প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার দিনে বাংলাদেশের একটু আধটু উন্নতি

featured photo updated v 7
Vinkmag ad

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানের কষ্টার্জিত জয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশ। নির্বিষ ব্যাটিং-বোলিং মন ভরাতে পারেনি ভক্ত সমর্থকদের। সাথে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক থেকে কতটা আত্মবিশ্বাস নিতে পেরেছে এমন প্রশ্নতো উঠেছেই। আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় ম্যাচেও টাইগাররা দাপুটে জয় পায়নি। স্বাগতিকদের ৩২ রানে হারিয়ে হোয়াইট ওয়াশ নিশ্চিত করা ম্যাচে এ দিন অবশ্য দুই বিভাগেই উন্নতি করেছে টাইগাররা।

টস হেরে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে মিরাজের ৪৬ রানের সাথে ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংসের সুবাদে ৫ উইকেটে ১৬৯ রান বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে। মোসাদ্দেক হোসেন ২৭ ও লিটন দাস করেছেন ২৫ রান।

জবাবে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে ৯০ রানের জুটি গড়েও দলকে জয়ের স্বাদ দিতে পারেননি সংযুক্ত আরব আমিরাত অধিনায়ক সিপি রিজওয়ান ও বসিল হামিদ। বসিল ৪২ রান করে আউট হলেও রিজওয়ান তুলে নেন ফিফটি (৫১*)। দল থেমেছে ৫ উইকেটে ১৩৭ রান তুলে।

বাংলাদেশ একাদশে এ দিন পরিবর্তন আসে দুইটি। পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের জায়গায় সুযোগ পান তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন।

আগের ম্যাচে ব্যর্থ হলেও উদ্বোধনী জুটিতে বহাল ছিলেন সাব্বির রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনে একসাথে ২৭ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি। আরিয়ান লাকরার বাঁহাতি স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে অদ্ভুতভাবে এলবিডব্লিউ হন সাব্বির (৯ বলে ১২)। আগের ম্যাচে ফিরেছিলেন খালি হাতে।

এরপর লিটন দাসকে নিয়ে সাবলীল খেলেছেন মিরাজ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৪৮ রান।

মিরাজকে সঙ্গ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের সহজাত রূপে ধরা দিচ্ছিলেন লিটনও। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হয়েছেন (২০ বলে ২৫)।

লিটনের বিদায়ের পরও দলকে পথে রাখার আভাস দেন আফিফ। আগের ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো এই বাঁহাতি ১০ম ওভারে হাঁকান দুই চার, যেখানে তৃতীয় বলে কাভারের উপর দিয়ে মারা চারে ছিল নান্দনিকতা।

তবে পরের ওভারেই ফুলটস বলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফিরেছেন, নামের পাশে ১০ বলে ১৮ রান।

এক প্রান্ত আগলে রাখা মিরাজকে ভালো সঙ্গ দিচ্ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। ইনিংসের ১৫তম ওভারে অবশ্য ফিরেছেন মিরাজ নিজেই। ৩৭ বলে ৫ চারে ৪৬ রানেই তাকে থামতে হয়। এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি মোসাদ্দেকও (২২ বলে ২৭)।

শেষ দিকে ইয়াসির আলির ১৩ বলে ২০ ও অধিনায়ক নুরুল হাসান সহানের ১০ বলে ১৯ রানে ১৬৯ রানে থেমেছে টাইগাররা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট আয়ান আফজাল খানের।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে এ দিন দাঁড়াতেই পারেনি সংযুক্ত আরব আমিরাত টপ অর্ডার। নাসুম আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেনের স্পিনের সাথে তাসকিন আহমেদের পেস আগুন। ২৯ রানেই নেই ৪ উইকেট।

সেখান থেকে অধিনায়ক সিপি রিজওয়ান ও বসিল হামিদ গড়েছেন দুর্দান্ত এক জুটি। তবে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে দল জেতাতে এমন কিছুও কাজে আসেনি।

শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৫৫ রান। তাসকিনের করা ১৮তম ওভারে আসেনি ৩ রানের বেশি। ১৯তম ওভারে এবাদত হোসেন তুলে নেন বসিলকে। তাতে ভাঙে দুজনের ৯০ রানের জুটি। তার আগে নামের পাশে ৪০ বলে ৪ চারে ৪২ রান, ওভারে রান আসে মাত্র ৭। যদিও শেষ বলে চার মেরে ৩৫ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন রিজওয়ান।

শেষ ওভারে যখন প্রয়োজনীয় সমীকরণ ৪৫, ততক্ষণেই জয় উদযাপনের উপলক্ষ্য তৈরি হয়ে যায় টাইগারদের। তাসকিনের করা ওভার থেকে আসে মাত্র ১২ রান।

রিজওয়ান শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে সমান দুইটি করে চার, ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার মোসাদ্দেক হোসেন।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আজও ব্যাটিংয়ে দাপট দেখাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

Read Next

সাকিবদের হারিয়ে ফাইনালে বার্বাডোস

Total
0
Share