টেস্ট ক্রিকেটারদের সাথে নারীদের ম্যাচ ফিও বাড়াচ্ছে বিসিবি

আকরামের চেয়ারে বসে জালালের চোখ স্বাস্থ্যকর ড্রেসিংরুমে
Vinkmag ad

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বাজে সময় যেন কাটছেই না। এই ফরম্যাটে দল হিসেবে ভালো কর‍্যে বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এবার নতুন করে ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করতে চায়। যে কারণে আরেক দফা ম্যাচ ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা। পুরুষদের সাথে নারী দলের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়াবে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ম্যাচ ফি বাড়ানো ছাড়াও টেস্ট উন্নতিতে নতুন করে কি সংযোজন করা যায় সেসব নিয়েও ভাবছে বিসিবি। ঈদের পর বোর্ডে হবে বিস্তর আলোচনা। ইতোমধ্যে বিসিবি সভাপতি একটি ওয়ার্কিং কমিটিও করে দিয়েছেন।

কমিটির অন্যতম সদস্য ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস আজ (৭ জুলাই) মিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

তিনি জানান, ‘ম্যাচ ফি হয়ত বেড়ে যাবে। আরও কী কী করতে পারি সেই চিন্তাভাবনা আছে। টেস্টে আমরা ওভাবে পারফর্ম করছি না। দক্ষিণ আফ্রিকায় সেভাবে ভালো করতে পারিনি, ওয়েস্ট ইন্ডিজেও ভালো করতে পারিনি। আমরা এটা নিয়ে অনেক উদ্বিগ্ন। সভাপতি সাহেব ওয়ার্কিং গ্রুপ করেছেন।’

‘সবাইকেই এটা নিয়ে ভাবতে হবে। ক্রিকেট অপারেশন্স, গেম ডেভেলপমেন্ট, হাই পারফরম্যান্স, এইজ গ্রুপ কমিটির চেয়ারম্যানরা শীঘ্রই মিটিংয়ে বসব, হয়ত ঈদের পরপরই।’

‘দীর্ঘমেয়াদী একটা পরিকল্পনা করতে হবে। টেস্টে কীভাবে আরও ভালো করা যায়, টেস্ট খেলোয়াড়দের জন্য কি কি সুবিধা বা ব্যবস্থা নেওয়া যায় এদিকে আরও বেশি নজর দিতে চাই। যাতে টেস্টে আগ্রহ আরও বাড়ে। একটা টেস্ট দলে যারা খেলবে তাদের যেন পূর্ণ মনোযোগ এখানে থাকে।’

এদিকে যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তারাই প্রথম পুরুষ ও নারীদের সমান ম্যাচ ফি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অবশ্য এখনি এটা সম্ভব নয়। মুশফিকসহ তিন ফরম্যাটে খেলা ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় যারা আছেন, তারা মাসে পান ১০ লাখ টাকার ওপরে। ‘এ’ গ্রেডে থাকা একজন ক্রিকেটার শুধু টেস্ট আর ওয়ানডে খেলেই পান সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

সবচেয়ে নিচে ‘ডি’ গ্রেডে থাকা একজন ক্রিকেটার তিন সংস্করণ খেলে বেতন পান মাসে ৩ লাখ টাকা। অথচ জাহানারা আলম, সালমা খাতুনদের বেতন বাড়িয়েও বৈষম্য ঢের। সর্বোচ্চ ‘এ’ গ্রেডে বেতন ৮০ হাজার টাকা। ‘বি’ গ্রেডে বেতন ৬০ হাজার টাকা। ‘ডি’ গ্রেডে বেতন পান ৩০ হাজার টাকা।

পুরুষদের সমান না হলেও নানাভাবে পিছিয়ে থাকা নারী ক্রিকেটারদের সুযোগ সুবিধা আরও বাড়াতে বদ্ধ পরিকর বিসিবি।

জালাল ইউনুস বলেন, ‘আমরা আশা করছি মেয়েদের ক্রিকেট আরও উন্নতি করবে। আগে থেকে অনেক ভালো করছে। তারা আরও পেশাদার হচ্ছে। আমরা আশা করি আরও হবে। তাদেরও কার্যক্রম বাড়ানো উচিৎ। যেহেতু এটা নিয়ে চিন্তাভাবনার আলাদা বিভাগ আছে, বোর্ডেও এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, আমরা চাইব তাদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর। তাদের কাছাকাছি না গেলেও ব্যবধান কমানো উচিৎ।’

‘এটা বোর্ড সভাপতি অনেকবার বলেছেন। উনি এদিকে লক্ষ্য করেছেন। সমান সমান না হলেও আমরা কাছাকাছি যাতে থাকে বা পার্থক্য কমে সেদিকে লক্ষ্য রাখব। বোর্ডেই এটা আলোচনা হবে। বোর্ডে ইতোমধ্যে ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া আছে।’

যদিও ম্যাচ ফি তেও আছে বিশাল পার্থক্য। পুরুষ ক্রিকেটাররা টেস্টে ম্যাচ ফি পান ৬ লাখ টাকা, ওয়ানডেতে ৩ লাখ আর টি-টোয়েন্টির ২ লাখ। অন্যদিকে একটি ওয়ানডে খেলে মেয়েরা পান ২৮ হাজার টাকা। টি-টোয়েন্টির ম্যাচ ফি তার অর্ধেক অর্থাৎ ১৪ হাজার টাকা।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিবকে ছাড়াই জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

Read Next

গায়ানায় আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

Total
1
Share