এক ঘন্টার ভূতুড়ে পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের বড় হার

২য় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
Vinkmag ad

চতুর্থ দিন শেষেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ইনিংস পরাজয় চোখ রাঙাচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য। তবে অপরাজিত দুই ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের সাথে ড্রেসিং রুমে থাকা সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেনে আশার আলো দেখেছিল স্বাগতিকরা। পঞ্চম দিন লিটন-সাকিবের জোড়া ফিফটি ও শত রানের জুটিতে সে স্বপ্ন আরও বিস্তৃত হয়েছিল। কিন্তু এক ঘন্টার ভূতুড়ে পারফরম্যান্সে ইনিংস হার এড়ানো গেলেও সঙ্গী হয়েছে ১০ উইকেটের বড় পরাজয়।

লিটনের ৫২ ও সাকিবের ৫৮ রান ছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসেও উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি বাকিরা। বাংলাদেশ ১৬৯ রানে অলআউট হয়ে লিড পেয়েছে মাত্র ২৮ রানের। অথচ সাকিব-লিটনে চড়ে দারুণভাবে শেষ করার উপলক্ষ্য তৈরি হচ্ছিল।

২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৩ ওভারের বেশি সময় নেয়নি শ্রীলঙ্কা। ১০ উইকেটে জেতার পথে অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে ৭ ও ওশাদা ফার্নান্দো ৯ বলে ২১ রানে ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন।

৪ উইকেটে ৩৪ রানে পঞ্চম দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ১১ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে মুশফিকুর রহিম ১৪ ও লিটন কুমার দাস ১ রান নিয়ে ক্রিজে আসেন।

তৃতীয় দিন বড় একটা সময় বৃষ্টির থাবায় নষ্ট হয়েছে। তাই চতুর্থ দিনের মতো পঞ্চম দিনেও খেলা শুরু হয় আধঘন্টা আগে। তবে এই বাড়তি সময়েই ফিরে যান আগের ইনিংসে মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলা মুশফিক।

আগেরদিনের সাথে আজ ৯ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি মিস্টার ডিপেন্ডেবল। দিনের ৮ম ও ইনিংসের ২১তম ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে পরাস্ত করেন কাসুন রাজিথা। লঙ্কান এই পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা লেংথ ডেলিভারি খানিক ভেতরে ঢোকে, তাতেই হয়েছেন বোল্ড। ৩৯ বলে ২৩ রান তার নামের পাশে।

যদিও এর আগেই ফিরতে পারতেন লিটন। রাজিথার বলে কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। সাথে সাথে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন টাইগার ব্যাটার।

৫ উইকেটে ৫৩ রান থেকে দারুণ এক গল্প লিখেন লিটন-সাকিব। লিটন টেস্ট মেজাজে খেললেও খানিকটা আগ্রাসী ছিলেন সাকিব। লিটনকে এক পাশে রেখে রান তুলেছেন বলের সাথে পাল্লা দিয়ে।

পঞ্চম দিনে এসে কিছুটা স্পিন ধরা শুরু করেছে মিরপুরে, লঙ্কান পেসাররাতো শুরু থেকেই ভালো করছেন। সেসব সামলেই সাবলীল ব্যাটিং করেন সাকিব-লিটন। ইনিংসের ২৫তম ওভারে রাজিথাকে হাঁকান ৩ চার। এরপর স্পিনারদের কাভার দিয়ে হাঁকানো চারগুলোতেও ছিল আত্মিবিশ্বাসের ঝলক।

প্রভীন জয়াবিক্রমার করা ৩৮তম ওভারের পঞ্চম বলে কাভারে ঠেলে সিঙ্গেল নেন লিটন। আর তাতেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২ হাজার রান পূর্ণ হয়। ক্যারিয়ারের প্রথম ১ হাজার রানের পথে লেগেছিল ৩৭ ইনিংস, তবে ২ হাজারে পৌঁছান মাত্র ১৯ ইনিংসে।

৪৪তম ওভারে লং অফে ঠেলে সাকিব নেন এক রান। তাতেই স্কোর লেভেল হয়। পরের বলে লিটনের ব্যাটে ২, বাংলাদেশ পায় লিড।

