বোলারদের এলোমেলো দিনে যাত্রা শুভ হয়নি অধিনায়ক সোহানের

featured photo updated v 25
Vinkmag ad

টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থতার বৃত্ত ছাড়তে না পারা বাংলাদেশ হেঁটেছে ভিন্ন পথে। সাফল্যের আশায় সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিশ্রামের পাশপাশি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পরিবর্তে জিম্বাবুয়ে সফরে অধিনায়ক করা হয় নুরুল হাসান সোহানকে। উদ্দেশ্য একটাই, ধারা ভেঙে খানিক আশার আলো যেন ফোটে, নতুন ব্র্যান্ডের ক্রিকেটের সাথে পরিচয় ঘটে। কিন্তু এতোদিনের গর্বের জায়গা বোলিং বিভাগের এলোমেলো দিনে প্রত্যাশিত জয়টাও পায়নি, ১৭ রানের পরাজয়ে সিরিজ শুরু।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ সময় বিকাল পাঁচটায় শুরু হয় ম্যাচ। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশ বোলারদের কঠিন পরীক্ষা নিয়ে ৩ উইকেটে ২০৫ রানের সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। যে পথে তান্ডব চালিয়েছেন সিকান্দার রাজা (২৬ বলে ৬৫*)। ফিফটির হাঁকান ওয়েস্লে মাধেভেরেও (৪৬ বলে ৬৭*)। ৩৩ রান আসে শন উইলিয়ামসের ব্যাটে।

জবাবে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, এনামুল হক বিজয়রা আশা দেখিয়েও শেষের হাসি হাসতে পারেননি। বৃথা যায় অধিনায়ক সোহানের ক্যামিও এক ইনিংস। তার ব্যাটেই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ৪২* রান। দল থামে ৬ উইকেটে ১৮৮ রানে।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রেগিস চাকাভার (১১ বলে ৮) উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের তোলে ৪৩ রান। নিজের প্রথম ওভারেই চাকাভাকে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে (১৮ বলে ২১ রান) নিজের প্রথম বলেই বোল্ড করেন ৭ম ওভারে আক্রমণে আসা মোসাদ্দেক হোসেন। ৪৩ রানে ২ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে টেনে নেয় ওয়েস্লে মাধেভেরে ও শন উইলিয়ামস।

দুজনে মিলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৭ বলে যোগ করে ৫৬ রান। এ দফায়ও জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। তার অফ স্টাম্পের বাইরের স্লো ডেলিভারিকে অফ সাইডে খেলতে চেয়ে ইনসাইড এজে উইলিয়ামস (১৯ বলে ৩৩) হয়েছেন বোল্ড।

উইলিয়ামসের বিদায়ের পর রীতিমত ঝড় তোলেন মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজা। তাসকিনের করা ১৭তম ওভারের প্রথম বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে চার মেরে ফিফটি তুলে নেন মাধেভেরে। একই ওভারে দুজনের জুটিও ফিফটি পার করে।

মুস্তাফিজের করা ১৮তম ওভারে দুজনে মিলে হাঁকায় তিন চার, আসে ১৪ রান।

শরিফুলের করা ১৯তম ওভারে আরও বেশি আক্রমণাত্মক রাজা। প্রথম বলের চারের পর টানা দুই ছক্কা। প্রথম ছক্কায়তো বলই হারিয়ে ফেলেন। ওভারে রান আসে ১৯। ৪ ওভারে শরিফুলের খরচ ৪৫ রান।

মুস্তাফিজের করা শেষ ওভারে চোট পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হন মাধেভেরে (৪৬ বলে ৯ চারে ৬৭ রান)। রাজা-মাধেভেরের জুটি থামে ৯১ রানে। তবে ঝড় থামেনি রাজার ব্যাটে, ২৩ বলে ফিফটি তুলে এই ওভারে হাঁকান ২ চার ১ ছক্কা।

টাইগার বোলারদের উপর ঝড় বইয়ে রাজা অপরাজিত ছিলেন ২৬ বলে ৭ চার ৪ ছক্কায় ৬৫ রানে। ৩ উইকেটে ২০৫ রানের সংগ্রহ পাওয়ার পথে শেষ ১০ ওভারে ১৩১ ও শেষ ৫ ওভারে ৭৭ রান স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ডে। ৪ ওভারে ৫০ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে মুস্তাফিজ।

২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে যেমন শুরু প্রয়োজন তেমনটা পায়নি বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার (৮ বলে ৪ রান)।

সেখান থেকে এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে ৪৮ রানের জুটিতে অবশ্য পথ দেখান আরেক ওপেনার লিটন দাস। তার ব্যাটে চড়ে পাওয়ার প্লেতে ৬০ রান ওঠে স্কোরবোর্ডে। তবে মনযোগ ধরে রাখতে পারেননি বেশিক্ষণ।

শন উইলিয়ায়মসের করা ইনিংসের ৭ম ওভারের শেষ বল, র‍্যাম্প শটের চেষ্টা লিটনের। যা সহজ ক্যাচে পরিণত হয় শর্ট ফাইন লেগ ফিল্ডার রিচার্ড এনগারাভার জন্য। বিস্ময়করভাবে হাত ফসকে যায় এনগারাভার।

আউট হয়েছেন ধরে নিয়ে মাঝ ক্রিজে দাঁড়িয়ে পড়েন লিটন, ততক্ষণে বল বোলারের হাতে, ভাঙে স্টাম্প। জীবন পেয়েও তাই বাঁচতে পারলেন না টাইগার ওপেনার (১৯ বলে ৩২)। শুরুর জড়তা কাটিয়ে খোলস ভাঙতে চেয়ে ব্যর্থ বিজয়ও (২৭ বলে ২৬)। শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ১২০ রান।

যে সমীকরণ মেলানোর পথে দ্রুত ফেরেন আফিফ হোসেনও (৮ বলে ১০)। তবে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে চেষ্টা করেছেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ২৫ বলে ৩৭ রান করে শান্ত আউট হলেও সোহান লড়েছেন শেষ পর্যন্ত।

শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৩২। এনগারাভার করা ১৯তম ওভারে আসেনি ৪ রানের বেশি, সাথে সাজঘরে ফেরেন মোসাদ্দেক (১৩)। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ২৮ রানের বিপরীরে বাংলাদেশ নিতে পারে মাত্র ১০। ১৭ রানে হারা ম্যাচে সোহান অপরাজিত ছিলেন ২৬ বলে ১ চার ৪ ছক্কায় ৪২ রানে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ফেরার লড়াইয়ে ফাহিমের সান্নিধ্যে সৌম্য

Read Next

হারারেতে হার দিয়ে শুরুর পর উন্নতিতে চোখ সোহানের

Total
1
Share