ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়
Vinkmag ad

গায়ানার কিছুটা মন্থর উইকেট স্পিনারদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে হাজির। যা লুফে নিয়ে বাংলাদেশ টানা দুই ওয়ানডেতে ঘরের মাঠের মতোই দাপট দেখালো। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টাইগারদের স্পিন বিষে আরও বেশি নীল হতে হয়েছে ক্যারিবিয়ানদের। আর তাতেই ৯ উইকেটের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হল সিরিজ।

এই নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যা টানা ১০ ওয়ানডে জয়। পঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশ ওয়ানডেতে জিতলো ৯ উইকেটের ব্যবধানে (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম)। উইকেটের বিচারে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। 

প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অলআউট হওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরবোর্ডে মাত্র ১০৮ রান। ৮ নম্বরে নামা কেমো পলের ব্যাটে অপরাজিত সর্বোচ্চ ২৫ রান। মিরাজের ৪ উইকেটের সাথে নাসুমের ৩ ও মোসাদ্দেকের ১ উইকেট।

জবাবে কেবল নাজমুল হাসান শান্তর উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ১৭৬ বল হাতে রেখে জয় পাওয়ায়র দিনে তামিম ৫০ ও লিটন দাস ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

কন্ডিশন স্পিনারদের এতোটাই দুইহাত ভরে ডাকছিল যে বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। পেসার তাসকিন আহমেদের জায়গায় সুযোগ মেলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের।

মুস্তাফিজুর রহমানের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটের সুযোগ। সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভাঙতে পারেননি শান্ত, রান আউট থেকে বেঁচে যায় কাইল মায়ের্স। পরের বলে রান আউটের আরও বড় সুযোগ নষ্ট, স্টাম্পের আশেপাশে ছিলেন না উইকেট রক্ষক সোহান।

মিরাজের করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফেরানো যেতো আরেক ওপেনার শাই হোপকেও। ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে চেয়েছেন, কিন্তু ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল উইকেটের পেছনে। ঠিকঠাক গ্লাভস বন্দী করতে পারেননি সোহান, মিস করেন স্টাম্পিংয়ের সুযোগও।

আগের ম্যাচে অভিষেকে দারুণ বোলিং করা নাসুম এ দিনও শুরু থেকে নিয়ন্ত্রিত। প্রথম ওভার নেন মেডেন, ঐ ওভারে পেয়ে যেতেন প্রথম ওয়ানডে উইকেটও। কিন্তু কট বিহাইন্ডের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলেও রিভিন নিয়ে বাঁচেন শাই হোপ।

দুই ওপেনার জীবন পেয়েও উদ্বোধনী জুটি (২৭ রানের) লম্বা করতে পারেনি। মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড হয়ে মায়ের্স থামেন ১৭ রানে (৩৬ বলে)।

টানা দুর্দান্ত বোলিং করা নাসুম উইকেটের দেখা পান নিজের চতুর্থ ওভারে, বোল্ড করেন শামার ব্রুকসকে (৫)। নিজের করা পরের ওভারও মেডেন নেন।

এর পরের ওভারে এসেই শাই হোপকে (৪৫ বলে ১৮) ফেরান এই বাঁহাতি। একই ওভারে বোল্ড করেন অধিনায়ক নিকোলাস পুরানকে (০)। আর তাতেই ৪ উইকেটে ৪৫ রানে পরিণত হয় স্বাগতিকরা।

সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মাঝে ২৪ রানের জুটি রভম্যান পাওয়েল (১৩) ও ব্রেন্ডন কিংয়ের (১১)। তবে ৩ রানের ব্যবধানে এই দুজনের সাথে আকিল হোসেনকেও ফেরায় বাংলাদেশ।

নিজের ৬ষ্ঠ ওভার করতে এসে টানা দুই বলে মিরাজ ফেরান রোমারিও শেফার্ড (৪) ও আলঝারি জোসেফকে (০)।

শেষ পর্যন্ত কেমো পলের ২৫* রানে ভর করে কোনোমতে ১০০ রানের গন্ডি পার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ ব্যাটার গুদাকেশ মতিকে (৬) ফিরিয়ে মিরাজ নিজের চতুর্থ উইকেট শিকার করেন।

৪ উইকেট নেওয়ার পথে তার খরচ মাত্র ৯ রান। ৩ উইকেট শিকারে আরও কৃপণ নাসুম, ১০ ওভারে দেন মাত্র ১৯ রান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন, তামিমের সাথে ক্রিজে আসেন শান্ত। দুজনে শুরু থেকেই খেলেছেন দেখেশুনে। ৬ষ্ঠ ওভারে তামিমের ব্যাটে আসে প্রথম বাউন্ডারি।

জুটি এগোচ্ছিল ফিফটির দিকে, তবে গুদাকেশ মতির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন শান্ত (৩৬ বলে ২০)। ডিপ মিড উইকেটে আকিল হোসেনের হাতে ধরা পড়লে ৪৮ রানেই ইতি ঘটে ওপেনিং জুটির।

পরের ওভারেই আকিলকে রিভার্স সুইপে চার মেরে দলীয় সংগ্রহ ৫০ পার করেন তামিম। লিটন দাসকে নিয়ে বাকি পথ অনায়েসেই পাড়ি দেয় টাইগার অধিনায়ক।

লিটনের সাথে ৬৪ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে তামিম ক্যারিয়ারের ৫৩তম ওয়ানডে ফিফটির দেখা পান ৬২ বলে। জয় সূচক চারে পূর্ণ হয় তার ফিফটি, ইনিংস সাজান ৭ চারে। অন্যদিকে লিটন অপরাজিত ২৭ বলে ৬ চারে ৩২ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৮/১০ (৩৫), হোপ ১৮, মায়ের্স ১৭, ব্রুকস ৫, কিং ১১, পুরান ০, পাওয়েল ১৩, আকিল ২, কিমো ২৫*, শেফার্ড ৪, জোসেফ ০, মোতি ৬; মোসাদ্দেক ১০-০-৩৭-১, মিরাজ ৮-১-২৯-৪, নাসুম ১০-৪-১৯-৩, শরিফুল ৩-০-৯-১

বাংলাদেশ ১১২/১ (২০.৪), তামিম ৫০*, শান্ত ২০, লিটন ৩২*; মতি ৭.৪-১-৩৯-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৯ উইকেট ও ১৭৬ বল হাতে রেখে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ নাসুম আহমেদ (বাংলাদেশ)।

Shihab Ahsan Khan

Shihab Ahsan Khan, Editorial Writer- Cricket97

Read Previous

লম্বা লাফের র‍্যাংকিংয়ের সেরা পাঁচে সুরিয়াকুমার যাদব

Read Next

উদযাপনে নাসুম বার্তা দিলেন ‘নতুন বাঘ আসছে’

Total
10
Share