‘আমরা বাংলাদেশি, চাইলেও আন্দ্রে রাসেল-পোলার্ড হতে পারবো না’

মেহেদী হাসান
Vinkmag ad

টি-টোয়েন্টি মানেই যেন মার-মার, কাট-কাট, ধুন্ধুমার ক্রিকেট। ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে পেশী শক্তির দারুণ ব্যবহার হয়ে থাকে। যে দলে পাওয়ার হিটার যত বেশি সে দল পেয়ে থাকে বাড়তি সুবিধা। বাংলাদেশে পাওয়ার হিটার যেন আক্ষেপের নাম। অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান বলছেন জাতিগত ভাবেই বাংলাদেশের পাওয়ার হিটার তৈরি করা কঠিন কাজ।

পাওয়ার হিটারের উদাহরণ দিতে গেলে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ডদের নাম থাকবে উপরের দিকে। শেখ মেহেদী জানালেন তাদের মতো হওয়া সম্ভব নয় তবে নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে করতে চান উন্নতি। এমনকি পাওয়ার হিটিং কোচও যে খুব বেশি উন্নতি করে দিতে পারবে সে ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী নন এই অলরাউন্ডার।

দ্বিতীয় ধাপে আজ (২৬ জুলাই) রাতে জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দেবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল। শেখ মেহেদী সহ বেশিরভাগ ক্রিকেটারই থাকছেন এই বহরে। তার আগে দুপুরে মিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শেখ মেহেদী।

সেখানে পাওয়ার হিটিং ইস্যু নিয়ে নিজের অভিমত জানান,

‘মূলত দেখুন, আমরা বাংলাদেশি, আমরা কেউই পাওয়ার হিটার না। আমরা চাইলে আন্দ্রে রাসেল বা পোলার্ড হতে পারব না। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে যেটুকু আছে তা দিয়ে যতটা উন্নতি করা যায়।’

উপমহাদেশের কন্ডিশন হলেও শ্রীলঙ্কায় দুই-একজন পাওয়ার হিটার ঠিকই দেখা যায়। তাহলে বাংলাদেশ থেকে কেন পাওয়ার উঠে আসছে না?

এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ মেহেদী যোগ করেন,

‘সঠিকভাবে সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারলে আমরা শ্রীলঙ্কার চেয়েও ভালো দল হতে পারব। তবে সময়ের প্রয়োজন। আমাদের দেশে টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটারদের অনেক শাফলিং বা আপ-ডাউন করা হয়। শ্রীলঙ্কায় এরকম খুব কমই হয়। সাঙ্গাকারা, মাহেলা, দিলশান এরা অনেকদিন খেলে গেছেন।’

‘একটা জায়গায় দলকে পৌঁছে দিয়ে গেছেন। ওরা চলে যাওয়ার পর কিন্তু শ্রীলঙ্কা এত গোছানো দল না। ধারাবাহিক পারফর্ম করছে এমন আহামরি খেলোয়াড় দলে নেই। আমাদেরও সময় প্রয়োজন। সময় না নিলে রাতারাতি পুষিয়ে দেওয়া যায় না।’

আধুনিক ক্রিকেটে পাওয়ার হিটিং কোচের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। যদিও এখনো সে পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ। শেখ মেহেদী মনে করেন কোচ নিয়োগ দিলেই যে রাতারাতি সব বদলে যাবে না।

তার ভাষায়,

‘হ্যাঁ পাওয়ার হিটিং কোচের দরকার। তবে আপনার যে স্কিল আছে, একে কোচ হয়ত ১০ শতাংশ এগিয়ে দিবে। কিন্তু ৩০ শতাংশকে ১০০ শতাংশকে পৌঁছে দিতে পারবে না। আমরা জন্মগতভাবেই এরকম। রাতারাতি পরিবর্তন করা মনে হয় না সম্ভব। আমরা প্রায় ১৫ বছরের মত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছি। হলে আরও আগেই হয়ে যেত।’

‘যেহেতু হচ্ছে না, আমাদের এটা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। পাওয়ার হিটিংয়ের কথা সবসময়ই আসে। কিন্তু এটা ঠিক না। আমাদের সামর্থ্যের বাইরে চাইলেও করতে পারবে না। এটা আপনাদের সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিব-তামিমরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাবা-মা: মেহেদী

Read Next

বন্ধ তালা খুলতেই মিরপুরে মিরাজের মন ভরানো দৃশ্য

Total
1
Share