শূন্যের মিছিল ঠেলে প্রত্যাবর্তনে ঝলক দেখালেন মুস্তাফিজ

শূন্যের মিছিল ঠেলে প্রত্যাবর্তনে ঝলক দেখালেন মুস্তাফিজ
Vinkmag ad

৪ বছর আগে অ্যান্টিগা টেস্টে ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জায় পুড়তে হয় বাংলাদেশকে। যে কারণে এবার আরেক দফা স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে মাঠে নামার আগে ঘুরেফিরে এসেছে সে প্রসঙ্গ। কিন্তু ম্যাচ পূর্ববর্তী দিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন এবার উইকেট ভিন্ন কিছুর আভাস দিচ্ছে। তবে গতকাল (১৬ জুন) শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের উইকেট ৪ বছর আগে ফিরিয়ে নিয়ে যায় টাইগারদের।

আগের বার কেমার রোচ তোপে অমন বিধ্বস্ত হতে হয়েছে। তবে এবার ম্যাচের আগেরদিন পর্যন্ত এই পেসারের স্কোয়াডেই ছিলেন না। যদিও শেষ মুহূর্তে ফিটনেস টেস্টে পাশ করে একাদশেই ঢুকে পড়েন। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে সবসময় জ্বলে ওঠা রোচ আরেকবার ঝলক দেখালেন। তাতেই পুড়ে ছারখার বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইন আপ।

তার দেখানো পথে হেঁটে উইকেট শিকারে যোগ দেন আলঝারি জোসেফ, কাইল মায়ের্সরা। টস হেরে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ অলআউট ১০৩ রানে। সাকিবের ৫২ রানের সাথে তামিমের ২৯ রান বাঁচিয়েছে মান। ৬ ব্যাটার ফিরেছেন শূন্য রান করে, তাতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ডাকের রেকর্ডে আরেকবার নাম লেখালো টাইগাররা।

তবে নানা নাটকীয়তা শেষে ১৬ মাস পর টেস্ট খেলতে নামা মুস্তাফিজুর রহমান বল হাতে দেখালেন ঝলক। ক্যাচ মিসের ভীড়ে অবশ্য নামের পাশে নেই একটির বেশি উইকেট। বাকিদের সামলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ৯৫ রান তুলে। পিছিয়ে আছে ৮ রানে।

স্বাগতিকদের হয়ে দারুণ টেস্ট মেজাজে খেলা অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট অপরাজিত ৪২ রানে। তাকে সঙ্গ দেওয়া এনক্রুমাহ বোনার অপরাজিত আছেন ১২ রানে।

দিনের প্রথম ঘন্টাতেই বাংলাদেশকে চেপে ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসাররা। রোচের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয় (১ বলে ০)। স্লিপে ক্যাচ দিয়ে এই নিয়ে ক্যারিয়ারে ১১ ইনিংস ব্যাট করতে নেমে ৫ বারই শূন্য রানে ফিরেছেন।

নিজের পরের ওভার করতে এসে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা ডেলিভারিতে নাজমুল হোসেন শান্তকে (৫ বলে ০) বোল্ড করেন রোচ। অন্য পাশে তামিম বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে পারেননি মুমিনুল হক।

অধিনায়কত্ব ছেড়ে নিজের উপর চাপ কমাতে চাওয়া এই বাঁহাতিকেও খালি হাতে ফেরান জাইডেন সিলস। ১৬ রানেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে লিটন দাস ও তামিমে আশা দেখেছিল টাইগার ভক্তরা। তবে জুটিতে থামে ২৫ রানেই। ততক্ষণে অবশ্য দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রান পূর্ণ হয় তামিমের।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

১৯ রান দূরে থেকে ক্রিজে আসেন এই ওপেনার, রোচের করা ৭ম ওভারে ফ্লিক শটে ৩ রান নিয়ে ছুঁয়েছেন মাইলফলক। তার আগে এই কীর্তি গড়েন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের ১৪৯ ইনিংস লাগলেও তামিম ছুঁয়েছেন ১৩০তম ইনিংসে।

মাইলফলক ছুঁয়ে অবশ্য বেশি দূর যেতে পারেননি। আলঝারি জোসেফের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৪৩ বলে ৪ চারে ২৯ রান করে।

এক ওভার পর আক্রমণে এসেই কাইল মায়ের্সের জোড়া শিকার। ১২ রান করা লিটনের সাথে খালি হাতে ফেরান নুরুল হাসান সোহানকে। ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লজ্জার সামনে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক সাকিবের ব্যাটে অবশ্য লাঞ্চের আগে আর কোনো বিপদ ঘটেনি। ৬ উইকেটে ৭৬ রান তুলে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

