মুশফিকদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে বার্তা দিলেন সুজন

মুশফিকদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে বার্তা দিলেন সুজন
Vinkmag ad

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি কয়েকটি পোস্টে বিতর্ক উসকে দেন মুশফিকুর রহিম। যা ঘিরে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শুধু সিনিয়র ক্রিকেটার নয়, সবার জন্যই টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদের পরিষ্কার বার্তা- হতে হবে পেশাদার, গড়ে তুলতে হবে ক্রিকেট সংস্কৃতি। জাতীয় দলকে পরিবার উল্লেখ করে সুজন বলছেন ঘরের কথা বাইরে বলা ভুল বার্তা দেয়।

জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি দলে বেশ পরিবর্তন আনে বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড)। যেখানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সরিয়ে এই সফরের জন্য অধিনায়ক করা হয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে। সাকিব আল হাসান ছুটিতে, বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে রিয়াদের সাথে মুশফিকুর রহিমকেও।

তবে বিশ্রামের আদলে নিজের বাদ পড়া স্বাভাবিকভাবে নেয়নি মুশফিক, এমনটাই করা হচ্ছে ধারণা। বিশেষ করে বিসিবির এমন সিদ্ধান্তের পর নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্ট থেকে গুঞ্জনের ডালপালা মেলেছে আরও।

গত ২৩ জুলাই পোস্ট করা এক ছবিতে দেখা যায় ড্রেসিং রুমে শরীর ছড়িয়ে বসে আছেন। যেখানে চোখ দুইটি ছিল বন্ধ, যেন বেশ ক্লান্তিতে ঘুম জড়িয়েছে চোখে। ক্যাপশনে ব্যবহার করা ইমোজিতে পোস্টটি হয়েছে আরও রহস্যময়। মনে হচ্ছে বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি বিশ্রামেই আছেন।

এর দিন কয়েক আগে একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘আসসালামুয়ালাইকুম সবাইকে…খুশি তখনই লাগে আওখন অধিকাংশই ঘুমাচ্ছে এবং আপনি কঠোর পরিশ্রম করছেন।’

আজ (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জিম্বাবুয়ে সফরের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সাথে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করে বিসিবি। পরে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।

যেখানে মুশফিকের নাম উল্লেখ না করেই প্রশ্ন করা হয় সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে গত এক সপ্তাহে দুইটি ফেসবুক পোস্টে যেভাবে নেতিবাচকতা ছড়িয়েছেন তাতে ক্রিকেট সংস্কৃতি গড়ে তোলা কতটা সময়ের দাবি?

জবাবে সুজন বলেন, ‘আমি যেমন পেশাদার, আমার চাকরির খবর তো বাসায় যায় না বা আমার বাসার খবর তো চাকরির জায়গায় এসে জানাই না যে আজকে আমি আমার বউয়ের সাথে ঝগড়া করে আসছি। এখানে বিষয়টা একই রকম। আমরা কীভাবে পেশাদার হতে পারি এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ক্রিকেট একটা পরিবার, এখানকার কথাগুলো বাইরে যাওয়াটাও একটা ভুল বার্তা দেয়। সেটা যে-ই দিচ্ছে বা যারা-ই দিচ্ছে এটা ভালো না, স্বাস্থ্যকর না। আমরা এসব নিয়েও কথা বলেছি। আমার মনে হয় যে এটা আমাদের সময় যে সংস্কৃতি গড়ে তোলা।’

সব ক্রিকেটারের জন্য পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আজকে ছেলেদের একটা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছি যে পেশাদারিত্ব তৈরি করতে। আমাদের পেশাদার হতে হবে। আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। হ্যাঁ আমাদের অনেকের মন খারাপ হতে পারে। বাদ পড়লে মন খারাপ হবে স্বাভাবিক। দলে ঢুকলে মন খুশি হয়। ভালো খেললে ভালো লাগে খারাপ খেললে খারাপ লাগে। ক্রিকেট একটা সাইকোলোজিক্যাল গেম, এখানে সবচেয়ে বেশি মেন্টাল প্রেশারটা আসে। আমরা কেন ভালো খেলি না? মেন্টাল টাফনেসের কারণেইতো এমন হয়? আমার কথা হচ্ছে যতদিন পর্যন্ত এসব সংস্কৃতি আমরা তৈরি করতে পারবো না ততদিন পর্যন্ত ভালো একটা দল হয়ে উঠতে পারবো না।’

সিনিয়র ক্রিকেটার হয়ে মুশফিকদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ করাটা তরুণদের শেখার জায়গায় কতটা আঘাত করতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তরে সুজন বলেন, ‘আমি আসলে ওদিকে যেতে চাই না। মানুষইতো ভুল করে, ভুল থেকে শেখে। আমি মনে করি আজকের পর থেকে এগুলো আর হবে না। সবাই দায়িত্বশীল, যারাই বাংলাদেশ দলে খেলে। তারা দেশের ক্রিকেটের আইকন, দেশের আইকন। যেমন নুরুল হাসান সোহানকে শুধু দেশে না দেশের বাইরেও মানুষ চেনে। সুতরাং তারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে বুঝবে। খেলাটা শুধু মাঠের না মাঠের বাইরেও অনেক খেলা আছে। সে জায়গাগুলোতেও আমাদের ভালোভাবে সামলে নিতে হবে, খুব সাবধানে সামলাতে হবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের চাইতে কোনো ব্যক্তি বা নাম গুরুত্বপূর্ণ নয়’

Read Next

গলে লঙ্কান স্পিন-বিষে নীল পাকিস্তান

Total
1
Share