আরব-আমিরাতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কষ্টার্জিত জয়

featured photo updated 2
Vinkmag ad

ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে আফিফ বাঁচিয়েছেন বাংলাদেশের মান। ৫৫ বলে আফিফের ব্যাটে হার না মানা ৭৭ রানের ইনিংস। পাঁচ উইকেট খুইয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৮। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ রানের কষ্টার্জিত জয়।

টস হেরে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৫৮ রানের সংগ্রহ বাংলাদেশের। ৮১ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ার পথে আফিফের ব্যাটে ৭৭ ও সোহানের ৩৫ রান। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সংযুক্ত আরব-আমিরাত নির্ধারিত ওভারের আগেই ১৫১ রানে গুটিয়ে যায়। আর তাতেই ৭ রানের জয় পেল নুরুল হাসান সোহানের দল। এগিয়ে গেল সিরিজে।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই নেই ওপেনার সাব্বির রহমানের উইকেট। ডাক হয়ে ফিরলেন প্যাভিলিয়নে। তিনে নামা লিটন দাস দারুণ শুরু করেও উইকেটে থাকতে পারেননি। সদ্য অভিষেক হওয়া আয়ান খানের প্রথম ৪ বলে হাঁকান দুই বাউন্ডারি, পরের বলে সহজ ক্যাচ তুলে লিটন (১৩) নেন বিদায়।

আরেক ওপেনার মিরাজ করেন ১৪ বলে ১২। জাওয়ার ফরিদের বলে তুলেন ফিরতি ক্যাচ। বাংলাদেশ প্রথম পাওয়ার-প্লে শেষ করে ৩ উইকেট খুইয়ে ৪২ রানে। ফেরার ম্যাচে ব্যর্থ ইয়াসির আলি (৪); কার্তিক মেইয়াপ্পানের নিচু হওয়া বলে হারিয়েছেন স্টাম্প।

অন্য প্রান্ত থেকে উইকেট হারাতে দেখা আফিফ হোসেন নিজের স্বভাবসুলভ ঢংয়ে রান তুলেছেন। লেগি মেইয়াপ্পান মোসাদ্দেককেও ফেলেছেন ফাঁদে। ছয় মারতে এগিয়ে এসে মোসাদ্দেক হন স্টাম্পড। ফেরার আগে ৮ বলে করেন ৩। ভাঙে আফিফের সঙ্গে গড়া ৩০ রানের জুটি।

তবে দলের বিপর্যয় এদিন ভালোই সামাল দেন আফিফ হোসেন। মোসাদ্দেক ফিরে গেলে ক্রিজে আফিফের সঙ্গী হন নুরুল হাসান সোহান। দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার পথে ৩৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন আফিফ। এরপর হয়ে যান আরও মারমুখী।

ব্যক্তিগত ২ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরা হয়ে যেত আফিফের; কিন্তু ক্যাচ মিসের মাশুল দিতে হল স্বাগতিকদের। উইকেটের চারপাশে শটের পসরা সাজিয়ে শেষ অব্দি ৭৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৫৫ বল স্থায়ী ইনিংসে ৭ চার ও ৩ ছক্কা হাঁকান তিনি। অধিনায়ক সোহান ২৫ বলে খেলেন ৩৫ রানের ইনিংস। আর তাতেই দেড়শ পেরিয়েছে বাংলাদেশ।

১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ইউএই। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত রান-আউটে কাটা পড়ে বিদায় নেন মোহাম্মদ ওয়াসিম (১৫)। আরেক ওপেনার চিরাগ সুরি ছিলেন তার চেনা ছন্দে। তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মিরাজ। বড় শট খেলতে এগিয়ে এসে হয়েছেন স্টাম্পড। ফেরার আগে সুরি ২৪ বলে করে ৩৯।

মিরাজ নিজের পরের ওভারে এসে তুলে নেন আরেক সেট আরিয়ান লাকরার উইকেট। ব্যক্তিগত ১৯ রানে শরিফুলের হাতে তুলেন সহজ ক্যাচ। অধিনায়ক রিজওয়ানকে (৫) দ্রুতই ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। ২ রানের বেশি পাননি বাসিল হামিদ। শরিফুল আহমেদ দেখা পান প্রথম উইকেট।

মিরাজ ফের অ্যাকশনে এসে নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে সাজঘরে পাঠান ১৬ রানে থাকা বৃত্ত অরভিন্দকে। পরের ওভারে জাওয়ার ফরিদ (২) পড়েন রান আউটে কাঁটা। ব্যক্তিগত ১২ রানে থাকা মেইয়াপ্পানকে বোল্ড করে ফিজের প্রথম শিকার।

শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য আরব-আমিরাতের দরকার ছিল ২১ রান। এরপর নেমে আসে ৬ বলে ১১ রানে। প্রথম দুই বলে আসে ৩ রান; শরিফুল ইসলাম পরপর দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। আয়ান খান ২৫ ও জুনায়েদ সিদ্দিক আউট হন ১১ রানে। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ১৫৮/৫ (২০ ওভার) সাব্বির ০, মিরাজ ১২, লিটন ১৩, আফিফ ৭৭*, ইয়াসির ৪, মোসাদ্দেক ৩, সোহান ৩৫*; সাবির ১/১৬, আয়ান ১/১৬, জাওয়ার ১/৩৮, মেইয়াপ্পান ২/৩৩

আরব-আমিরাত: ১৫১/১০ (১৯.৪ ওভার) ওয়াসিম ১৫, সুরি ৩৯, লাকরা ১৯, রিজওয়ান ৫, বাসিল ২, বৃত্ত ১৬, আয়ান ২৫, জাওয়ার ২, মেইয়াপ্পান ১২, জুনায়েদ ১১; মিরাজ ৩/১৭, শরিফুল ৩/২১, মুস্তাফিজ ২/৩১

ফলাফল: বাংলাদেশ ৭ রানে জয়ী

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

বাজে শুরুর পর আফিফ-সোহানের ব্যাটে লড়াকু পুঁজি বাংলাদেশের

Read Next

অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করলো বাংলাদেশ

Total
1
Share