টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতেও অধিনায়কত্ব ফিরে পেলেন সাকিব

প্রথম বাঁহাতি বোলার হিসাবে সাকিবের '৪০০'
Vinkmag ad

টেস্টের মতো টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব পুনরুদ্ধার হলো সাকিব আল হাসানের। এশিয়া কাপ দিয়ে নতুন মেয়াদে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হলেন টাইগার অলরাউন্ডার, এই দায়িত্বে থাকবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

২০১৯ সালে সাকিব ফিক্সিং প্রস্তাব গোপন করার অপরাধে নিষিদ্ধ হলে টেস্টে মুমিনুল হক ও টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়। এর আগে দুই ফরম্যাটেই অধিনায়ক ছিলেন বাংলাদেশের পোস্টার বয়।

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাকিব ফিরলেও টেস্টে মুমিনুল ও টি-টোয়েন্টিতে রিয়াদকেই বহাল রাখে বোর্ড। তবে টেস্টে টানা দলীয় ব্যর্থতার সাথে নিজের ব্যাটিং যাচ্ছেতাই হচ্ছিল মুমিনুলের।

যে কারণে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে নিজেই নেতৃত্ব ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সাদা পোশাকে ফের দায়িত্ব বুঝে নেন সাকিব।

টি-টোয়েন্টিতে একই পরিস্থিতি রিয়াদেরও। দলের সাথে ব্যাট হাতে খুব বাজে পারফরম্যান্স এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের৷ যে কারণে জিম্বাবুয়ে সফরে তাকে বিশ্রাম দিয়ে অধিনায়ক করা হয় নুরুল হাসান সোহানকে।

চোটে পড়ে সিরিজের মাঝপথে দেশে ফেরেন সোহান। এশিয়া কাপ থেকেও ছিটকে গেছেন এই উইকেট রক্ষক ব্যাটার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

এশিয়া কাপ দিয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হল সাকিবকেই। আজ (১৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয় তার নাম। যদিও মাঝে বেটিং সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিতর্কিত চুক্তি করে দল থেকে বাদ পড়ার হুশিয়ারিও পান। শেষ মুহূর্তে চুক্তি বাতিল করে ফিরলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হয়ে।

গতরাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আজ বেলা তিনটার কিছু সময় পর বিসিবি সভাপতির বাসভবনে বৈঠক করেন সাকিব। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, হাবিবুল বাশার সুমন, টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস বলেন, ‘এশিয়া কাপ, ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপ পর্যন্ত সাকিবকে আমরা অধিনায়ক করেছি।’

‘আমাদের আগের বোর্ড সভায় এটা সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল, আজকে আবার আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকে আমাদের মাননীয় বোর্ড সভাপতি ছিলেন, নির্বাচকরা ছিলেন। আমরা এ কয়টা সিরিজের জন্য সাকিবকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ 

বাংলাদেশের হয়ে এখনো পর্যন্ত ৮ জন ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যাদের মাঝে পাঁচ জন পেয়েছিলেন স্থায়ী অধিনায়কত্ব। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন শাহরিয়ার নাফীস। ঐ একটি ম্যাচেই নেতৃত্ব দেন বাঁহাতি এই ব্যাটার, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতিয়েছেন দলকে।

এর বাইরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অধিনায়কত্ব করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৪৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জেতান ১৬ ম্যাচে। মাশরাফি বিন মর্তুজা ২৮ ম্যাচে জয় এনে দেন ১০ টিতে। মুশফিকুর রহিম ২৩ ম্যাচে ৮, সাকিব আল হাসান ২১ ম্যাচে ৭ ও মোহাম্মদ আশরাফুল ১১ ম্যাচে ২ জয়ের দেখা পান।

একটি করে ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দল হেরেছে দুজনের নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাচে। নুরুল হাসান সোহান দুই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে জিতিয়েছে একটিতে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

শুরু হয়েছে সাকিব-পাপন বৈঠক

Read Next

এশিয়া কাপের স্কোয়াডে সাব্বির, অধিনায়ক সাকিব

Total
4
Share