‘মুস্তাফিজ দেশের সম্পদ, তাঁকে খেলাতে হবে হিসাব করে’

যতদিন বায়ো-বাবল আছে ততদিন টেস্ট খেলবেন না মুস্তাফিজ
Vinkmag ad

মুস্তাফিজুর রহমান টেস্ট খেলতে আগ্রহী নন। করোনার প্রভাবে বায়ো-বাবলকে কারণ দেখিয়ে বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েও দেন। দেড় বছর এভাবেই কেটে গেছে। তবে বাকি পেসারদের চোটে তাঁকে আবার ফেরাতে বাধ্য হয় বিসিবি। যদিও তাঁর সাথে কাজ করা দেশের অন্যতম সেরা পেস বোলিং কোচ মাহবুব আলি জাকি বলছেন সব ফরম্যাটে খেলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা আগেই সাজিয়েছেন মুস্তাফিজ।

২০১৯ সালে কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো দায়িত্ব নিয়েই বাঁহাতি এই পেসারকে জানিয়ে দেন লাল বলে আরও শিখতে হবে। এমনকি দল থেকেও পড়তে হয় বাদ। ঐ সময় বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন ওটিস গিবসন।

টেস্ট থেকে বাদ পড়া মুস্তাফিজ নিজেকে শাণ দেওয়ার সুযোগ পান গিবসনের কাছে। ডোমিঙ্গোও তাতে দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। গিবসন-মুস্তাফিজ জুটি বেঁধে অন্যান্য কাজের ফাঁকে লাল বলে ফেরা নিয়েও ভালো সময় কাটান। করোনা যুদ্ধ শেষে সে ধারাবাহিকতাতেই ফেরেন টেস্ট দলে।

তবে ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শেষে নিজেই বোর্ডে জানান যতদিন বায়ো-বাবল থাকবে ততদিন টেস্ট খেলবেন না। আর সে অনুসারে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে পর্যন্ত ছিলেন না টেস্ট দলে, লাল বলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে।

এদিকে টেস্ট দলের মূল পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম চোটে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফেরেন। আর তাতেই মুস্তাফিজের টেস্ট খেলা নিয়ে নাটকীয়তার শুরু। তার টেস্ট না খেলাকে নেতিবাচকভাবেই তুলে ধরেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সহ অন্য বোর্ড কর্তারা। যার ফল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট দলে ডেকে নেওয়া।

প্রস্তুতি ম্যাচে ৫ ওভার বল করে ৩ উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজ যেন জানিয়ে রাখলেন বিরতিটা দেড় বছরের হলেও তিনি প্রস্তুতই আছেন লাল বলে নিজেকে উজাড় করে দিতে। গত জানুয়ারিতে ফাঁকা সময়ে কাজ করেছেন দেশের স্বনামধন্য পেস বোলিং কোচ জাকির সাথে। লাল বলে নিজেকে প্রস্তুতের মিশন নাকি সেখানেই শুরু হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে মুস্তাফিজের এই কোচ বলেন,

‘দেখেন মানসিকভাবে ফিট না হলে সে আসলে ঐ কাজটা (ফাঁকা সময়ে আলাদা কাজ) করতো না। সে কিন্তু এটার জন্যই তৈরি হচ্ছিল। সে নিজেও বলেছে আমি সব ফরম্যাটে খেলবো। কিন্তু এর মানে এই না যে আপনি তারে টানা দুই-তিনটা সিরিজ খেলাবেন। তাকে খেলাতে হলে আপনাকে ম্যানেজ করে খেলাতে হবে। টিম ম্যানেজমেন্টের দিক থেকে এ জায়গায় আরও স্পষ্ট হলে ভালো।’

