অ্যান্টিগা টেস্টে না থেকেও সাকিবের বাহবা কুড়ালেন তাসকিন

শরিফুল ফিরে আসছেন দেশে, তাসকিনের সিদ্ধান্ত পরে
Vinkmag ad

নিজেকে ভেঙে গড়ার উদাহরণ হিসেবে তাসকিন আহমেদের নাম বলা যায় অনায়েসেই। মাঝে হারিয়ে যেতে বসেছিলেন, তবে মানসিকতা ও ফিটনেসে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন এনে খেলছেন তিন ফরম্যাটে। বাংলাদেশের পেসারদের ধ্যান ধারণাই বদলে দিয়েছেন বলছেন খোদ সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের দীর্ঘশ্বাস ছিল পেস বোলিং বিভাগ। ঘরের মাঠে স্লো ও টার্নিং উইকেটে প্রাধান্য পেতো না। পেস বান্ধব বিদেশের কন্ডিশনে আবার হুট করে মানিয়ে নিতে পারতো না।

এমন পরিস্থিতিতে কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ও সদ্য সাবেক হওয়া টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক ঘরের মাঠে পেসারদের সুযোগ দিতে থাকেন। মূলত ম্যাচ খেলে অভ্যস্ত হওয়া ও বিদেশে মানিয়ে নিতে এমন উদ্যোগ।

আর এই মিশনে তাসকিন নিজের হাত তুলেছেন সবার আগে। নিজেকে নিংড়ে দিয়ে উদাহরণ হয়েছেন অন্যদের জন্য। ২০২১ সালে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন (এর আগে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন ২০১৭ সালে)। ফিরেই শ্রীলঙ্কায় পাল্লেকেলেতে প্রথম টেস্টে এক ইনিংসেই বল করেন ৩০ ওভার। পরের টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩৪.২ ওভার।

বাংলাদেশের পেসারদের জন্য যা নিশ্চিতভাবেই কঠিন কাজ ভাবা হত। তাসকিন এরপর যে কয়টা ম্যাচই খেলেছেন লম্বা সময় বল করেছেন। তার দেখানো পথে টেস্টের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে শুরু করে বাকিরাও।

যার সুফল ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। চলতি বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয়ে বড় অবদান পেসারদের। ব্যাটিং ব্যর্থতায় দল খুব বেশি সফল না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে দারুণ বোলিং করছে তাসকিন, শরিফুল,এবাদত, খালেদরা।

সদ্য সমাপ্ত অ্যান্টিগা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭ উইকেটে হারলেও পেসাররা ছিলেন দুর্দান্ত। ক্যারিবিয়ানদের নেওয়া ১৩ উইকেটের ৮ টিই নিয়েছেন খালেদ, এবাদত ও মুস্তাফিজুর রহমান মিলে।

ম্যাচ শেষে পেসারদের একটা গ্রুপ হয়ে ভালো করার পেছনে তাসকিনের অবদান তুলে ধরেন অধিনায়ক সাকিব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘শেষ অনেক দিন ধরেই পেস বোলাররা ভালো বোলিং করছে এবং তাদের মধ্যে চেষ্টাও অনেক বেশি, এটা আমার কাছে মনে হয় সবথেকে বেশি দরকার। তারা বিশ্বাস করে যে, তারা অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে। তো এই বিশ্বাসটা তাদের আছে এবং আমার ধারণা তারা চেষ্টা করে। তারা অনেক পরিকল্পনা করে। তারা একসাথে থেকে পরিকল্পনা করে একটা কাজ করার চেষ্টা করছে, যে কারণে আসলে তারা এত বেশি সফল হচ্ছে।’ 

‘একটা বড় কৃতিত্ব দিতে হয় আসলে তাসকিনকে। তাসকিন আসলে শেষ দুই-তিন বছরে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কিভাবে আসলে একজন পেস বোলার বড় হতে পারে কিংবা সামনের দিকে এগোতে পারে এবং ব্যাকরণগত কিভাবে উন্নতি করতে পারে। আমার মনে হয়, তাকে অনেকেই অনুসরণ করে। আমাদের পেস বোলারদের ভালো করার পেছনে এটা একটা বড় কারণ।’

‘এর আগে হয়তো কেউ এভাবে কঠিন পরিশ্রম করে, ম্যাচের পর ম্যাচ ৩০-৪০ ওভার একটানা একই পেসে বোলিং করে আসেনি। এটা আসলে এর আগে খুব বেশি হয়নি, তাসকিন করার আগে পর্যন্ত। হয়তো করেছে, টাইম বাই টাইম বা পার্ট বাই পার্ট কিন্তু এতবেশি কেউ করেনি। তাসকিনকে অনেক বেশি ক্রেডিট দিতে হয়, এই চিন্তা ধারাটা পরিবর্তন করার পেছনে আমার মনে হয় তার অনেক বড় ভূমিকা আছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সেন্ট লুসিয়ায় পৌঁছে সিদ্ধান্ত হবে মুমিনুলের বিশ্রাম নিয়ে

Read Next

নিসাঙ্কার সেঞ্চুরিতে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা

Total
4
Share