মিরপুরে ম্যাকেঞ্জির স্পিন প্রতিভা প্রদর্শন ও গামিনিদের হাতে কলম শিক্ষা

মিরপুরে ম্যাকেঞ্জির স্পিন প্রতিভা প্রদর্শন ও গামিনিদের হাতে কলম শিক্ষা
Vinkmag ad

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছিল দুই দিনের টার্ফ অ্যান্ড আউটফিল্ড ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্কশপ। আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়েছে এই কর্মশালা, পরিচালনা করেছেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট ইয়ান জোসেফ ম্যাকেঞ্জি।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন বিজ্ঞ এই কিউরেটর। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় ফিরে সিলেট স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করেন তিনি। ভেন্যু পরিদর্শন শেষে গতকাল মিরপুরে ২২ জন কিউরেটর নিয়ে শুরু হয় কর্মশালা।

যেখানে মিরপুরের কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা সহ চট্টগ্রাম ও সিলেটের ভারতীয় কিউরেটর অংশ নেন। তাদের সাথে স্থানীয় প্রায় ২০ জন কিউরেটরও ম্যাকেঞ্জির ক্লাসের শিক্ষার্থী হয়েছেন।

কর্মশালার প্রথম দিন বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে কিউরেটরদের উইকেট বানানোর কাজ দেন ম্যাকেঞ্জি। পরে তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা শুনেছেন এই কিউই।

আজ কর্মশালায় তাত্বিক জ্ঞান আদান প্রদান শেষে দুপুরে মিরপুর একাডেমি মাঠ পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গী হয়েছে গামিনি সহ বাকি কিউরেটররা। আর সেখানেই হাতে কলমে বেশ কিছু জিনিস দেখিয়ে দেন ম্যাকেঞ্জি, উইকেটে পানি দেওয়া থেকে ঘাসের কীটনাশক ছিটানো সবই ছিল এই প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে।

মাঝে ম্যাকেঞ্জি বনে যান ক্রিকেটারও! একাডেমি মাঠে মধ্য দুপুরে কয়েকজন নেট বোলার নিয়ে অনুশীলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার আরিফুল ইসলাম। তা দেখে হয়তো লোভ সামলাতে পারেননি ম্যাকেঞ্জি, বল দিয়ে উইকেট পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে আরিফুলকে বেশ কয়েকটি স্পিন বলও করেন।

বিকেলে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন ইয়ান জোসেফ ম্যাকেঞ্জি ও বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম।

নিজের দর্শন সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটের একটা দর্শনের দিকে তাকাচ্ছি…সেটা হল খেলাটায় যেন ব্যাট ও বলে সঠিক ভারসাম্য থাকে। আমরা এমন পিচ তৈরি করবো না যে বেশি স্পিন করবে, সিম করবে। আমরা ক্রিকেটারদের উন্নতি, খেলার সঠিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও আনন্দের জন্য সঠিক পিচ তৈরি করার চেষ্টা করবো।’

‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই এমন ভারসাম্যপূর্ণ কন্ডিশন যেখানে খেলে ক্রিকেটাররা বিশ্বের যে কোন মাঠে খেলার উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে।’

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেসারদের উন্নতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে পেস বান্ধব উইকেটে খেলার অবদান তুলে ধরেন এই কিউই।

তার মতে, ‘আমি তোমাদের (বাংলাদেশের) পেসারদের দেখেছি। নিউজিল্যান্ডে যে টেস্টটা জিতেছিলে সেখানে ওরা ওই রকম পিচে খুবই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে। পেস ও স্কিল-ও ছিল। এটা ক্রিকেট পিচ ও মাঠ উন্নতির একটা অংশ। এতে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের উন্নতিটা বজায় থাকে।’

এদিকে কর্মশালার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়ে মাহবুব আনাম বলেন, ‘এফটিপিটা এমন হচ্ছে যে হোম ও অ্যাওয়ে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য আমরা চাইছি যেন ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমন্বয়টা বাড়াতে পারি। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে কন্ডিশন ও মাঠ অনুযায়ী উইকেট তৈরি হয়। নিউজিল্যান্ড এমন একটা জায়গা যেখানে স্পোর্টিং উইকেট তৈরি হয়। ওরা এই দিকে অনেক উন্নতিও করেছে। আমরা চাইছি ওদের সঙ্গে কাজ করে হোম গ্রাউন্ড কিউরেটরশিপ জ্ঞানটা যেন বাড়াতে পারি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

কাল এক রাতে বাংলাদেশের ‘৩’ ম্যাচ

Read Next

দুবাইয়ে টিকিট ছাড়াই দেখা যাবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ

Total
10
Share