আপাতত শেষ হল রিচার্ড স্টনিয়ারের বাংলাদেশ অধ্যায়

বাংলাদেশের মানুষকে নির্বোধ বলছেন স্টনিয়ার, ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী ওবেদ নিজাম
Vinkmag ad

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০২২ যুব বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে হতাশ করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শেষ করেছে ৮ম স্থানে থেকে। বিশ্বকাপ শেষে যার প্রভাব পড়েছে কোচিং প্যানেলের বিদেশী সদস্যদের উপর। ৪ বছর যুব দলের সাথে কাজ করা ফিটনেস ও কন্ডিশনিং কোচ রিচার্ড স্টনিয়ারের সাথে চুক্তি নবায়ণ করেনি বিসিবি।

২০২০ সালে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ যুব দল জিতেছিল বিশ্বকাপ। যার পুরষ্কার হিসেবে প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সাথে ২০২৩ ও রিচার্ড স্টনিয়ারের সাথে ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

কিন্তু আগেরবার শিরোপা জেতানো কোচরা এবারের যুব বিশ্বকাপে দলকে প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিসিবিও তাদের নিয়ে আগ্রহ হারায়।

২০২৩ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ থাকায় নাভিদ নেওয়াজ অবশ্য শ্রীলঙ্কার সহকারী কোচের প্রস্তাব পেয়েও বিসিবিকে জানায়। বিসিবি চাইলে তিনি শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল নয়, বাংলাদেশ যুব দলের কোচ হিসেবেই থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তবে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও বিসিবির কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে নিজেই ইস্তফা দিয়ে নিজ দেশের জাতীয় দলে যুক্ত হন।

তবে স্টনিয়ারের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খানিক আলাদা। চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে পেরেছেন এই ইংলিশ। মেয়াদ শেষে তাকে আর নিয়োগ দেয়নি বিসিবি। যুব দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেস ইস্যুতে মানসিকতা দারুণভাবে বদলে দেন এই ইংলিশ।

পেছন থেকে ক্রিকেটারদের নানাভাবে অনুপ্রাণিত করে রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছেন। ক্রিকেটারদের সাথে মিশে বাংলা শিখেও দেশের ক্রিকেট ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

ইতোমধ্যে আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে সবকিছু ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে বিসিবি। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রধান কোচ ব্যাটিং কোচ ও ফিটনেস-কন্ডিশনিং কোচ।

প্রধান কোচ হিসেবে স্টুয়ার্ট ল, ব্যাটিং কোচ ওয়াসিফ জাফর। নতুন ফিটনেস ও কন্ডিশনিং কোচও বিদেশি। তবে এখনই নাম প্রকাশ করতে চায় না গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ।

ম্যানেজার আবু ইনাম মোহাম্মদ কায়সার ‘ক্রিকেট৯৭‘ কে বলেন, ‘যুব দলের কার্যক্রম শুরু হবে ঈদের পর। আপাতত কোনো কিছু সেভাবে গুছিয়ে আনা হয়নি। বিদেশি কোচরাও সব পরিকল্পনা ঠিক হলেই আসবেন। স্টুয়ার্ট ল ও ওয়াসিম জাফরের কথা তো আগেই জানেন।’

‘আর রিচার্ড স্টনিয়ারের সাথে আমরা চুক্তি নবায়ণ করিনি। নতুন ফিটনেস ও কন্ডিশনিং কোচও বিদেশি। কিন্তু এখনো সব পুরোপুরি চূড়ান্ত নয় বলে নামটা বলা যাচ্ছে না।’

এদিকে আপাতত বাংলাদেশ অধ্যায় ইতি ঘটলেও স্টনিয়ার জানিয়েছেন এ দেশের মানুষের ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ। বর্তমানে ইংল্যান্ডে নিজের ফিটনেস সেন্টার থেকে চুক্তিভিত্তিক ব্যক্তিগত কিছু প্রকল্পে কাজ করছেন।

‘ক্রিকেট৯৭’ কে বলেন, ‘এখানে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। বর্তমানে সুইজারল্যান্ড আছি। এক সপ্তাহের একটা ব্যক্তিগত প্রকল্প নিয়ে এখানে এসেছি। বিসিবি থেকে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তবে এসব ব্যাপার না। বাংলাদেশে কাটানো ৪ বছর দারুণ উপভোগ করেছি। অমন একটা দেশের লোকজনের কাছ থেকে পেয়েছি সমর্থন ও ভালোবাসা।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

জালমি ট্যালেন্ট হান্টের কোচিং প্যানেলে তারার মেলা

Read Next

চতুর্থ ওয়ানডেতে খেলবেন মেন্ডিস, অনিশ্চিত গুনাথিলাকা

Total
25
Share