এমন ম্যাচেও হারল বাঘিনীরা, শঙ্কায় সেমিফাইনাল খেলা

এমন ম্যাচেও হারল বাঘিনীরা, শঙ্কায় সেমিফাইনাল খেলা
Vinkmag ad

নারী এশিয়া কাপের সেমি-ফাইনালে যেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণই ছিল। টস জিতে আগে ফিল্ডিং করে দারুণ শুরুও করেছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্যটা থাকছিল ধরা ছোঁয়ার মধ্যেই। কিন্তু বৃষ্টি বাধায় পুরো ২০ ওভার খেলা হয়নি লঙ্কানদের, টাইগ্রেসদের জন্য লক্ষ্যটাও ঠিক হয় সাধ্যের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে ৩ রানে হারতে হল নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ৯ টায় শুরু হওয়া ম্যাচেই বৃষ্টির শঙ্কা ছিল। তবে ম্যাচের ১৮.১ ওভার পার হয়েছিল ঝামেলা ছাড়াই। তার আগে ৫ উইকেটে ৮৩ রান লঙ্কানদের স্কোরবোর্ডে। সর্বোচ্চ ২৮ রানে অপরাজিত নিলাক্ষী ডি সিলভা, ১৮ রান আসে ওপেনার হারসিথা মাধবীর ব্যাট থেকে।

বৃষ্টির পর লঙ্কানরা আর ব্যাট করেনি। দেড় ঘন্টার বিরতি শেষে শুরু হওয়া খেলায় বাংলাদেশের জন্য নতুন লক্ষ্য ঠিক হয় ৭ ওভারে ৪১। ৭ উইকেটে ৩৭ রানে থামতে হয় বাংলাদেশকে।

এই পরাজয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে গেল। নিজেদের শেষ ম্যাচ তো জিততেই হবে, সাথে তাকিয়ে থাকতে হবে থাইল্যান্ডের ম্যাচের দিকে ও আবহাওয়ার দিকে। 

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি টিকেনি ৮ বলের বেশি, ৪ বলে ১ রান করে স্টাম্পড হন মুর্শিদা খাতুন। তবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি সাবলীল খেলছিলেন। কিন্তু তাকে এক পাশে রেখে ইনোকা রনভীরার বলে বিদায় নেন ফারজানা হক পিংকি (৮ বলে ৬)।

সেখান থেকে নতুন ব্যাটার রুমানা আহমেদকে নিয়ে জ্যোতি দারুণভাবে টেনে নিচ্ছিলেন। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ১৪। তবে পরপর দুই বলে রুমানা (৮) ও জ্যোতিকে (১২) সাজঘরের পথ দেখায় ইনোকা রনভীরা।

এক বলের ব্যবধানে একই পরিণতি সোবহানা মোস্তারির (১), শেষ বলে রান আউটের শিকার ফাহিমা খাতুন (১)। ওভারে উইকেট গেলো চারটি। শেষ ওভারে প্রয়োজন ১১। বাংলাদেশ নিতে পারে ৭ রান। ৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার রনভীরাই।

লঙ্কান দুই ওপেনার শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল। সালমা খাতুনের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে আন হারসিথা মধবি।

তবে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার দারুণ ফায়দা লুটেছেন পেসার জাহানারা আলম। বাঁহাতি ব্যাটার চামারি আতাপাত্তুকে একের পর এক ইনসুইংয়ে নাচিয়ে ছেড়েছেন। ওভারের শেষ বলে আর টিকতেই পারেননি, হয়েছেন বোল্ড (৫ বলে ১)।

রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা ফুলার লেংথের ডেলিভারিতে যেভাবে ভেতরে ঢুকে অফ স্টাম্পে চুমো খেলো বল তা যে কারও জন্যই স্বপ্নের। আর এতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন অভিজ্ঞ এই পেসার।

শুরুর এমন কঠিন সময় সামলে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ২৩ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। তবে ৮ম ওভারে সানজিদা আক্তার মেঘলা ফেরান মাধবীকে (৩১ বলে ১৮)। পরের ওভারে আক্রমণে এসে রুমানা আহমেদ তুলে নেন নতুন ব্যাটার আনুষ্কা সানজিওয়ানিকে (০)।

৩ উইকেটে ৩১ রানে পরিণত হয় লঙ্কানরা। ১০ ওভার শেষে স্কোর ৩ উইকেটে ৩৬।

অমন শুরুর পর নিলাক্ষী ডি সিলভার ব্যাটে যা একটু পথের দেখা পায় লঙ্কানরা। কিন্তু ১৯তম ওভারের প্রথম বলের পরই বৃষ্টি নামে। ততক্ষণে ১৮.১ ওভারে ৫ উইকেটে ৮৩ রান তাদের স্কোরবোর্ডে। তখন ২৮ রানে অপরাজিত নিলাক্ষী।

সিলেট থেকে ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

২ টেস্ট, ৮ ওয়ানডে, ৫ টি-টোয়েন্টি খেলতে দুইবার পাকিস্তান সফরে যাবে নিউজিল্যান্ড

Read Next

পরিসংখ্যান না দেখা জাহানারা যখন সংবাদ সম্মেলনে আবেগী

Total
6
Share