পুরান-মায়ের্সের ব্যাটে পিষ্ট বাংলাদেশ

পুরান-মায়ের্সের ব্যাটে পিষ্ট বাংলাদেশ
Vinkmag ad

গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের উইকেট কিছুটা মন্থর, প্রচলিত ক্যারিবিয়ান উইকেটের চেয়ে ভিন্ন। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যে কারণে কিছুটা উচ্ছ্বসিত ছিলেন। নাসুম আহমেদকে একাদশে ফিরিয়ে স্পিন আক্রমণ শক্তিশালী করার আভাসও দেন। তবে সিরিজে সমতা ফেরাতে প্রস্তুত মঞ্চে হতাশ হতে হয়েছে টাইগারদের।

আগে ব্যাট করে উইকেট বিবেচনায় ভালো পুঁজির পর বল হাতে স্পিনারদের ভেল্কি। কিন্তু এরপরই অধিনায়ক রিয়াদের হিসাবে ভুল। কাইল মায়ের্স (৫৫) ও নিকোলাস পুরানের (৭৪*) দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হারতে হয়েছে ৫ উইকেটের ব্যবধানে।

এই জয়ে টেস্ট সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও ওয়েস্ট ইন্ডিজের (২-০ ব্যবধানে)।

বাংলাদেশ একাদশ সাজায় এক পরিবর্তনে। দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েন পেসার তাসকিন আহমেদ, তার জায়গায় আসেন নাসুম।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আফিফ হোসেনের ফিফটির (৫০) সাথে লিটনের ৪৯ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৬৩ রানের পুঁজি বাংলাদেশের।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই দারুণ মুভমেন্ট পান কাইল মায়ের্স। তবে সেসব সামলে ইতিবাচক ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও এনামুল হক বিজয়। ইনিংসের ৩য় ওভারে লিটনের ব্যাটে আসে প্রথম বাউন্ডারি।

সময়ের সাথে সাথে জুটি হচ্ছিল সাবলীল, নিয়মিত আসছিল বাউন্ডারি। কিন্তু দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা বিজয় আরও একবার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ। ওডিন স্মিথের করা ইনিংসের ৫ম ওভারে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারতে চান।

কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ না হওয়ায় আকিল হোসেনের হাতে ধরা পড়েন ডিপ থার্ড ম্যানে। বিজয়ের (১১ বলে ১০) বিদায়ে ভাঙে ৩৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

ক্রিজে এসেই চার দিয়ে রানের খাতা খোলেন সাকিব আল হাসান। রোমারিও শেফার্ডের করা পরের ওভারে অবশ্য তাকেও ফিরতে হয় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে (৩ বলে ৫)।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে।

আফিফকে নিয়ে পরের সময়টুকু নিজের করেন লিটন। ওডিন স্মিথের করা ১২তম ওভারে হাঁকান এক চারের সাথে এক ছক্কা। একই ওভারে আফিফের হাঁকানো ছক্কায় দুজনের জুটির ফিফটি পূর্ণ হয়। ওভার থেকে রান আসে ২০।

কিন্তু হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়রের করা পরের ওভারেই বিপত্তি। হেইডেন ওয়ালশের অফ স্টাম্পের বাইরের বলকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে এক্সট্রা কাভারের উপর দিয়ে খেলতে চান লিটন।

তবে ধরা পড়েন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আকিলের হাতে। ৪১ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় সাজান ৪৯ রানের ইনিংসটি। আফিফের সাথে ভাঙে ৫৭ রানের জুটি।

লিটন ফিরলেও আফিফ ছিলেন ছন্দে, ১৬তম ওভারে শেফার্ডকে হাঁকানো ছক্কায় তার ছাপ ছিল স্পষ্ট। পরের বলে কভার ড্রাইভে হাঁকিয়েছেন দারুণ এক চারও।

আফিফের সাথে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের আভাস দিয়েও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ফিরতে হয় ২০ বলে ২২ রান করে। দুজনে জুটিতে যোগ করে ৪৯ রান।

এক বল পর ফেরেন আফিফও। রান আউটে কাটা পড়ার আগে নামের পাশে ৩৮ বলে সমান দুটি করে চার, ছক্কায় ৫০ রান। এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি।