‘আসলে লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেট খেলার জন্যই আমাদের ঐ আলাদা কাজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লঙ্গার ভার্সনে কিন্তু ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির চেয়ে বেশি সময় পাওয়া যায় ছন্দ ফিরে পেতে কিংবা নিজেকে মানিয়ে নিতে। এখানে গতি এদিক সেদিক করার ব্যাপার থাকে, ৫ ওভার ১০ ওভারের স্পেল সামলাতে হয়। আলাদা আলাদা সেশন থাকে, মনযোগ ধরে রাখতে হয়। আসলে এসব নিয়েই আলোচনা হয়েছে।’

তিন ফরম্যাটেই মুস্তাফিজের খেলা নিয়ে কোনো সমস্যা দেখেন না জাকি। বরং বাঁহাতি এই পেসারকের দেশের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সে ক্ষেত্রে টানা না খেলিয়ে বিশ্রাম দেওয়া এবং এই ইস্যুতে মুস্তাফিজ-টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা পরিষ্কার থাকা উচিৎ বলেও মত দেন তিনি।

তার ভাষ্য,

‘বোলিং কোচ, ট্রেনার ও ফিজিও বসে যদি জিনিসটা ডিজাইন করে আমার মনে হয় বেটার হবে। আমার কাছে মনে হয় মুস্তাফিজ লম্বা স্পেল করতে পারে। তার সেই ফিটনেস আছে। কিন্তু যেটা বললাম লম্বা খেলাতো, এবার আরও সিরিজ আছে। এবার আমাদের বাইরে অনেক সিরিজ। সুতরাং আমার কাছে মনে হয় এদের টাইম টু টাইম কেয়ার করা উচিৎ।’

‘আমার কাছে মনে হয় (তিন ফরম্যাটে মুস্তাফিজের কন্টিনিউ করা)। ঐ যে বললাম আমাদের কাছে প্লেয়ারই আছে কয়টা। জিততে হলে এদের সব জায়গায় খেলাতে হবে। আমাদের সতর্ক হতে হবে। আমাদের পুরো ক্যালকুলেটিভ হতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের বড় সম্পদ। এমন না যে আরও ১০ টা আছে। এই এক-দুইটা খেলোয়াড়ই আছে। আমরাও যখন কাজ করি তাদের সাথে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে হয়।’

শুধু মুস্তাফিজের না দলের জন্য অন্যতম ভরসার নাম হয়ে ওঠা তাসকিন, শরিফুলদেরও মেপে মেপে খেলানোর পক্ষে এই কোচ। বাংলাদেশের জয়ের প্রয়োজনে এসব ক্রিকেটারের বিকল্পও দেখেন না। যে কারণে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে খেলানোর পরামর্শ তার।

তিনি যোগ করেন,

‘এদের খেলাতে হলে, এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাটে নিতে হলে প্রস্তুতি, ম্যানেজমেন্ট সব ক্ষেত্রেই ক্যালকুলেটিভ হতে হবে। তাকে কয়টা ম্যাচ খেলাবেন, কোন ম্যাচে বিশ্রাম দিবেন, কীভাবে রিহ্যাবে আনবেন সব কিছু হিসাব করেই তাকে খেলাতে হবে। মুস্তাফিজ, তাসকিন, শরিফুল, এবাদত, খালেদ ঢুকেছে।’

‘এ ক্ষেত্রে সিনিয়র দুইজন যেহেতু আছে বাকিদের ম্যানেজ করে খেলাতে হবে। তরুণ যারা আছে তারা অনেক ম্যাচ খেলতে পারবে কারণ তারা ঢুকেছেই মাত্র কিছুদিন হল। সিনিয়রদের ম্যানেজ করে খেলাতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক হতে হবে। কারণ এদের তো আপনাকে খেলাতে হবে, এদের না খেলালে বাংলাদেশ জিতবে না।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আইপিএলের মিডিয়া রাইটস বিক্রি হল রেকর্ড দামে

Read Next

৪৩ রানে অলআউট হওয়া ভেন্যুতে টাইগারদের নিয়ে আশাবাদী ডোমিঙ্গো

Total
1
Share