টেস্ট উন্নতিতে সাকিবের পরিকল্পনার সাথে একমত মাশরাফিও

মাশরাফি বিন মর্তুজা সাকিব আল হাসান
Vinkmag ad

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ধবল ধোলাই হওয়ার পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলছেন এই ফরম্যাটে উন্নতিতে ঘরের মাঠকেই আগে টার্গেট করতে হবে। ঘরের মাঠে কোনো সিরিজ না হারাতে নজর দিতে চান টাইগার দলপতি। জয়ের অভ্যাস তৈরি হলে কিংবা হারার সংখ্যা কমলে বিদেশে ভালো করার আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। তার সাথে পুরোপুরি একমত দেশের অন্যতম সফল ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওয়ানডেতেও ঠিক এভাবেই বদল এসেছে বলে জানান তিনি।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানো দলই। আর এই অবস্থানে যাওয়ার পেছনে বড় কৃতিত্বটা নিশ্চিতভাবেই মাশরাফির। ২০১৪ সালে টানা ব্যর্থতার মধ্যে থাকা বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব পান দ্বিতীয় দফায়। এরপর নেতৃত্ব গুণে বদলে দেন পুরো চিত্রই।

দ্বিতীয় দফা দায়িত্ব নিয়ে ৮১ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে জিতিয়েছেন ৪৭ টিতে। যেখানে ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের নজির ছিল। সেই যে দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের ওয়ানড ফরম্যাট, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

তবে টেস্ট ক্রিকেটে নাজুক অবস্থা থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। ২২ বছর ধরে টেস্ট খেলে ১৩৪ ম্যাচে হেরেছে ১০০ টিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট লুসিয়া টেস্টে আর দিয়ে পূর্ণ হয় সেঞ্চুরি।

জয় পাওয়া ১৮ ম্যাচের ১০ টি ঘরের মাঠে, তবে ম্যাচ খেলতে হয়েছে ৬৯ টি। যেখানে ঘরের মাঠেই জয় নেই সর্বশেষ ৬ ম্যাচে। সময়ের হিসেবে সর্বশেষ জয় এসেছে আড়াই বছরের বেশি সময় পেরোলো। তৃতীয় দফা টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়া সাকিব তাই টেস্ট উন্নতিতে জোর দিতে চান ঘরের মাঠে জয়ের অভ্যস্ততা বাড়িয়ে।

তার সাথে পুরোপুরি সহমত জানিয়ে নিজ বাসভবনে আজ (২৮ জুন) সংবাদ মাধ্যমকে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘একদম শতভাগ একমত। এটা একটু আগেও আমি কথাটা বলছিলাম। ওয়ানডে ক্রিকেটও কিন্তু আমরা এভাবে পরিবর্তন করেছি। আমাদের প্রথম পরিকল্পনা ছিল আমরা ঘরের মাঠে যতটা সম্ভব ম্যাচ জিতবো, ৮০ শতাংশ ম্যাচ আমরা কীভাবে জিততে পারি।’

‘টেস্ট ক্রিকেটেও আমাদের শুরু হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলাম। ঐ জায়গা থেকে একটু পিছিয়ে সমস্যা হয়ে গেছে। তবে হোমে ম্যাক্সিমাম ম্যাচ এখন আমাদের জিততে হবে। হোমে খেললে কিন্তু ড্র করার সুযোগ কমে যাবে। কারণ স্পিনিং উইকেট বানালে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা কমে। আমাদের ম্যাচ জিততে হবে ঐ পরিকল্পনা করে। আমি মনে করি সাকিব আক্রমণাত্মক চিন্তাভাবনা করছে যা ইতিবাচক।’

এদিকে সেন্ট লুসিয়া টেস্ট শেষে সাকিব বলছিলেন, ‘একটা জিনিস নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যেন ঘরের মাঠে না হারি। হয় আমরাও ড্র করব, না হলে জিতব। এই উন্নতিটা যদি হয়, আমাদের হয়তো অনেক দূরে নিয়ে যাবে বাইরের পারফরম্যান্স গুলো। নাও যেতে পারি, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটটা খেলব এটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য।’

‘সেজন্য আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ যে দেশের সিরিজগুলোতে খুব ভালো করে খেলি, আমরা নিশ্চিত করি। হারবো না বলাটা নেতিবাচক শোনাই কিন্তু, আমরা যেন জিতি, না জিতলেই সিরিজটা যেন ড্র ছাড়া অন্য কোনো ফলাফল না হয়।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বাংলাদেশে কয়জন টেস্ট দেখে প্রশ্ন সাকিবের

Read Next

সাকিব অধিনায়ক বলেই বিজয় ইস্যুতে আশ্বস্ত হচ্ছেন মাশরাফি

Total
63
Share