‘আমরা স্বপ্ন দেখে ঘুমিয়ে যাইনি’

'আমরা স্বপ্ন দেখে ঘুমিয়ে যাইনি'
Vinkmag ad

ধর্মীয় উৎসব কিংবা জাতীয় কোনো স্বীকৃত উপলক্ষ্য না হলেও আজকের দিনটি (২৫ জুন) বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাদা করে জায়গা করে নিবে। একটা সেতুর উদ্বোধনে পুরো দেশ এক হয়ে মিশে গেছে। চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে, সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার সবটুকুই কেড়ে নিয়েছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। দেশের একটা অঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার যে করুণ বাস্তবতা ছিল তার মুক্তি মিলল আজ থেকে। উৎসবে পরিণত হওয়া এই উপলক্ষ্যে উদযাপন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের উপস্থিতিতে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেন রঙ লেগেছিল। আলোক সজ্জায় মেতেছে গত দুইদিন ধরে। আজ সকাল থেকে নানা আয়োজন রাখে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বোর্ডের পরিচালক, কর্মকর্তা, ঢাকায় চলমান বাংলাদেশ টাইগার্স ক্যাম্পের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ছাড়াও যাতে শরীক হয় সংবাদ কর্মীরা।

সকাল ৯ টা থেকেই আনাগোনা বাড়তে থাকে মিরপুরে। যেখানে বড় স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সশরীরে পদ্মা সেতু উদ্বোধন কার্যক্রম সরাসরি দেখানো হয়। বেলা ১১ টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে বিশাল এক কেক কেটে উদযাপনে পূর্ণতা দেন বিসিবি সভাপতি।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক, খালেদ মাহমুদ সুজন, ইফতেখার রহমান মিঠু, ফাহিম সিনহা, ওবেদ রশীদ নিজাম সহ বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন।

এ দিন বিশেষ দোয়া মাহফিলের সাথে গরীব ও এতিম শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচীও পালন করে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পরে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেন বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। তিনি জানান পদ্মার মতো খর স্রোতা নদীতে সেতু নির্মাণের যে চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতে নেন তা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মুক্তির সংগ্রাম ছিল।

তার ভাষায়, ‘স্বপ্ন তো পৃথিবীর সব মানুষেরই থাকে। কিন্তু আমরা এই স্বপ্ন দেখে কিন্তু ঘুমিয়ে যাইনি। কিছু স্বপ্ন আছে, যেটা বাস্তবায়নের জন্য মানুষ ঘুমাতেও পারে না। সারা দিন-রাত এটা নিয়ে চিন্তা করে। এই সমস্ত স্বপ্ন সবাই দেখতেো পারে না।’

‘এটার জন্য যে সাহস, মানসিকতা সবার থাকে না। এই ধরনেরই একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু, সেটা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রাম। ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা স্বপ্ন দেখেছিলেন দক্ষিণ পশ্চিমের মানুষের মুক্তির সংগ্রাম।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাঝপথে বিশ্ব ব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিলেও নিজস্ব অর্থায়নে কঠিন এই প্রকল্পের কাজ শেষে করে সরকার। পাপনের মতে এটা শেষ করতে না পারলে তা দেশের জন্য লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়াতো।

তিনি যোগ করেন, ‘এটাতে কোনো সন্দেহ নেই পদ্মা সেতু না হলে কী হতো! বিশ্বব্যাংক বন্ধ করে দিল, সবাই এটা নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া শুরু করল। থেমেও তো যেতে পারত। তাতে হতোটা কী। এমন কত প্রকল্পই তো হয় না। এটা আমাদের জাতির জন্য লজ্জার একটা বিষয় হতো। এই পদ্মা সেতু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বাঙালি জাতির দাসত্বের শৃঙ্খলার শিকল ভেঙে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার স্বপ্ন।’

‘এবং এই স্বপ্ন বা এই গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। এই গল্পের প্রতিটা পাতায় যে নাম লেখা আছে, সেটা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই স্বাধীনতার স্বপ্নটা যেমন একমাত্র বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই সম্ভব ছিল দেখা ও বাস্তবায়ন করা। পদ্মা সেতুও একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষেই সম্ভব, আর কারো পক্ষে না। এটা দ্বিতীয় কেউ চিন্তাই করতে পারে না। এটা আমাদের গৌরব, এটা আমাদের মর্যাদা, এটা আমাদের অহংকার।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

২০২২ এ প্রথম ব্যাটার হিসাবে লিটনের ‘১০০০’

Read Next

সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা, অজিদের সান্ত্বনার জয়

Total
9
Share