বন্ধ তালা খুলতেই মিরপুরে মিরাজের মন ভরানো দৃশ্য

বন্ধ তালা খুলতেই মিরপুরে মিরাজের মন ভরানো দৃশ্য
Vinkmag ad

খবর সংগ্রহ করতে আসা সংবাদকর্মীদের কাছে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন রূপে ধরা দিয়েছে। নাহ, এখানে নতুন কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি কিংবা ঢালাওভাবে সংস্কার কাজও হয়নি। তবে পেশাগত কাজে এসে স্টেডিয়ামের ফটকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার নতুন অভিজ্ঞতা সঙ্গী হচ্ছে।

নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা জানিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই সাংবাদিকদের গেইটের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখছে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দফায় দফায় বিভিন্ন কর্তার কাছে ফোন করে খুলতে হচ্ছে তালা।

আজও (২৬ জুলাই) তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। মিরপুরে এই মুহূর্তে নারী দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং ক্যাম্প ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু চলছেও না। সেটিও স্টেডিয়ামের বাইরে রাস্তা থেকে দেখতে হয়েছে জনা বিশেক সাংবাদিককে।

জাতীয় দলের সব আয়োজন জিম্বাবুয়ে সফর ঘিরে। ইতোমধ্যে গতরাতে নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ ও মুনিম শাহরিয়ার ছেড়েছেন দেশ। আজ রাতে উড়াল দিবেন টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের বাকি সদস্যরাও। যাদের বেশিরভাগই মিরপুরে এসেছেন ফুরফুরে মেজাজে, অনেকটা ঘুরে বেড়ানোর মতো করে। সকালে কেউ কেউ করেছেন ব্যাটিং, বোলিং অনুশীলন।

মিরপুর তাদের কাছে ঘর বাড়ির মতোই। কিন্তু ম্যাচ, অনুশীলনের বাইরে পরিবার নিয়ে আসা কিংবা আয়েসী ভঙ্গিতে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ থাকে কমই। আজ সেই কম সময়ের একদিন।

সাংবাদিকদের জন্য স্টেডিয়ামের গেইটের তালা খুলতে খুলতে দুপুর ১টা পার হয়ে যায়। তবে মাঠে ঢুকেই দেখা মিলে ভিন্ন কিছু দৃশ্যের। এর আগে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারই তাদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে মাঠে এসেছেন, ব্যাট-বলে মজেছেন। আজ দেখা গেল মেহেদী হাসান মিরাজকে।

received 2136384119866116

মূল মাঠের এক পাশে ছেলেকে নিয়ে ব্যাট-বলে মেতে ওঠেন এই অলরাউন্ডার। বাবা-ছেলের ক্রিকেট খেলার এই দৃশ্য মন ভালো করে দিতে পারে যে কারও। এমন কিছু দেখে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে মাঠে ঢোকা সাংবাদিকরা যেমনটা খুঁজে নিয়েছেন খানিক প্রশান্তি।

মিরাজ ছাড়াও মাঠে আসা বেশিরভাগ ক্রিকেটারই আজ ছিলেন অনুশীলন থেকে দূরে। প্রায় প্রতিদিনই যাদের দেখা হয়, মাঠ, অনুশীলন, ড্রেসিং রুমে যাদের স্মৃতির অভাব নেই সেই ক্রিকেটাররাও আজ আলাদা করে খুনসুটিতে মেতেছেন, ছবি তুলেছেন।

No description available.

মিরাজ ছেলেকে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ মাঠে কাটিয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে পরিচিত সাংবাদিকদের দূর থেকে হাত নেড়ে সৌজন্যতা দেখালেন। আরেক অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান সেলফিতে মশগুল হন এনামুল হক বিজয় ও নাসুম আহমেদের সাথে।

পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শেখ মেহেদী হাসান। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের উন্নতির জায়গা, নিজের লক্ষ্য সহ বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন। এবার টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ পাঠাচ্ছে সিনিয়র ক্রিকেটারবিহীন তারুণ্য নির্ভর নতুন এক দল। যার নেতৃত্বে আছেন নুরুল হাসান সোহান। শেখ মেহেদী মনে করেন সিনিয়রদের অনপুস্থিতিতে নিজেদের কাজ নিজেরা শেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

তার ভাষায়,

‘সবারই ব্যক্তিগত লক্ষ্য থাকে। মাঠে দল হয়ে খেলতে হয়। আগামী ম্যাচ কী করব এটা ব্যক্তিগত লক্ষ্য। কিন্তু ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, ভিন্ন পরিকল্পনা করতে হয়, ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। ওখানে যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে সে ভালো করবে।’

‘এতদিন রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাই, সাকিব ভাইরা বলে দিত এই ব্যাটারকে এভাবে বল কর, এই বল এভাবে খেল। এই সিরিজ থেকে কেউ বলবে না। সবাইকে নিজেরটা নিজে করতে হবে। এটা ভালো কারণ সবাই ১-২ বছর খেলে ফেলেছে। সবাই নিজের বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘আমরা বাংলাদেশি, চাইলেও আন্দ্রে রাসেল-পোলার্ড হতে পারবো না’

Read Next

সরকারের সবুজ সংকেত, এশিয়া কাপ হতে পারে শ্রীলঙ্কায়

Total
7
Share