লাঞ্চের পর বাংলাদেশ ইনিংস স্থায়ী হয় ৭.৫ ওভার। তাতে এক পাশে যেটুকু রান তোলার তুলেছেন সাকিবই। ৯ম ব্যাটার হিসেবে আউট হন ৬৭ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় ৫১ রান করে।

বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার এ দিন শূন্য রানে আউট হন, যা টেস্টে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ডাকের রেকর্ড। গত মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টেও এক ইনিংসে বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হন।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

সফরকারীদের ১০৩ রানে অলআউট করার পথে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট সিলস ও জোসেফের। দুইটি করে নেন রোচ ও মায়ের্স।

জবাবে বাংলাদেশী বোলাররা দারুণ পরীক্ষা নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারদের। চা বিরতির আগে ১৫ ওভার খেলে বিনা উইকেটে তোলে ১৫ রান।

নতুন বলে বেশ উজ্জ্বল ছিলে খালেদ আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন মুস্তাফিজ। লেগ স্লিপে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের (তখন ০ রানে) সহজ ক্যাচ মিস করেন মুমিনুল।

দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যাথওয়েট রানের খাতা খোলেন ৬ষ্ঠ ওভারে। মুস্তাফিজ নিজের করা প্রথম ৪ ওভারই দেন মেডেন, তার করা প্রথম স্পেলটি ছিল এমন ৫-৪-১-০।

পরে আক্রমণে আসেন পেসার এবাদত হোসেনের সাথে অধিনায়ক সাকিব ও মিরাজ। চা বিরতির আগে ব্র্যাথওয়েট ৫৫ বলে ৯ ও ক্যাম্পবেল ৩৬ বলে ১ রানে অপরাজিত।

চা বিরতির পর কিছুটা রানের গতি বাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরবোর্ডে। নিজের দ্বিতীয় স্পেল করতে এসে অবশ্য উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। ২৬তম ওভারের প্রথম বলে সামনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ক্যাম্পবেলের।

তবে বল ততক্ষণে স্টাম্পে, ৭২ বলে ২৪ রানেই থামেন এই বাঁহাতি। ব্র্যাথওয়েটের সাথে ভাঙে ৪৪ রানের জুটি।

নিজের পরের ওভার করতে এসে আরও দুর্দান্ত মুস্তাফিজ। নতুন ব্যাটার রেমন রেইফারের দেওয়া ক্যাচ দ্বিতীয় স্লিপে তালুবন্দী করতে পারেনি লিটন। পরের বলে লেগ স্লিপে লিটন লুফে নিতে পারেননি ১৬ রানে ব্যাট করা ব্র্যাথওয়েটের দেওয়া হাফ চান্স। তার আগেই অবশ্য দলীয় রান ৫০ পেরোয় ক্যারিবিয়ানদের।

রেইমন রেফার অবশ্য এবাদতের শিকার হয়ে থামেন ১১ রানে। ৭২ রানে ২ উইকেট হারালেও ব্র্যাথওয়েট-ক্রুমাহ বোনার দিনের বাকি সময়ে আর কোনো বিপদে ফেলেননি দলকে।

২ উইকেটে ৯৫ রানে দিন শেষ করার পথে ব্র্যাথওয়েট ১৪৯ বলে ৪ চারে ৪২ ও বোনার ৪৩ বলে ১ চারে ১২ রানে অপরাজিত আছেন। তিন স্পেলে ১২ ওভার করা মুস্তাফিজের দিন শেষ ফিগার ১২-৬-১০-১! ১২ ওভারে ৪ মেডেনসহ ১৮ রান খরচায় এক উইকেট এবাদতের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম দিন শেষে):

বাংলাদেশ ১০৩/১০ (৩২.৫), তামিম ২৯, জয় ০, শান্ত ০, মুমিনুল ০, লিটন ১২, সাকিব ৫১, নুরুল ০, মিরাজ ২, মুস্তাফিজ ০, এবাদত ৩*, খালেদ ০; রোচ ৮-২-২১-২, সিলস ১০-২-৩৩-৩, জোসেফ ৮.৫-২-৩৩-৩, মায়ের্স ৫-২-১০০-২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৫/২ (৪৮), ব্র্যাথওয়েট ৪২*, ক্যাম্পবেল ২৪, রেইফার ১১, বোনার ১২*; মুস্তাফিজ ১২-৬-১০-১, এবাদত ১২-৪-১৮-১

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ রানে পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাঁচ হাজারি ক্লাবে তামিম ইকবাল

Read Next

বাংলাদেশ ও অ্যান্টিগাকে একই সুতোয় বেঁধে রোচ জানালেন সাফল্যের রহস্য

Total
30
Share