মুশফিকদের পথ সহজ করতে সিডন্সের সংযোজন-বিয়োজন

মুশফিকদের পথ সহজ করতে সিডন্সের সংযোজন-বিয়োজন
Vinkmag ad

ব্যাট হাতে মাঝে খানিকটা খারাপ সময়, অসময়ে নিজের প্রিয় শট খেলে কত শত সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হওয়া। তবে মুশফিকুর রহিম ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি কাল ক্ষেপণ করেননি, অভিজ্ঞতায় নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া কারও জন্য এটাই হয়তো স্বাভাবিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে নিজে ছন্দে ফিরলেন ঠিক দলের যখন তাকে প্রয়োজন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কোচ জেমি সিডন্সকে আরেক দফা পাচ্ছেন পড়ন্ত বেলায়। দুইটি ভিন্ন সময় দেখা সিডন্স বলছেন ‘ফ্যান্টাস্টিক প্লেয়ার’ মুশফিকের ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি কিছু লাগে না।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা মুশফিকের ভালো কাটেনি কোনভাবেই। সাথে টি-টোয়েন্টিতে অধারাবাহিকতাও সমালোচনার খোরাক জুগিয়েছে। চারদিকে ফরম্যাট বাছাই করে খেলার পরামর্শ ধেয়ে আসছিল অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের কাছে। মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিক নিজেকে কিছুটা অনাস্থার জায়গায় নিয়ে যান দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুইপ, রিভার্স সুইপের মতো শট খেলেও।

তবে ১৭ বছর ধরে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা মুশফিক ঠিকই সব ছাপিয়ে ফিরে এসেছেন নিজস্ব ঢংয়ে। চট্টগ্রামে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ২৭ মাসের খরা কাটালেন। ২০২০ সালের পর এটি তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি ছিল। তবে পরের সেঞ্চুরির জন্য মুশফিক নেননি ৩ দিনের বেশি সময়।

চলমান ঢাকা টেস্টে খেলা ইনিংসটিতো তার ক্যারিয়ারেরই অন্যতম সেরা। ২৪ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৩৬৫ রানের সংগ্রহ পায় তার অপরাজিত ১৭৫ রানের সাথে লিটন দাসের ১৪১ রানে ভর করে। ৩৫৫ বলে ২১ চারে ১৭৫ রানের ইনিংসটি খেলার পথে মুশফিক ক্রিজে কাটিয়েছেন ৯ ঘন্টার বেশি সময়।

ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি হাঁকানো মুশফিককে নিয়ে আজ (২৫ মে) তৃতীয় দিনের খেলা শুরু আগে ব্রডকাস্টারের সাথে কথা বলেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। চলতি বছর ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া এই অস্ট্রেলিয়ান ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টাইগারদের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ভিন্ন দুইটি সময়ে মুশফিককে পেয়েছেন, তাকে নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষনের কথা জানিয়েছেন।

সিডন্স বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে চট্টগ্রামে বেশ ভালো ব্যাটিং উইকেট পেয়েছিলাম। মুশফিক ফ্যান্টাস্টিক প্লেয়ার। তার ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি কিছু দরকার পড়ে না। আমরা তার প্রস্তুতিতে ছোটখাটো কিছু সংযোজন-বিয়োজন করেছি, তার পা নিয়ে কিছু কাজ করেছি। যা যথেষ্ট মনে হয়েছে। চট্টগ্রামে সে নিজেই পথ খুঁজে নিয়েছে, দারুণ ব্যাট করেছে।’

‘আমি মনে করি, এই ম্যাচের সেঞ্চুরিটি তার অন্যতম সেরা ইনিংস। সে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছে। সিনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য আমার কাজটা হলো তাদের পথ সহজ করা। তাদের ক্যারিয়ারের শেষ ৩-৪ বছর অবশ্যই সেরা ফর্মে কাটানো উচিত। গ্রাফটা নিম্নমুখী হলে চলবে না। সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাদের ছোটখাটো কিছু সংযোজন-বিয়োজন প্রয়োজন। আমরা সেগুলো নিয়েই কাজ করছি।’

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে নিজের প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশে কাটানো সময়ের সাথে এখনকার পরিবর্তন সম্পর্কেও কথা বলেন সিডন্স। তার মতে ব্যাটিং ধ্বসের জায়গায় এখনো খুব বেশি উন্নতি করেনি টাইগাররা। বিশেষ করে একসঙ্গে উইকেট পড়ার প্রবণতা রয়ে গেছে বর্তমানেও।

এ নিয়ে তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় আমাদের এখনও একসঙ্গে উইকেট হারানোর প্রবণতা রয়ে গেছে। এই দিকটাতে কোনো বদল আসেনি। আমাদের এটা দ্রুত বদলাতে হবে। এটা অগ্রহণযোগ্য। এই ম্যাচেই যেমন অল্প রানে পাঁচ উইকেট গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এমন হয়েছে। আমাদের এটা দ্রুত বদলাতে হবে।’

‘আমার মনে হয় না এটা থেকে বেশি দূরে আছি। কিছু টেকনিক্যাল ও মেন্টাল পরিবর্তন আনলেই আমরা দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাবো। তবে এখন লম্বা সময় ব্যাট করার সামর্থ্যটা দুর্দান্ত। মুশফিক, লিটন, প্রথম টেস্টে তামিম… এ জিনিসগুলো তখন (২০১১ সালে) খুব একটা দেখা যেতো না। তো এই পরিবর্তনটা এসেছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরালেন সাকিব

Read Next

র‍্যাংকিংয়ে লিটন-মুশফিকদের উন্নতি

Total
33
Share