বিসমাহ কন্যা ফাতিমার জন্য দুই পুরুষের ত্যাগ

বিসমাহ কন্যা ফাতিমার জন্য দুই পুরুষের ত্যাগ
Vinkmag ad

পাকিস্তানের তারকা নারী ক্রিকেটার বিসমাহ মারুফ যতটা তার খেলোয়াড়ি পরিসংখ্যানে আলোচিত, ততটাই মেয়ে ফাতিমার জন্য। সদ্য এক বছর পেরোনো মেয়েকে নিয়ে দেশ-বিদেশে খেলে বেড়ান। সঙ্গে তার মা, যিনি বিসমাহ মাঠে থাকাকালীন দেখে রাখেন নাতনিকে।

এই গল্পে হয়তো বিসমাহ ও তার মায়ের ত্যাগ স্বীকারের গল্প হৃদয় স্পর্শ করবে যে কারও। তবে বর্তমানে নারী এশিয়া কাপ খেলতে বাংলাদেশে আসা এই তারকার সাথে আলাপে গল্পে নিরব ত্যাগ স্বীকার করা দুই পুরুষকেও খুঁজে পাওয়া গেলো।

মেয়ের জন্মের কয়েক মাসের মাথায় ফিট হয়ে মাঠে ফেরেন বিসমাহ। বিদেশের মাটিতে খেলতে গিয়ে সঙ্গী ছোট্ট শিশুও। কিন্তু মাঠের সময়টা তাকে দেখভাল করবে কে?

অগত্যা ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নানীও দেশ থেকে দেশে, শহর থেকে শহরে ঘুরছেন নিজের পরিবার ফেলে। নাতনির ভালোর কথা চিন্তা করে নানা তখন একাই পরিবার সামলে নিচ্ছেন।

অন্যদিকে সন্তানকে খুব বেশি কাছে পাচ্ছেন না বিসমাহর স্বামী আবরার আহমেদও। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তিনি। সন্তানের হাসিখুশি আর ভালো থাকার ভাবনায় তিনিও ত্যাগ স্বীকারে দ্বিধা করছেন না একটুও।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ (১ অক্টোবর) অনুশীলন শেষে ‘ক্রিকেট৯৭‘ এর সাথে আলাপে বিসমাহ মারুফ তুলে ধরলেন সে গল্প।

‘অবশ্যই, তার (স্বামী) জন্য এটা অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার। একদিকে এইটুকু বাচ্চাকে ছাড়া থাকা, অন্যদিকে স্ত্রীকেও খুব বেশি সময় কাছে না পাওয়া। কিন্তু সে ইতোমধ্যে এসবে মানিয়ে নিয়েছে। এখন যেটা হয়, সুযোগ পেলেই আমরা মা-মেয়ে তাকে প্রচুর সময় দিই।’

‘খেলা না থাকা সময়টায় তার সাথে ভালো কিছু মুহূর্ত কাটানোর চেষ্টা করি। পরিবারের সবাই মিলে যেটুকু সময়ই পাই তা উপভোগ করি। কিন্তু যেটা বললেন এটা তার জন্য সত্যি অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার। স্ত্রী-সন্তানকে কাছে না পাওয়াটা সুখের কিছু তো নয়।’

এদিকে নিজের বাবার কথা উল্লেখ করে পাকিস্তান দলপতি যোগ করেন, ‘এই পুরো ব্যাপারটা এতো সহজ হত না যদি আমার মায়ের এই সমর্থন না পেতাম। এ ক্ষেত্রে আমার স্বামীর মতো আমার বাবাকেও ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে। কারণ আমার মা তার পরিবার ছেড়ে বেশিরভাগ সময়ই আমার মেয়ের সাথে থাকছে, দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে। তো আমার বাবার যে ত্যাগ এ ক্ষেত্রে সেটাও কম না। মাকে ছাড়া সে নিজে পরিবারকে সামলে রাখছে।’

মাঠের ক্রিকেট থেকে ছুটিতে যাওয়া, সন্তান জন্মের পর ফেরা, ফিটনেস ধরে রেখে পারফর্ম করা, বাচ্চাকে সামলানো। পুরো যাত্রাটা চ্যালেঞ্জিংই ছিল।

চ্যালেঞ্জ জয়ের কথা জানালেন নিজের মুখে, ‘যাত্রাটা অত সহজ ছিল না কখনোই। মা হয়ে বাচ্চাকে সাথে করে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ানো, পুরো ব্যাপারটা এক কথায় দারুণ কঠিন। তবে আমি হয়তো ভাগ্যবান, যে পথে আমার মায়ের অবদান বলে শেষ করা যাবে না।’

‘তার সমর্থন আমাকে সব সামলে চ্যালেঞ্জ পাড়ি দেওয়ার শক্তি জোগায়। তিনি আমার বাচ্চাকে নিয়ে আমার সাথেই বিভিন্ন জায়গায় ছুটে চলেন। শুরুর দিকে সব সমন্বয় করা কঠিন হলেও এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।’

৩১ বছর বয়সী এই পাকিস্তানি নারী ক্রিকেটারের ঘটনা বেশ আলোচিত। বিশেষ করে তাকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যে সুযোগ সুবিধা দিয়েছে তা উদাহরণ হতে পারে অন্যদের জন্য। প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে পেয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি। বিদেশ ভ্রমণে কোনো বাধার সম্মুখীন হলেও পাশে দাঁড়িয়েছে পিসিবি।

আইসিসি, এসিসিও বিসমাহ ও তার মেয়ের সাবলীল পথ চলায় সমর্থন দিয়েছে। তবে কমনওয়েলথ গেমসে খানিক ঝামেলায় পড়তে হয়। যা পরে পিসিবির হস্তক্ষেপে ঠিকও হয়। বিসমাহ বলছেন সংস্থাগুলো সহনশীল হলে নারী ক্রীড়াবিদরাও মাতৃত্বের স্বাদ উপভোগ করবেন নির্বিঘ্নে।

পাকিস্তান দলপতি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পিসিবি আমার ইস্যুতে যে উদাহরণ দাঁড় করিয়েছে, যে একাত্মতা আর সমর্থন দিয়েছে তা দুর্দান্ত। আসলে সেভাবে কোনো বার্তা কাউকে দেওয়ার নাই, একটা জিনিস বলতে চাই ব্যাপারটাকে অন্য অনেক স্বাভাবিক বিষয়ের মতোই যেন ভাবা হয়। এ ক্ষেত্রে আইসিসি, এসিসির মতো সংস্থাগুলো হতে পারে সহায়ক, রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।’

‘মায়েরা বাচ্চাদের, বিশেষ করে দুধের বাচ্চাদের নিয়েই টুর্নামেন্ট খেলবে এমন কিছু হবে উন্মুক্ত, যেটা হচ্ছেও। কিছু জায়গায় ব্যত্যয় ঘটে, আশা করি এগুলোও দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। এর ফলে নারী ক্রিকেটাররা অন্তত মা হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কিছু ভাববে না। মা হওয়াটা নিশ্চয়ই একজন নারীর জীবনে অন্যতম সেরা মুহূর্ত।’

সিলেট থেকে নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

জেমিমাহ রদ্রিগেজের ব্যাটে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপ শুরু ভারতের

Read Next

কিংবদন্তি ক্যালিসের চোখে হার্দিক-স্টোকস

Total
9
Share