সাকিবের ৫ উইকেটের পর ব্যাটিং ব্যর্থতা, ইনিংস হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

সাকিবের ৫ উইকেটের পর ব্যাটিং ব্যর্থতা, ইনিংস হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ
Vinkmag ad

তৃতীয় দিন শেষেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল শ্রীলঙ্কা লিড নেওয়ার পথে আছে। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও দীনেশ চান্দিমালের জোড়া সেঞ্চুরিতে চতুর্থ দিন লিড তো পেয়েছেই, সাথে দুই সেশন উইকেট শূন্য রাখে বাংলাদেশ বোলারদের। হতাশা কাটিয়ে শেষ সেশনে শ্রীলঙ্কাকে গুটিয়ে দেওয়া গেলেও ততক্ষণে বেশ পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ১৪১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আরও বিপাকে মুমিনুল হকের দল। ইনিংস পরাজয় যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৩৬৫ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা থেমেছে ৫০৬ রানে। যেখানে চান্দিমাল ১২৪ রানে আউট হলেও ১৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ম্যাথুস।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আরেক দফা কাসুন রাজিথা ও আসিথা ফার্নান্দোর পেস তোপে পুড়লো বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষ করেছে ১০৭ রানে পিছিয়ে থেকে, হাতে উইকেট ৬ টি। মুশফিক ১৪ ও ১ রানে অপরাজিত আছেন লিটন।

৫ উইকেটে ২৮২ রান নিয়ে দিন শুরু করে শ্রীলঙ্কা। ম্যাথুস ৫৮ ও চান্দিমাল ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

আগেরদিন বল হাতে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখানো পেসার এবাদত দিনের প্রথম ওভার করেন। সঙ্গী হিসেবে ছিল আগের দুইদিন উইকেট শূন্য থাকা তাইজুল ইসলাম।

তবে কার্যকরী কিছু করতে না পারায় দিনের চতুর্থ ওভারেই আক্রমণে আসেন আগের দুইদিন মাত্র ২ ওভার বল করে বিষ্ময় উপহার দেওয়া মোসাদ্দেক হোসেন। এ দফায়ও এক ওভার করে সরে যেতে হয়। আবারও জুটি বেঁধে বল করেনে এবাদত-তাইজুল।

কিছুতেই লাভ হচ্ছে না দেখে ইনিংসের ১১৬তম ওভারে নিজেই আক্রমণে আসেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। নিজের করা চতুর্থ বলেই উইকেট প্রায় পেয়ে যাচ্ছিলেন। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে পরাস্ত হন চান্দিমাল, বল গ্লাভস বন্দী হয় উইকেট রক্ষকের।

কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। তবে সাথে সাথেই রিভিউ নেন চান্দিমাল, বল ব্যাট স্পর্শ না করায় সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়।

এরপর লাঞ্চের আগে অনায়েসেই কাটিয়ে দেন ম্যাথুস-চান্দিমাল। ততক্ষণে ফিফটি তুলে নেন চান্দিমাল, সেঞ্চুরির পথে হাঁটেন ম্যাথুস। কোনো উইকেট না হারিয়ে এই সেশনে ৮৭ রান যোগ করে দুজন। স্কোরবোর্ডে ৫ উইকেটে ৩৬৯ রান তুলে লাঞ্চে যায় শ্রীলঙ্কা, লিড ৪ রানের। ৯৩ রানে ম্যাথুস ও ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন চান্দিমাল।

লাঞ্চের পর ১১তম ওভারে সেঞ্চুরি তুলে নেন ম্যাথুস। যে পথে বল খেলেছেন ২৭৫ টি। ম্যাথুসকে এক পাশে রেখে দ্রুত সেঞ্চুরির পথে ছুটেছেন চান্দিমালও। এবাদতের করা ১৪৫তম ওভারের প্রথম দুই বলে চার মেরে পৌঁছান ৯৯ তে, এক বল বিরতি দিয়ে অফ সাইডে ঠেলে নেন সিঙ্গেল। তাতেই ১৮১ বলে ছুঁয়ে ফেলেন তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার।

দুজনে চা বিরতির আগ পর্যন্ত অসহায়ই রাখেন টাইগার বোলারদের। ৫ উইকেটে ৪৫৯ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় লঙ্কানরা। ততক্ষণে ম্যাথুস ১২৩ ও চান্দিমাল ১২০ রানের অপরাজিত ছিলেন।

তবে শেষ সেশনেই গতিপথ খুঁজে নেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই চান্দিমালকে তামিম ইকবালের ক্যাচে পরিণত করেন এবাদত। ২১৯ বলে ১১ চার ১ ছক্কায় ১২৪ রানের ইনিংসটি সাজান চান্দিমাল। আর তাতে ম্যাথুসের সাথে ১৯৯ রানের জুটি ভাঙে।