শেষ ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনের টানা দুই চারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৫ উইকেটে ১৬৩ রান। ৬ বলে ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক। শেষ ৫ ওভারে টাইগাররা তোলে ৫০ রান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার ব্রেন্ডন কিং নাসুম আহমেদকে ছক্কা মেরে ইনিংস শুরু করেন। তবে ওভারের শেষ বলে মিড অনে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেন ৫ বলে ৭ রান করে।

ইনিংসের ৪র্থ ওভারে শেখ মেহেদী তিন নম্বরে নামা শামার ব্রুকসকে (১২ বলে ১২) ফেরান। ২২ রানে ২ উইকেট হারানোর পরও দলকে চাপহীন রাখার চেষ্টা ওডিন স্মিথ ও কাইল মায়ের্সের।

তবে ৭ম ওভারে আক্রমণে এসেই প্রথম বলে ওডিন স্মিথকে (৪ বলে ২) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাকিব। ৪৩ রানে ৩ উইকেট নেই স্বাগতিকদের।

উইকেটের ফায়দা নিতে প্রথম ৮ ওভারে ৪ স্পিনার ব্যবহার করেন বাংলাদেশ কাপ্তান। ৯ম ওভারে পেস আক্রমণে যোগ দেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই তাকে লং অফ দিয়ে ছক্কা মেরে স্বাগত জানান নিকোলাস পুরান।

প্রথম ১১ ওভারের ১০ ওভারই করে স্পিনাররা, পেসারদের একমাত্র ওভারে মুস্তাফিজ দেন ১২ রান। এরপরও ৫৪ বলে প্রয়োজন ছিল ৮৪। ১৩তম ওভারে দ্বিতীয় পেসার হিসেবে বল করতে এসে শরিফুল ইসলামের খরচ ১৩ রান।

ঐ ওভারেই মায়ের্স-পুরানের জুটি পূর্ণ করে ফিফটি। মুস্তাফিজের করা পরের ওভারে দলীয় সংগ্রহও পেরোয় ১০০। মায়ের্স-পুরান মিলে এই ওভার থেকে নেন ১৪ রান। জয়ের পথে ব্যবধান কমিয়ে ৪২ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৫৭ রানের।

পেসারদের এলোমেলো হতে দেখে ছন্দ হারায় স্পিনাররাও। যেখানে অধিনায়ক রিয়াদ হতে পারতেন আরও কৌশলী।

পরের ওভারের প্রথম বলে মোসাদ্দেককে ছক্কা মেরে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন ক্যারিবিয়ান মায়ের্স। ১৫তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে আসা নাসুমকে দুই ছক্কার সাথে এক চার পুরানের।

ততক্ষণে তিনি পেয়েও যান ফিফটির দেখা। মাঝে মায়ের্সকে (৩৮ বলে ৫৫) অবশ্য ফেরান নাসুম। ভাঙে ৮৫ রানের জুটি। প্রথম ৩ ওভারে ২৫ রান দেওয়া নাসুমের ফিগার দাঁড়ায় ৪-০-৪৪-২।

আগের ম্যাচে জয়ের নায়ক রভম্যান পাওয়েলকে (৯ বলে ৫) অল্পতে আটকে দিয়েও লাভ হয়নি টাইগারদের। পুরান ঝড়ে ১০ বল হাতে রেখেই স্বাগতিকরা পায় ৫ উইকেটের জয়। ৩৯ বলে সমান ৫ টি করে চার, ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৭৪ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১৬৩/৫ (২০), লিটন ৪৯, বিজয় ১০, সাকিব ৫, আফিফ ৫০, মাহমুদউল্লাহ ২২, নুরুল ২*, মোসাদ্দেক ১০*; স্মিথ ৩-০-৩৪-১, শেফার্ড ২-০-১৯-১, ওয়ালশ ৪-০-২৫-২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬৯/৫ (১৮.২), কিং ৭, মায়ের্স ৫৫, ব্রুকস ১২, স্মিথ ২, পুরান ৭৪*, পাওয়েল ৫, আকিল ৩*; নাসুম ৪-০-৪৪-২, মেহেদী ৪-০-২১-১, সাকিব ২-০-১০-১, আফিফ ১-০-১০-১

ফলাফলঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী, ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী

ম্যাচ ও সিরিজ সেরাঃ নিকোলাস পুরান (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।

Shihab Ahsan Khan

Shihab Ahsan Khan, Editorial Writer- Cricket97

Read Previous

গায়ানায় আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

Read Next

ডানহাতি-বাঁহাতি পুরোনো তত্ব থেকে বেরই হতে পারছেন না রিয়াদ

Total
22
Share