‘ডলার’ ম্যান রেডফোর্ডের সাথে সম্পর্কের ইতি টানছে বিসিবি

ক্যারিবিয়ানদের দেখানো টেমপ্লেট আফিফ-সুমনদের দেখিয়েছেন রেডফোর্ড
Vinkmag ad

বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের প্রধান কোচ টবি রেডফোর্ডকে নিয়ে ভালোই বিপাকে পড়েছে বিসিবি। পারিশ্রমিক সহ নানা সময়ে তার বাড়তি চাহিদায় বিরক্ত দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে তার সাথে আর সম্পর্ক এগোচ্ছে না।

২০২০ সালে ইংলিশ এই কোচের সাথে চুক্তি করে বিসিবি। তবে শুরু থেকেই তার অদ্ভুত সব চাহিদার সামনে পড়ে। যেখানে ব্যক্তিগত ট্রেনারও সাথে রাখতে চেয়েছিল। তবে এসবের বাইরেও আর্থিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করে। চুক্তির বাইরে বাড়তি অর্থ দাবি করেছিল।

কিন্তু বর্তমানে নতুন এক সংকটে ফেলেছে বিসিবিকে। মাঝে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ায় এইচপির সাথে কাজ করা হয়নি খুব একটা। যদিও চলতি মাসে শুরু হওয়া ক্যাম্পের মাঝপথে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে আসার আগেই চুক্তির পুরো পারিশ্রমিক ডলারে নিজের একাউন্টে চেয়ে বসে।

অথচ বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুসারে এমনটা করার সুযোগ নেই। সেসব নিয়ে বনিবনা না হওয়াতেই তার সাথে সম্পর্কের ইতি টানতে যাচ্ছে বিসিবি।

 ‘ক্রিকেট৯৭’ কে বিসিবির একটি সূত্র বলেন, ‘টবি রেডফোর্ড আসার কথা ছিল, কিন্তু সে এখন নতুন করে দাবি তুলেছে একটা। সেটা হল তার চুক্তির যে অর্থ সেটা পুরোটা ডলারে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারছি না। কারণ বাংলাদেশ সরকারই এটা অনুমোদন দেয় না।’

‘সরকারি নিয়ম অনুসারে তার পারিশ্রমিকের ৮০ শতাংশ বিদেশি একাউন্টে দেওয়া যাবে৷ বাকি ২০ শতাংশ বাংলাদেশে কোনো একাউন্টে দিতে হবে। টবি সেটা মানছে না। সে চাচ্ছে পুরোটা ওর বিদেশি একাউন্টে নিতে। তাকে বোঝানোও যাচ্ছে না।’

‘সে বলছে প্রথমবার তো তাকে পুরোটা বিদেশি একাউন্টে দিয়েছি। কিন্তু ব্যাপারটা হল প্রথমবার ইমার্জেন্সি কারণ দেখিয়ে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দিয়েছি। এখন এটা আর করা যাবে না। এবার সেটা করতে হলে আবার সরকারের কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে।’

এর আগেও আর্থিক ইস্যুতে অহেতুক সব দাবি ছিল এই ইংলিশের। সব মিলিয়েই এবার বিসিবি কঠোর হতে বাধ্য হয়েছে। আর প্রশয় দেওয়া হচ্ছে না, চলতি ক্যাম্প তো বটেই ভবিষ্যতেও তাকে বিবেচনায় রাখা হবে না।

সূত্রটি আরও যোগ করেন, ‘শুধু এবার না এর আগেও সে ভিন্ন ভিন্ন দাবি তুলেছে। তার নানা ধরণের চাহিদা। করোনার সময় সে বাংলাদেশে আসার কথা। তখন দাবি করে বসে ৬ হাজার পাউন্ড। তার কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য যে খরচ সেটা পাঠানোর জন্য চাপ দেয়।’

‘তাকে আমরা বলেছি তুমি শেষ করে আসো, এখানে আসলেই দিচ্ছি। সে তাতেও রাজি ছিল না। এখন যেটা দাঁড়িয়েছে তাকে নিয়ে আর আমরা এগোবো না। শুধু এই ক্যাম্প না। ভবিষ্যতেও তাকে আমরা বিবেচনা করছি না।’

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৬ তারিখে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে এইচপি ক্যাম্প। আপাতত চলছে ফিটনেস ও বোলিং ক্যাম্প। যার দেখভাল করছেন পেস বোলিং কোচ চম্পাকা রামানায়েক।

২ জুন থেকে সিলেটে শুরু হবে ব্যাটিং ও অন্যান্য স্কিল ক্যাম্প। সেখানেই দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা বেডফোর্ডের। তবে এবার আর্থিক ইস্যুতে তৈরি হওয়া জটিলতায় রেডফোর্ডকে ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ততায় ঠাঁসা সূচি প্রকাশ

Read Next

খারাপ সময় থেকে বেরোতে মূলেই ফিরে যাচ্ছেন মুমিনুল

Total
8
Share