অবশেষে উইন্ডিজ সফরে এলো কাঙ্ক্ষিত সেই জয়

অবশেষে উইন্ডিজ সফরে এলো কাঙ্ক্ষিত সেই জয়
Vinkmag ad

এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোনো জয় পায়নি। যে কারণে নিজেদের প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডে খেলতে নামার আগে আত্মবিশ্বাস তলানিতে থাকার কথা। তবে প্রথম ওয়ানডেতে সেসব দূরে সরিয়ে বোলারদের গড়ে দেওয়া মঞ্চে দারুণ এক জয় পেলো তামিম ইকবালের দল।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ বোলারদের, বিশেষ করে স্পিনারদের তোপে। ৯ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ১৪৯ রান। সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে শামার ব্রুকসের ব্যাটে। তামিম, রিয়াদ, শান্তদের ব্যাটে চড়ে যা সহজেই তাড়া করে বাংলাদেশ।

৬ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ একাদশে চমক এনামুল হক বিজয়ের না থাকা। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) হাজার রানের রেকর্ড গড়ে জাতীয় দলে ডাক পান।

তবে অপ্রত্যাশিতভাবে টেস্টের পর টি-টোয়েন্টি খেলে ফেললেও সুযোগ হয়নি প্রথম ওয়ানডেতে। উইকেট বিবেচনায় নাসুম আহমেদের অভিষেক ছিল যৌক্তিক, অন্তত সেটা নিজেই প্রমাণ করেছেন পারফরম্যান্স দিয়ে। টেস্টে টানা ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্তকে দেড় বছর পর ওয়ানডে খেলার সুযোগ দেওয়া হল।

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে বৃষ্টির সাথে ভালোই লুকোচুরি খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে। গতকাল (১০ জুলাই) গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে বৃষ্টি না থাকলেও ভেজা আউটঅফিল্ডে খেলা শুরু হয়ে বেশ দেরিতে। ম্যাচ নেমে আসে ৪১ ওভারে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আকিল হোসেনের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ফেরেন ওপেনার লিটন দাস (৯ বলে ১)। শেষ মুহূর্তে এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। উইকেটে বলের কিঞ্চিৎ স্পর্শেও রিভিউ নিয়ে লিটনকে ফিরতে হয় আম্পায়ার্স কলে। এ নিয়ে মাঠেই ঝাড়েন রাগ, অধিনায়ক তামিমও বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন আম্পায়ারের সাথে।

লিটনের উইকেট হারালেও ছোট লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশকে পথেই রাখেন অধিনায়ক তামিম। শান্তর সাথে জুটিতে ৪০ রান যোগ করে তাকে ফিরতে হয় রান আউটে কাটা পড়ে। ২৫ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৩৩ রানে থামেন টাইগার দলপতি।

সেখান থেকে মাহমুদউল্লাহ রিয়দকে নিয়ে ৪৯ রানের জুটি শান্তর। অভিষিক্ত স্পিনার গুদাকেশ মতির বলে আউট হওয়ার আগে শান্তর ব্যাটে ৪৬ বলে ৫ চারে ৩৭ রান। নিকোলাস পুরানের বলে বোল্ড হয়েও নো বলে বেঁচে যান রিয়াদ।

তবে আফিফ হোসেন (১৭ বলে ৯) টিকেননি বেশিক্ষণ। উইকেটে স্পিন ধরছে দেখে পার্ট টাইমার হিসেবে হাত ঘুরিয়ে সফল ক্যারিবিয়ান দলপতি পুরান। ১১১ রান তুলতে ৪ উইকেট হারালেও জয়ের পথটা কঠিন হয়নি।

নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে রিয়াদ বাকি পথ পাড়ি দেন অনায়েসেই। ৫৫ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌছায় টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত রিয়াদ ৬৯ বলে ৪১ রানে ও সোহান ২৭ বলে ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নিজের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ। শাই হোপকে রানের খাতা খোলার আগেই ইনসাইড এজে বোল্ড করেন।

