বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
Vinkmag ad

চতুর্থ দিন দুই সেশনের বেশি সময় খেলা মাঠে গড়ায়নি। বৃষ্টি থামলেও ড্যারেন সামি জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় খেলা শুরু করতে বেশ দেরিই হল। তবে তাতে একটুও মন খারাপ হওয়ার কথা নয় বাংলাদেশের। বরং বলা যায় টাইগার ভক্তরাও চেয়েছেন এই বৃষ্টি যেন পুরো টেস্টই ভেসে যায়। কারণ সেন্ট লুসিয়া টেস্টে হারের লজ্জা এড়াতে ঐ একটা উপায়ই ছিল।

নাহ, টাইগার ভক্তদের খুশি করেনি প্রকৃতি। বরং আগেরদিনই প্রস্তুত থাকা পরাজয়ের মঞ্চে মাথা পেতে দিয়েছে বাংলাদেশ। নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটিং ঝড়ে কেবল ইনিংস হারটাই এড়ানো গেছে। বাংলাদেশের দেওয়া ১৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৮ বলের বেশি লাগেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ১০ উইকেটে হারিয়ে সফরকারীদের ১০০ টেস্ট হারের কোটা পূর্ণ করে দিল ক্যারিবিয়ানরা।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

১৩৪ টেস্ট খেলেই হারের সেঞ্চুরি করলো বাংলাদেশ। এই টেস্ট হার দিয়ে ২ ম্যাচ সিরিজটি হারতে হয়ে ২-০ ব্যবধানে।

৬ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। সোহান ১৬ ও মিরাজ কোনো রান না করে অপরাজিত ছিলেন। ইনিংস হার এড়াতে তখনো প্রয়োজন ছিল ৪২ রান।

স্থানীয় সময় ৩ টায় মাঠে গড়ানো দিনের প্রথম ওভারেই কেমার রোচের বলে আউটসাইড এজ হয়ে চারের দেখা পান সোহান। অন্য প্রান্তে মিরাজকে শুরু থেকেই ভুগিয়েছেন আলঝারি জোসেফ।

তাকে সাজঘরে ফেরাতে ৮ বলের বেশি সময় নেননি জোসেফ। দিনের চতুর্থ ওভারে শরীর তাক করে দেওয়া শর্ট বলে দ্বিধায় ভুগে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মিরাজ (২০ বলে ৪)।

মিরাজের বিদায়ের পর ক্রিজে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে টিকে থাকা সোহান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। ৪১তম ওভারে রোচকে পুল শটে দারুণ এক ছক্কার পর ইম্প্রোভামাইজিং স্ট্রেইট ড্রাইভে হাঁকান চার। আলঝারি জোসেফের পরের ওভারে দুই চারে নেন ১২ রান।

যদিও অন্য পাশে এবাদত হোসেনকে (৭ বলে ০) ফেরাতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি জাইডেন সিলসের। ঐ ওভারেই অবশ্য ওয়াইড ও বাই চারে ইনিংস হার এড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ। এক বল পরেই ফেরেন শরিফুল ইসলাম (২ বলে ০)।

আলঝারি জোসেফের পরের ওভারে চার মেরে ৪০ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন সোহান। আর তাতে দলও পায় লিডের দেখা। ফিফটির পর সোহানের ব্যাটে আরও এক ছক্কা। তবে অন্য প্রান্তে খালেদ (০) রান আউট হলে ১৮৬ রানেই থামে বাংলাদেশ ইনিংস। স্বাগতিকদের ১৩ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পথে সোহান অপরাজিত ছিলেন ৫০ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৬০ রানে।

১০ উইকেটে জয় নিশ্চিতের পথে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৬ বলে ৪ ও জন ক্যাম্পবেল ১১ বলে ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে থামে বাংলাদেশ। লিটন দাসের ৫৩ রানের সাথে ৪৬ রান আসে তামিম ইকবালের ব্যাটে। শেষদিকে শরিফুল ইসলাম (২৬) ও এবাদত হোসেন (২১*) না দাঁড়ালে আরও বড় লজ্জায় পড়তে হত।

জবাবে মাঝে ছন্দ হারালেও কাইল মায়ের্সের ১৪৬ রানের দারুণ এক ইনিংসে ভর করে ৪০৮ রানের সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বল হাতে বাংলাদেশী কোনো পেসার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ৫ উইকেট শিকার খালেদ আহমেদের।

১৭৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা বাংলাদেশ ১১৮ রানেই হারায় ৬ উইকেট। বৃষ্টি বাধায় তৃতীয় দিন বেশ বড় একটা সময় মাঠে খেলা গড়ায়নি। তা না হলে হয়তো পরাজয়ের গল্পটা সেদিনই লেখা হত।

৬ উইকেটে ১৩২ রান তুলে ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে দিন শেষ করে টাইগাররা। আজ সোহানের ব্যাটে সেটি এড়ানো গেলেও বড় পরাজয় এড়ানো যায়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ২৩৪/১০ (৬৪.২), তামিম ৪৬, জয় ১০, শান্ত ২৬, বিজয় ২৩, লিটন ৫৩, সাকিব ৮, নুরুল ৭, মিরাজ ৯, এবাদত ২১*, শরিফুল ২৬, খালেদ ১; সিলস ১৪.২-৪-৫৩-৩, জোসেফ ১৫-১-৫০-৩, ফিলিপ ৯-১-৩০-২, মায়ের্স ৮-০-৩৫-২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংসে ৪০৮/১০ (১২৬.৩), ব্র্যাথওয়েট ৫১, ক্যাম্পবেল ৪৫, রেইফার ২২, বোনার ০, ব্ল্যাকউড ৪০, মায়ের্স ১৪৬, জশুয়া ২৯, জোসেফ ৬, রোচ ১৮*, ফিলিপ ৯, সিলস ৫; শরিফুল ১৯-৬-৭৬-২, খালেদ ৩১.৩-৩-১০৬-৫, মিরাজ ৩৯-৮-৯১-৩

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসে ১৮৬/১০ (৪৫), তামিম ৪, জয় ১৩, শান্ত ৪২, বিজয় ৪, লিটন ১৯, সাকিব ১৬, নুরুল ৬০*, মিরাজ ৪, এবাদত ০, শরিফুল ০, খালেদ ০; রোচ ১৩-১-৫৪-৩, জোসেফ ১৪-২-৫৭-৩, সিলস ৮-২-২১-৩

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংসে ১৩/০ (২.৫), ক্যাম্পবেল ৯*, ব্র্যাথওয়েট ৪*

ফলাফলঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০ উইকেটে জয়ী, ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী

ম্যাচ ও সিরিজ সেরাঃ কাইল মায়ের্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অনেক ম্যাচ নিয়ে ‘এ’ দল, এইচপির ব্যস্ততায় ঠাঁসা সূচি

Read Next

সাকিব বলছেন আগেই জানতেন ফল এমনই হবে

Total
6
Share