ধনঞ্জয়া ডি সিলভার করা ৪৬তম ওভারের শেষ বলে মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে ৬১ বলে ক্যারিয়ারের ২৭তম ফিফটির দেখা সাকিবের। আর এরপরই লাঞ্চ বিরতি। ৫ উইকেটে ১৪৯ রান বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে, লিড ৮ রানের। সাকিব ৫২ ও লিটন ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।

লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি পেয়ে যান লিটন। একই ওভারে লিটন-সাকিবের জুটিও শতরান পূর্ণ করে।

কিন্তু ফিফটির পরই ফিরতে হয়েছে লিটনকে, দারুণ এক ফিরতি ক্যাচ নেন আসিথা ফার্নান্দো। ১৩৫ বলে ৪ চারে সাজান ৫২ রানের ইনিংসটি। জুটি থামে ১০৩ রানেই।

লিটনের বিদায়ের পর আসিথা ফার্নান্দো ঝড়ে ১৩ রান যোগ করেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৭২ বলে ৭ চারে সাকিবের ব্যাটে সর্বোচ্চ ৫৮ রান। আসিথা একে একে তুলে নেন মোসদ্দেক (২২ বলে ৯), তাইজুল (১) ও খালেদকে (০)।

বাংলাদেশকে ১৬৯ রানে আটকে দেওয়ার পথে ৫১ রান খরচায় ৬ উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কান এই পেসার করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ১৩ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

২৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা লঙ্কানদের বিপক্ষে এক ওভারের বেশি করারা সুযোগই পাননি তাইজুল, সাকিব ও এবাদত। ততক্ষণে ৯ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ২১ রানে অপরাজিত থাকেন ওশাদা, ৯ বলে ১ চারে করুনারত্নের ব্যাটে অপরাজিত ৭।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রীলঙ্কার অর্জন দাঁড়িয়েছে ৪০ পয়েন্ট। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ৯ দলের টুর্নামেন্টে ৮ নম্বরে অবস্থান বাংলাদেশ দলের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৩৬৫/১০ (১১৬.২), জয় ০, তামিম ০, শান্ত ৮, মুমিনুল ৯, মুশফিক ১৭৫*, সাকিব ০, লিটন ১৪১, মোসাদ্দেক ০, তাইজুল ১৫, খালেদ ০, এবাদত ০; রাজিথা ২৮.২-৭-৬৪-৫, আসিথা ২৬-৩-৯৩-৪

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংসে ৫০৬/১০ (১৬৫.১), ওশাদা ৫৭, করুনারত্নে ৮০, মেন্ডিস ১১, রাজিথা ০, ম্যাথুস ১৪৫*, ধনঞ্জয়া ৫৮, চান্দিমাল ১২৪, ডিকওয়েলা ৯, রমেশ ১০, জয়াবিক্রমা ০, আসিথা ২; এবাদত ৩৮-৪-১৪৮-৪, সাকিব ৪০.১-১১-৯৬-৫

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসে ১৬৯/১০ (৫৫.৩), জয় ১৫, তামিম ০, শান্ত ২, মুমিনুল ০, মুশফিক ২৩, লিটন ৫২, সাকিব ৫৮, মোসাদ্দেক ৯, তাইজুল ১, এবাদত ০*, খালেদ ০; রাজিথা ১২-৫-৪০-২, আসিথা ১৭.৩-৫-৫১-৬, রমেশ ১১-২-২০-১

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংসে ২৯/০ (৩), ওশাদা ২১*, করুনারত্নে ৭*

ফলাফলঃ শ্রীলঙ্কা ১০ উইকেটে ম্যাচে জয়ী, ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ আসিথা ফার্নান্দো (শ্রীলঙ্কা)

সিরিজসেরাঃ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (শ্রীলঙ্কা)। 

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

জিতেও ফাইনালে যাওয়া হল না সালমা খাতুনদের

Read Next

চাপে থাকা মুমিনুলকে ডোমিঙ্গোর প্রেসক্রিপশন

Total
10
Share