রাজ্জাকদের নেই সময়, সোহেলরা হন একের ভেতর অনেক

featured photo1 44
Vinkmag ad

চলতি বছর মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয় ইউএই ফ্রেন্ডশিপ কাপ। চার দলের এই টুর্নামেন্টে ওয়ার্ল্ড লেজেন্ড একাদশের হয়ে খেলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ থেকে খেলেছেন সৈয়দ রাসেল, ডলার মাহমুদরাও। এই টুর্নামেন্টের কথা খুব বেশি মানুষের জানা নেই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

এদিকে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে শুরু হয়েছে রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ। বাংলাদেশ লেজেন্ডসের নামে অংশ নেওয়া দলে আছেন রাজ্জাকও। টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ৩-৪ দিন আগেই ভারতে যায় দলটি। বাংলাদেশ লেজেন্ডসের ব্যাপারে অবশ্য ভালোই খোঁজ খবর রাখছেন ভক্ত সমর্থকরা।

ব্রায়ান লারা, শচীন টেন্ডুলকার, রস টেইলর, তিলকারত্নে দিলশান, যুবরাজ সিং, জন্টি রোডস, মাখায়া এনটিনি, শেন ওয়াটসনদের এই টুর্নামেন্টে চোখ থাকাটা স্বাভাবিকই।

উপরের দুই টুর্নামেন্টে খেলার মাধ্যমে রাজ্জাক অন্তত একটা বার্তা দিয়েছেন জাতীয় দলের নির্বাচক হলেও চাইলে সময় বের করতে পারেন। বাংলাদেশ লেজেন্ডসের অংশ হওয়ায় ১৩ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার থাকাটা বাধ্যতামূলকও নয়, নেতিবাচক কিছুও হয়তো নয়। তবে বার্তাটা স্বচ্ছ, চাইলে সময় বের করা যায়।

এপ্রিলের শেষ দিকে দেশের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের স্পিন বোলিং পরামর্শক হচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক। জাতীয় দলের নির্বাচক হলেও কিছু বাড়তি সময় বের করে পাইপলাইনের স্পিনারদের নিয়ে কাজ করবেন সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনার।

তবে সময় গড়িয়েছে, মে মাসে শুরু হয়ে এইচপির তিন মাসের ক্যাম্পও শেষ হয়েছে কিছু দিন আগে। তবে রাজ্জাকের আর সময় মেলেনি এইচপিতে কাজ করার। ফলে টানা দুই মৌসুম স্পিন কোচ ছাড়া পার করেছে এইচপি। সুযোগ পাওয়া স্পিনাররা মাঝে রঙ্গনা হেরাথের তিন দিনের বিশেষ ক্লাসে অংশ নেন।

এর বাইরে বাকি সময়টা বিসিবি কোচ সোহেল ইসলামের কাছেই নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার কাজটা সেরেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দল কিংবা তার আশেপাশে থাকা স্পিনারদের জন্য ভরসার নাম এই একজনই। তৃণমূল থেকে জাতীয় দল, সব জায়গাতেই আস্থার নাম এই গুণী কোচ। এ যেন একের ভেতর অনেক।

এইচপির এক ক্রিকেটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘ক্রিকেট৯৭‘ কে বলেন, ‘স্পিনারদের জন্য আলাদা কোচ ছিল না। প্রধান কোচ চম্পাকা রামানায়েকে (যিনি মূলত পেস বোলিং কোচ) দেখভাল করতেন সবাইকে। তবে স্পিনাররা নিজ তাড়নায় সোহেল (ইসলাম) স্যারের
সাথে কাজ করেছে। উনি এইচপির জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কেউ নন, কিন্তু স্পিনাররা বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তার সাথে। উনার সাথেই আলাদা আলাদা কাজ করেছে।’

ক্রিকেট৯৭‘ এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় এক এইচপি কর্তার সাথে। তিনিও খুব বেশি এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে জানিয়েছেন আলাপ আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত রাজ্জাকের সময়ের অভাবেই কাজ করানো যায়নি। যদিও তার কথায় আভাস ছিল বোর্ডের সাথে এই ইস্যুতে এইচপি ইউনিট ফলপ্রসূ কোনো আলোচনায় পৌঁছাতে পারেনি।

তার ভাষ্য, ‘হ্যাঁ রাজের (রাজ্জাক) সাথে আমাদের আলাপ আলোচনা হচ্ছিল এইচপিতে কিছু সময় যেন দেয়। তবে তার তো অনেক ব্যস্ততা, সেভাবে ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি দেখে কাজ করতে পারেনি। আর বোর্ডও এটা নিয়ে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি..।’

রাজ্জাকের না হয় সময় পাওয়া যায়নি, তবে এইচপি চাইলেইতো একজন স্থায়ী স্পিন কোচ নিয়োগ দিতে পারে। দেশী কিংবা বিদেশী যেই-ই হোক না কেন পাইপলাইনের স্পিনারদের স্বার্থে গত দুই বছর কেন স্পিন কোচ নেই?

এমন প্রশ্নের উত্তরে ঐ কর্তা আরেক দফা আশ্বাস দিয়েছেন, ‘হ্যাঁ আমরা চেষ্টা করছি একজন স্থায়ী স্পিন কোচ নিয়োগ দেওয়ার। এর আগে কয়েকজনের সাথে আলাপ কিছুদূর এগিয়ে ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু হয়নি। আমরা এটা নিয়ে আলাপ আলোচনা করছি, পরবর্তী ক্যাম্পের আগে যেন স্থায়ী কাউকে পাওয়া যায়।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ক্রিকেটাররা বঞ্চিত হলেও বর্ষসেরা কোচদের পুরষ্কৃত করলো বিসিবি

Read Next

ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন নাসিম শাহ

Total
1
Share