কঠিন সময়ে কোহলি চিনেছেন ‘কে আপন কে পর’

কঠিন সময়ে কোহলি চিনেছেন 'কে আপন কে পর'
Vinkmag ad

বর্তমান সময়ের তো বটেই, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটারদের তালিকায় নিশ্চিতভাবেই থাকবে ভিরাট কোহলির নাম। মাঠে আগ্রাসী মনোভাবে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং করা কোহলির মানসিকতা তাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গেছে বলে মনে করেন অনেকেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে, কোহলির কথা শুনে আপনার তেমনটাই মনে হবে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরে ৫ উইকেটে হারা ম্যাচে ভারতের পক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন কোহলি। ৪৪ বল স্থায়ী ইনিংসে ৪ টি চার ও ১ টি ছয়।

ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন কোহলি। প্রায় ১৬ মিনিট লম্বা সংবাদ সম্মেলনের দ্বিতীয় প্রশ্নই আসে সমালোচকদের জবাব দেওয়া নিয়ে।

উত্তরে কোহলি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে গেলে আমি কখনোই এসব ব্যাপারে (সমালোচনা) মনযোগ দেইনি। ১৪ বছর ধরে খেলছি, এটা এমন না যে দুর্ঘটনাবশত হয়েছে। আমার কাজ হল আমার খেলা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করা। যেটা আমি সবসময় করি, যেটা আমি সবসময় করতে পছন্দ করি। আমি পছন্দ করি আমার খেলা উন্নত করে দলকে সাহায্য করতে। এটাই আমি করতে থাকব।’

‘দেখেন সবাই সবার কাজ করছে। আমাদের কাজ মাঠে খেলা, পরিশ্রম করা, ১২০ ভাগ দেওয়া। আমি আগেও বলেছি আমি যতক্ষণ এটা করছি আর দল আমার ওপর ভরসা করছে- ড্রেসিংরুমের কথাই আমার কাছে ম্যাটার করে। মানুষের মন্তব্য থাকবে, সেটাতে কোন সমস্যা নেই। সেটা আমার জীবনে কোন বদল আনে না। আমি কিছু সময় নিয়েছিলাম, যেটা আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে যে এটাই জীবনের শেষ নয়। বুঝিয়েছে আমাকে খেলা উপভোগ করতে হবে, আমার নিজের ওপর চাপ বাড়ানো উচিত হবে না। আমি সেই এক্সাইটমেন্ট ফিরে পেয়েছি, এবং যখন এখানে এসেছি সবাই আমাকে স্বাগত জানিয়েছে। আমি দারুণ উপভোগ করছি, এবং ব্যাটিং নিয়ে ভালো অনুভব করছি।’

২০১৯ সালের নভেম্বরে শেষবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন ভিরাট কোহলি। এরপর ব্যাট হাতে ঠিক কোহলি সুলভ পারফরম্যান্স আসেনি। ছেড়েছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব, হারিয়েছেন বাকি দুই ফরম্যাটের আর্মব্যান্ডও।

এই সময়ে বিভিন্ন মানুষের সমালোচনা, উপদেশ পেয়েছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কেবল মাহেন্দ্র সিং ধোনি। অনেকটা আক্ষেপের সুরেই কোহলি জানান, কে আপন কে পর জেনেছেন এই সময়ে।

সমালোচনায় মন দিই না বলা কোহলি যে কাছের ভাবা মানুষদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন তা স্পষ্ট।

কোহলি বলেন, ‘আমি আপনাকে একটা কথা বলতে পারি, যখন আমি টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলাম, আমার কাছে কেবল একজন লোকের বার্তা এসেছিল যার সাথে আমি আগে খেলেছিলাম- সে মাহেন্দ্র সিং ধোনি। অনেকের কাছেই আমার নাম্বার আছে, টিভিতে অনেকের অনেক কথা বলার থাকে, তবে আমার নাম্বার থাকার পরেও তাদের কারও বার্তা আসেনি।’

‘কারও সাথে সম্মান বা কানেকশন যে থাকে তা যদি সত্যিকারের হয় তাহলে সেটা এভাবে দেখা যায়। দুই পক্ষেই সিকিউরিটি থাকে। না আমার তার কাছে কিছু দরকার, না তার আমার কাছে কিছু। না আমি তার জন্য কখনো ভয়ে থাকতাম, না সে আমার জন্য।’

‘আমি এটাই বলব আমি যদি কারও সম্পর্কে কিছু বলতে চাই তাহলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলব। আপনি যদি কাউকে সাহায্য করতে চান, টিভির সামনে গোটা দুনিয়ার কাছে যদি আপনি কিছু বলেন সেটার ভ্যালু আমার কাছে নেই। আমার জন্যই যদি কিছু বলার থাকে তাহলে আপনি সরাসরিই বলতে পারেন, যে আমি সত্যিই চাই তুমি ভালো করো। আমি তো আমার জীবন খুব সততার সঙ্গে যাপন করি, এসব আমার চোখে পড়ে। আমি এটা বলবো না যে আমার কোন প্রভাব পড়ে না, তবে সত্যটা সামনে আসে। আপনি এত বছর ধরে খেলছেন, যদি কিছু পাবার থাকে তাহলে সৃষ্টিকর্তায় দিবেন। উনি না দিলে আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেনো কিছুই হবে না।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ক্যাচ ছেড়ে বিপাকে আর্শদ্বীপ, পাশে পেলেন হাফিজ-পাঠানদের

Read Next

ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য খেলাতেও যুক্ত হচ্ছেন সাকিব

Total
23
Share