নতুন ব্যাটার নিরোশান ডিকওয়েলা করতে পারেননি ৯ রানের বেশি। সাকিবের বলে স্টাম্পিংয়ের আবেদন করে বাংলাদেশ। তবে তার আগেই ধরা পড়ে উইকেট রক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ার আগে ব্যাট ছুঁয়ে গেছে।

অন্য পাশে ম্যাথুস টেনে নেন নিজের সাবলীল ব্যাটিং। ৯ নম্বরে নামা রমেশ মেন্ডিস এবাদতকে দুই চার হাঁকান ১৬৩তম ওভারে। কিন্তু ফিরতেও হয়েছে একই ওভারে, ১০ রানে থেমেছেন এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে।

তার আগেই দলীয় রান পেরোয় ৫০০। ১৬৪তম ওভারে প্রভীন জয়াবিক্রমাকে (০) লিটনের ক্যাচ বানিয়ে নিজের পাঁচ উইকেত পূর্ণ করেন সাকিব। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৯তম। সর্বশেষটি ছিল ২০১৮ সালে স্যাবাইনা পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

৪ রানের ব্যবধানে আসিথা ফার্নান্দো রান আউটে কাটা পড়লে ৫০৬ রানেই থামে লঙ্কানরা, লিড ১৪১ রানের। সফরকারীরা শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে ৪১ রানে। ম্যাথুস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৪২ বলে ১২ চার ২ ছক্কায় ১৪৫ রানে।

৪০.১ ওভারে ৯৬ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন সাকিব। ৩৮ ওভার বল করে ১৪৮ রানে ৪ উইকেট এবাদতের।

১৪১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ ১৫ রানেই হারায় ওপেনার তামিমকে।

কাসুন রাজিথার করা প্রথম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়ায় প্রবণতা দেখান মাহমুদুল হাসান জয়। শেষ বলেতো উইকেট রক্ষকের হাতে যাওয়ার আগে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যায়। কিন্তু কোনো আবেদন না হওয়াতে বেঁচে যান টাইগার ওপেনার।

রাজিথার করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারেও ফিরতে পারতেন জয় (তখন ৯ রানে ব্যাট করছিলেন)। দ্বিতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়েন কামিন্দু মেন্ডিস। কিন্তু অন্যপাশে তামিম ফিরেছেন কোনো রান না করেই। আসিথা ফার্নান্দোর করা ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন কুশল মেন্ডিসকে।

এক ওভার বিরতি দিয়ে দোটানায় ভুগে রান আউট নাজমুল হোসেন শান্ত (১১ বলে ২)। পরের ওভারেই রাজিথা খালি হাতে ফেরান টানা ফর্মহীনতায় থাকা মুমিনুলকেও। পরের ওভারে জয়কে (২৭ বলে ১৫) কুশল মেন্ডিসের ক্যাচে পরিণত করেন ফার্নান্দো। ২৩ রানে ৪ উইকেট নেই স্বাগতিকদের।

শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারে ৩৪ রান তুলে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ১৭ বলে মুশফিক ১৪ ও ১১ বলে ১ রানে অপরাজিত আছেন লিটন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৪র্থ দিন শেষে):

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৩৬৫/১০ (১১৬.২), জয় ০, তামিম ০, শান্ত ৮, মুমিনুল ৯, মুশফিক ১৭৫*, সাকিব ০, লিটন ১৪১, মোসাদ্দেক ০, তাইজুল ১৫, খালেদ ০, এবাদত ০; রাজিথা ২৮.২-৭-৬৪-৫, আসিথা ২৬-৩-৯৩-৪

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংসে ৫০৬/১০ (১৬৫.১), ওশাদা ৫৭, করুনারত্নে ৮০, মেন্ডিস ১১, রাজিথা ০, ম্যাথুস ১৪৫*, ধনঞ্জয়া ৫৮, চান্দিমাল ১২৪, ডিকওয়েলা ৯, রমেশ ১০, জয়াবিক্রমা ০, আসিথা ২; এবাদত ৩৮-৪-১৪৮-৪, সাকিব ৪০.১-১১-৯৬-৫

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসে ৩৪/৪ (১৩), জয় ১৫, তামিম ০, শান্ত ২, মুমিনুল ০, মুশফিক ১৪*, লিটন ১*; রাজিথা ৬-৩-১২-১, আসিথা ৬-২-১২-২

২য় ইনিংসে বাংলাদেশ ১০৭ রানে পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ক্যাচ মিসের মাশুল দিয়ে বাদ পড়ল লখনৌ

Read Next

নিজেকে নিয়ে ‘ক্যালকুলেটিভ চান্স’ নিয়েছিলেন সাকিব

Total
19
Share