ক্যাচ মিসের মহড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারল ম্যাচটাই

ওয়েড কটরেল
Vinkmag ad

জয়ের আশা জাগিয়েও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ক্যাচ মিসের মহড়ায় হয়ে যায় ম্যাচটাই মিস। শেষ ওভারের নাটকীয়তাই জয়ের নায়ক ম্যাথু ওয়েড। চারে নেমে ফিফটি হাঁকানো ফিঞ্চ পেলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

শেষ ওভারে ক্যারিবিয়ানদের দুই ক্যাচ মিস! এই সুযোগেই অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে আসেন ম্যাথু ওয়েড, মিচেল স্টার্ক। ক্যাচ মিসের মাশুল দিতে হল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জনসন চার্লসকে (৩) বোল্ড করে জশ হ্যাজেলউড তুলে নেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি পঞ্চাশ উইকেট। তিনে নামা ব্রেডন কিং লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন হ্যাজেলউডের বলেই। ফেরার আগে ৯ বলে করেন ১২।

উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া কাইল মেয়ার্সকে ফিফটি করতে দেননি কামিন্স। ব্যক্তিগত ৩৯ রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে। রান পাননি অধিনায়ক নিকোলাস পুরান (২)। রোভম্যান পাওয়েলকে নিজের বলেই ফিরতি ক্যাচ নেন হ্যাজেলউড; দখলে নেন নিজের তৃতীয় উইকেট।

মাঝে রেমন রেইফার ১৯ ও জেসন হোল্ডারের ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান। শেষদিকে ওডেন স্মিথ ১৭ বলে করেন ২৭। ৯ উইকেট খুইয়ে স্কোরবোর্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৪৫।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট জশ হ্যাজেলউডের, ৩৫ রান খরচায়। প্যাট কামিন্স আর মিচেল স্টার্ক ঝুলিতে নেন দুটি করে উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ডেভিড ওয়ার্নার দারুণ শুরু করলেও ইনিংস টানতে পারেননি বেশি পথ। শেলডন কটরেলের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেওয়ার আগে ৬ বলে করেন ১৪ রান। ওভারের শেষ বলে মিচেল মার্শকেও (৩) বিদায় করেন কটরেল। এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে কটরেলের বাজিমাত।

এরপর ক্যামেরন গ্রিন আউট হন ব্যক্তিগত ১৪ রানে। পরপর ডাক হয়ে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও টিম ডেভিড। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ এদিন চার নম্বরে নেমে দেখালেন ক্যারিশমা। ম্যাথু ওয়েডের সঙ্গে জুটি গড়ে এগিয়ে নিয়ে যান দলকে। ফিঞ্চ দেখেশুনে তুলে নেন ফিফটি।

৫৮ রানের ইনিংস খেলে ফিঞ্চ ফিরতেই ম্যাচের চিত্র পালটাতে থাকে। প্যাট কামিন্স বোল্ড হন ৭ বলে ৪ করে। ১২ বলে ১৫ রানের সমীকরণ হয়ে যায় ৬ বলে ১১। কটরেলের করা শেষ ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়ের পথটা মসৃণ করেন ম্যাথু ওয়েড।

পরের বলে ওয়েডের ক্যাচ মিস করেন রেইফার। এই বলে আসে ২ রান। নতুন জীবন পাওয়া ওয়েড পরের বলে দৌড়ে নেন আরও এক রান। কটরেলের চতুর্থ বলে ক্যাচ তুলেন স্টার্ক; এবার তালুবন্দি করতে ব্যর্থ কাইল মেয়ার্স। এই বলেও স্টার্ক-ওয়েড তুলে নেন দুই রান।

শেষ দুই বলে জয়ের জন্য অজিদের দরকার দুই রান। এক বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেন স্টার্ক-ওয়েড। ৩ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় অস্ট্রেলিয়ার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৪৫/৯ (২০ ওভার) মেয়ার্স ৩৯, চার্লস ৩, কিং ১২, রেইফার ১৯, পুরান ২, পাওয়েল ৭, হোল্ডার ১৩, স্মিথ ২৭, জোসেফ ৭, ক্যারিয়াহ ১*; স্টার্ক ৪-০-৪০-২, হ্যাজেলউড ৪-০-৩৫-৩, কামিন্স ৪-০-২২-২, গ্রিন ২-০-১৬-১

অস্ট্রেলিয়া: ১৪৬/৭ (১৯.৫ ওভার) ওয়ার্নার ১৪, গ্রিন ১৪, মার্শ ৩, ফিঞ্চ ৫৮, ম্যাক্সওয়েল ০, ডেভিড ০, ওয়েড ৩৯*, কামিন্স ৪, স্টার্ক ৬*; কটরেল ৩.৫-০৪৯-২, জোসেফ ৪-০-১৭-২, হোল্ডার ৪-০-৩০-১, ক্যারিয়াহ ৪-০-১৫-১, স্মিথ ৩-০-১৯-১

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ফল নিয়ে ভাবছেন না সোহান, লক্ষ্য একটাই দল হয়ে খেলার

Read Next

ইংল্যান্ড সিরিজে ‘এলোমেলো’ হয়ে খেলবে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড

Total
5
Share