তাইজুলের দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

তাইজুলের দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ
Vinkmag ad

গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের ক্যানভাসে টানা তিন ওয়ানডেতে একই দৃশ্য আঁকলো বাংলাদেশ। সবগুলো ম্যাচকে একই বিন্দুতে এনে তুলির আঁচড় দেওয়ার কাজটা করেছে স্পিনাররা। প্রথম দুই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ ঝলক দেখালেও গতকাল (১৭ জুলাই) শেষ ম্যাচে দায়িত্বটা কাঁধে নিলেন তাইজুল ইসলাম। উইকেটে স্পিন বান্ধবতা বেশি বলে মাত্র এক পেসার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ, শরিফুল ইসলামের জায়গায় সুযোগ পান তাইজুল।

তার বাঁহাতি স্পিন ভেল্কিতে নিকোলাস পুরানের ৭৩ রানের ইনিংসের পরও ১৭৮ রানেই থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রায় আড়াই বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার তার। ব্যাট হাতে ফিফটি হাঁকানো লিটনের (৫০) সাথে নুরুল হাসান সোহানের শেষের দৃঢ়তায় ৪ উইকেটের জয় বাংলাদেশের।

এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত হয়েছে, আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের অংশও নয়। যে কারণে এই ম্যাচে বেঞ্চের শক্তিমত্তা পরখ করে দেখতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট সে পথে না হেঁটে পূর্ণ শক্তি নিয়েই ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরে। তাই ডিপিএলে রান বন্যা বইয়ে দিয়েও সুযোগ হয়নি এনামুল হক বিজয়ের। উইকেটে স্পিন বান্ধবতা টের পেয়ে লম্বা সময় পর এক পেসার নিয়ে খেলতে নেমে যায় টাইগাররা।

৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে ১৫তম বারের মতো ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইট ওয়াশ করলো বাংলাদেশ।

টস হেরে আগে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আক্রমণে আসেন তাইজুল। প্রথম বলেই উইকেট। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ব্রেন্ডন কিংকে (৯ বলে ৮)।

নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে শাই হোপকে (১৫ বলে ২) স্টাম্পড করেন এই বাঁহাতি, নেন উইকেট মেডেন। পরের ওভারে মুস্তাফিজ এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শামার ব্রুকসকে (৮ বলে ৪)। আর তাতে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

সেখান থেকে কেসি কার্টি ও নিকোলাস পুরানের ৬৭ রানের জুটি। জুটি ভাঙেন সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করা বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। তামিমের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেছেন ৬৬ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ৩৩ রান।

এক পাশ আগলে রাখা পুরানের সাথে রভম্যান পাওয়েলের জুটিও ৩৪ রানের বড় হয়নি। এরপর অবশ্য নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

ইনিংসের ৩৮তম ওভারে পুরান পেয়েছেন ফিফটির দেখা। অন্যপ্রান্তে অবশ্য কেমো পলকে (১০ বলে ৬) তুলে নিয়ে চতুর্থ উইকেট শিকার তাইজুলের।

৪০তম ওভারে আক্রমণাত্মক পুরান, মিরাজকে হাঁকান টানা দুই ছক্কার সাথে এক চার। তবে তাইজুলের পঞ্চম শিকার হয়ে ফিরেছেন ৪৩তম ওভারে। ১০৯ বলে ৭৩ রানের ইনিংস সাজান ৪ চার ও ২ ছক্কায়।

তাইজুলের প্রথম ফাইফারের সাথে মুস্তাফিজ, নাসুম, মোসাদ্দেকের তোপে শেষ পর্যন্ত ১৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ২১ বলে ১৯ রান আসে রোমারিও শেফার্ডের ব্যাটে।

১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২৮ রান খরচায় ৫ উইকেট নেওয়ার পথে তাইজুল ডট বল করেন ৪৪ টি! বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে তার বোলিং ফিগারই এখন সবার সেরা। দুইটি করে উইকেট মুস্তাফিজ ও নাসুমের।

লক্ষ্য তাড়ায় নামা বাংলাদেশকে গতি দিয়ে ভড়কে দেন আলঝারি জোসেফ। টানা বল করেছেন ঘন্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে। তার ছোবলে উদ্বোধনী জুটি থামে ২০ রানে। আরেক দফা ব্যর্থ শান্ত (১৩ বলে ১ রান)।

ক্রিজে এসে প্রথম বলেই চার দিয়ে শুরু লিটনের। তামিমকে নিয়ে জুটিতে যোগ করেন ৫০ রান। ইনিংসের ১২তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনকে কব্জির ব্যবহারে লং অন দিয়ে ছক্কা মারার পর লেইট কাটে হাঁকান চারও।

পরের ওভারে স্কয়ার লেগ দিয়ে তামিমের হাঁকানো চারে দলীয় রান পেরোয় ৫০। ১৭তম ওভারে দুজনের জুটিও ফিফটি ছুঁয়েছে। কিন্তু এরপরের বলেই তামিমকে (৫২ বলে ৪ চারে ৩৪) ফেরান গুদাকেশ মতি।

ক্রিজে আসা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অস্বস্তিতে পড়লেও লিটন ছিলেন সাবলীল। ২৪তম ওভারে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ফিফটির দেখাও পেয়ে যান। তবে গুদাকেশ মতিকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৬৫ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৫০ রানেই থামেন লিটন।

একই ওভারে আফিফ হোসেনকেও (০) খালি হাতে ফেরান মতি। নিজের শেষ ওভার করতে এসে মতি তুলে নেন মোসাদ্দেক হোসেনকেও (২৫ বলে ১৪)। ১০ ওভারের কোটা শেষে তার বোলিং ফিগার ১০-২-২৩-৪। ৫ উইকেটে ১১৬ রানের পরিণত সফরকারীরা।

অন্য পাশে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বিরক্তিতে মোড়ানো ইনিংস খেলে আউট হন ৬২ বলে ২৬ রান করে। তবে জয়ের পথে বেশ ইতিবাচক সোহান। মিরাজকে নিয়ে অবিচ্ছেদ্য ৩২ রানের জুটিতে ৯ বল হাতে রেখেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। সোহান ৩৮ বলে ৪ চারে ৩২ ও মিরাজ ৩৫ বলে ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৭৮/১০ (৪৮.৪), হোপ ২, কিং ৮, ব্রুকস ৪, কার্টি ৩৩, পুরান ৭৩, পাওয়েল ১৮, কিমো ৬, আকিল ১, শেফার্ড ১৯, মতি ২, জোসেফ ৭*; নাসুম ৯.৪-১-৩৯-২, মুস্তাফিজ ৯-০-২৪-২, তাইজুল ১০-২-২৮-৫, মোসাদ্দেক ১০-১-২৩-১

বাংলাদেশ ১৭৯/৬ (৪৮.৩), তামিম ৩৪, শান্ত ১, লিটন ৫০, মাহমুদউল্লাহ ২৬, আফিফ ০, মোসাদ্দেক ১৪, নুরুল ৩২*, মিরাজ ১৬*; জোসেফ ১০-০-২৫-১, মতি ১০-২-২৩-৪, পুরান ৬.৩-০-৩৮-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী, ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী

ম্যাচসেরাঃ তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ)

সিরিজসেরাঃ তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বোলারদের দারুণ দিনেও স্বস্তিতে নেই পাকিস্তান

Read Next

সুযোগ কাজে লাগাতে পেরে আনন্দিত তাইজুল

Total
1
Share