‘ভারত স্পষ্ট ফেভারিট এই টুর্নামেন্টে। তাদের ভালো মানের খেলোয়াড় আছে বেশ কয়েকজন। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে আমি আসলে কোনো চাপ অনুভব করতে চাই না আগামীকালকের ম্যাচের জন্য। এই ম্যাচে যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে, ভুল কম করবে তারাই জিতবে। আমরা আমাদের পরিকল্পনাতেই থাকতে চাই।’

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল দুপুর দেড়টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে ফাইনাল ম্যাচটি। সরাসরি দেখাবে স্টার স্পোর্টস, দর্শকদের জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর মতোই।

সব ছাপিয়ে ৭ম শিরোপা ঘরে তুলবে ভারত নাকি প্রথম শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতবে লঙ্কানরা সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে ভক্ত সমর্থক আর ক্রিকেট অনুরাগীদের চাওয়া অন্তত জমজমাট একটা ফাইনাল দেখা।

সিলেট থেকে ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিশ্বকাপ দল পরিবর্তন নিয়ে জানাবে বিসিবি

Read Next

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলে এক পরিবর্তন

Total
1
Share