ইনিংসের প্রথম ওভারে অভিষিক্ত নাসুম খরচ করেন মাত্র ১ রান। পরের ওভারে নেন মেডেন। ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচেন শামার ব্রুকস।

যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখানো আলট্রা এজ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না বাংলাদেশ। নিজের করা তৃতীয় ওভারে নাসুম খরচ করেন মাত্র ২ রান। চতুর্থ ওভার নেন আবার মেডেন।

পাওয়ার প্লের ৮ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরবোর্ডে রান ১ উইকেটে ২৬। নিজের করা পঞ্চম ওভারটিও মেডেন নেন নাসুম।

১২তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় স্পেল করতে এসে উইকেট মেডেন মিরাজের, কাইল মায়ের্সকে (২৭ বলে ১০) ফেরান বোল্ড করে। পরের ওভারে নিজের দ্বিতীয় স্পেল করতে আসেন নাসুম, খরচ করেন মাত্র ১ রান। অর্থাৎ নিজের করা প্রথম ৩৬ বলের ৩৪ টিই ডট!

২১তম ওভারে টানা দুই বলে ওপেনার ব্রেন্ডন কিং (৩১ বলে ৮) ও শামার ব্রুকসকে (৬৬ বলে ৩৩) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগান শরিফুল। ডাবল উইকেট মেডেন নিয়ে ৪ উইকেটে ৫৫ রানে পরিণত করেন স্বাগতিকদের।

টাইগারদের দারুণ বোলিংয়ে নাজেহাল হয়ে ৬ষ্ঠ ওভারে বাউন্ডারি হাঁকানো ক্যারিবিয়ানরা পরের বাউন্ডারির দেখা পান ১০৫ বল পর ২৪তম ওভারে।

অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ও রভম্যান পাওয়েলও ব্যর্থ। পাওয়েলকে (১১ বলে ৯) নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন মিরাজ। নিজের শেষ ওভার করতে এসে বোল্ড করেন পুরানকেও (২৪ বলে ১৮)।

বল হাতে দুর্দান্ত মিরাজ দারুণ এক থ্রোতে রান আউট করেন আকিল হোসেনকে (১২ বলে ৩)। আর তাতে ৯৬ রানে ৭ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

৩৪তম ওভারে শরিফুলের ফের জোড়া আঘাত। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে বেশ কয়েকটি ক্যাচ মিসে ৩৯ রান যোগ করে অ্যান্ডারসন ফিলিপ (২২ বলে ২১*) ও জাইডেন সিলস (২৩ বলে ১৬*)।

প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ৪ রান খরচ করা নাসুমের ইনিংস শেষেও ফিগার ৮-৩-১৬-০! উইকেট না পেয়েও এই বাঁহাতি অন্যতম সেরা পারফর্মার। সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেওয়ার পথে শরিফুলের খরচ ৩৪ রান। ৩৬ রানে মিরাজের শিকার ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪৯/৯ (৪১), মায়ের্স ১০, হোপ ০, ব্রুকস ৩৩, কিং ৮, পুরান ১৮, পাওয়েল ৯, শেফার্ড ১৫, আকিল ৩, মতি ৭, ফিলিপ ২১*, সিলস ১৬*; মুস্তাফিজ ৮-০-৩৪-১, মিরাজ ৯-২-৩৬-৩, শরিফুল ৮-১-৩৪-৪

বাংলাদেশ ১৫১/৪ (৩১.৫), তামিম ৩৩, লিটন ১, শান্ত ৩৭, মাহমুদউল্লাহ ৪১*, আফিফ ৯, নুরুল ২০*; আকিল ৮-০-৪৩-১, মতি ৯-১-১৮-১, পুরান ৭-০-৩৯-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মেহেদী হাসান মিরাজ (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সুরিয়ার অমন ইনিংসের পরেও হারল ভারত

Read Next

বিজয় নয়, শান্তকে সুযোগ দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত বলছেন তামিম

Total
6
Share