ম্যাচ চলাকালীন মাঠে গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ!

ম্যাচ চলাকালীন মাঠে গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ!
Vinkmag ad

একই মাঠে দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচ চলছে সাথে বেশ কিছু গরু-ছাগল ঘোরাঘুরি করছে, ঘাস খাচ্ছে। এমন দৃশ্য ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে হয়তো আপনি কল্পনা করতে রাজি না। কিন্তু ঠিক এটাই হয়েছে যশোর দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে, উপশহর মাঠে।

জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি পেসার, যশোরের ছেলে সৈয়দ রাসেল নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। গরু-ছাগল নিয়ে ম্যাচ চলাকালীন দৃশ্য দেখা যায় ঐ ভিডিওতেই।

যার ক্যাপশনে তিনি লিখেন, ‘লজ্জা লাগছে তবুও বলি, এটা হচ্ছে যশোর দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ-এর কোন একটা ম্যাচ এর ভিডিও চিত্র। আর ওদিকে দেখলাম রাজশাহীতে থিসারা পেরেরা বোলিং করছে আর সমানে পিটাচ্ছে আলাউদ্দিন বাবু। এই হল আমাদের যশোরের ক্রিকেটের হাল। দেখার বা কৈফিয়ত নেওয়ার কেউ নেই।’

তার দেওয়া পোস্টের সূত্র ধরে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থায় যোগাযোগ করা হয়। অনেকটা অস্বীকারই করার চেষ্টা করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবীর। তার মতে দল বেশি হওয়াতে দুই ভাগে খেলানো হচ্ছে, যে কারণে বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যা। আর তাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের, যার প্রভাবই পড়েছে উপশহর মাঠে গরু-ছাগল কান্ডের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সেকেন্ড ডিভিশন টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে গত ২৮ তারিখ। এখানে দুইটা পার্ট আছে। একটা টায়ার-ওয়ান আর টায়ার-টু। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি টুর্ণামেন্টে ১৬ টার বেশি দল রাখা যাবে না, যেহেতু আমাদের সেকেন্ড ডিভিশনে ২৮টি দল, সেজন্য আমরা ১৬টা টায়ার-ওয়ানে রেখে বাকি ১২টা দল টায়ার-টু করে দিয়েছি। মূল স্টেডিয়ামে টায়ার ওয়ান এর খেলাগুলো চলছে এবং উপশহর মাঠে টায়ার-টু এর ম্যাচগুলো হচ্ছে।’

‘আমাদের সেকেন্ড ডিভিশনে দুইটা টায়ার মিলিয়ে সর্বমোট ২৮ দল। যেখানে ৬০টি মতো ম্যাচ আয়োজক করতে হয়। এগুলো সোজা কথা নয়। এর সঙ্গে ক্রিকেটে যশোর প্রিমিয়ার লিগ, ফার্স্ট ডিভিশন, থার্ড ডিভিশনের মতো টুর্নামেন্ট তো আছেই।’

স্পষ্ট ভিডিও থাকা স্বত্বেও ইয়াকুব কবীর তা অস্বীকার করতে চান, ‘না, না এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। এগুলো প্রোপাগান্ডা। গরু-ছাগল ঢোকার কোনো কায়দা (উপায়) নেই। সেখানে তো ডাবল গেট করা আছে। অনেক সময় দেখা যায় খেলা না থাকলে অনেকে ঘাস কেটে নিয়ে যায় গরু-ছাগলের জন্য, খেলার সময় এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই।’

পরে অবশ্য এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে উল্লেখ করেছেন, ম্যাচ সংখ্যা বেশি হওয়াতে ভুল ত্রুটি হতে পারে বলে দিয়েছেন মত।

তিনি বলেন, ‘এতগুলো খেলা চলছে একটু ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে। কিন্তু করোনার শুরুর সময় যখন সারা বাংলাদেশ খেলা বন্ধ, তখন যশোরে খেলা চলেছে এবং সবগুলোই আমরা শেষ করেছি। এখন যারা এগুলো নিয়ে কথা বলছে, তারা তো বলে না যে ওই অসময়ে কিভাবে আমরা টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করেছি? যশোরই একমাত্র জেলা যেখানে সবগুলো লিগ নিয়ম করে মাঠে গড়ায়। তারা কিন্তু এগুলো নিয়ে কথা বলে না।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাইফউদ্দিন-আফিফদের অসেচতনতা ও বোর্ডের খানিক উদাসীনতা

Read Next

দাপট দেখিয়ে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল আফগানিস্তান

Total
1
Share