প্রাইম ব্যাংকের কাছে বড় হারে শিরোপা থেকে আরও দূরে গেলো আবাহনী

প্রাইম ব্যাংকের কাছে বড় হারে শিরোপা থেকে আরও দূরে গেলো আবাহনী
Vinkmag ad

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী এবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) শুরু করেছিল নড়বড়ে অবস্থানে থেকে। শেষদিকে জয়ের ধারায় ফিরে সুপার লিগ নিশ্চিত করলেও শিরোপার পথটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আজ (১৮ এপ্রিল) সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের কাছে ১৪২ রানের বড় ব্যবধানে হেরে শিরোপা যেন আরও দূরে সরে গেল।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম টস জিতে প্রাইম ব্যাংককে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আবাহনী অধিনায়ক মোসদ্দেক হোসেন সৈকত।

এনামুল হক বিজয়ের ৭৭ রানের আরও এক দারুণ ইনিংসে ভর করে বড় সংগ্রহের পথে হাঁটছিল প্রাইম ব্যাংক। বিনা উইকেটেই যে স্কোরবোর্ডে ৯৭। কিন্তু শেষদিকে খেই হারিয়ে ৯ উইকেটে ২৭৩ রানে থামে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। মিঠুন ও ইয়াসির আলির ব্যাটে যথাক্রমে ৪৪ ও ৪৩ রান।

জবাবে আবাহনীর ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেনি প্রাইম ব্যাংক স্পিনারদের সামনে। রাকিবুল হাসান, নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, শেখ মেহেদীর স্পিন ঘূর্ণিতে ১৩১ রানেই হতে হয়েছে অলআউট। অধিনায়ক মোসাদ্দেকের ব্যাটে মান বাঁচানো ৬৫ রান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রাইম ব্যাংক স্পিনারদের তোপে দিশে হারা আবাহনীর টপ অর্ডার। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুলের টানা ৩ শিকারের পর শেখ মেহেদী ও তাইজুলের ঘূর্ণিতে ৩৪ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

আউট হওয়া প্রথম ৫ ব্যাটারের মাঝে কেবল লিটন দাস ছুঁতে পেরেছেন দুই অঙ্ক। ৩০ বলে ৪ চারে তার ব্যাটে ২৩ রান। বল হাতে ঝলক দেখানো ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ফেরেন খালি হাতে, একই পরিণতি ওপেনার জাকের আলিরও।

সেখান থেকে অধিনায়ক মোসাদ্দেকের ব্যাটে কেবল পরাজয়ের অপেক্ষাটা দীর্ঘ হয়েছে আবাহনীর। শামীম পাটোয়ারীকে নিয়ে ৭ম উইকেটে যোগ করেন ২৭ রান, যেখানে শামীমের অবদান মাত্র ৪।

এই জুটিতেই ১০০ এর নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কা মুক্ত হয় আবাহনী। ততক্ষণে অবশ্য শামীম ছাড়াও ফিরে গেছেন সাইফউদ্দিন (১১), শহিদুল ইসলাম (১)। ৯৮ রানে ৮ উইকেট হারায় আবাহনী।

স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ৪১ বলে ফিফটিও তুলে নেন মোসাদ্দেক। ৯ম ব্যাটার হিসেবে যখন আউট হন তখন নামের পাশে ৫৭ বলে ৬৫ রান। শেষে পর্যন্ত ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় আবাহনী। যে পথে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে বল হাতে রাকিবুল হাসান ও নাসির হোসেনের শিকার সর্বোচ্চ ৩ টি করে উইকেট। শেখ মেহেদী ও তাইজুলের শিকার ২ টি করে।

উদ্বোধনী জুটিতে প্রাইম ব্যাংককে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও শাহাদাত হোসেন দিপু। শুরুতে অবশ্য আক্রমণাত্মক ছিলেন দিপু, পরে যোগ দেন বিজয়ও। ১০ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৬৭ রান।

এদিকে ইনিংসের ১১তম ওভারে আম্পায়ারের সাথে বাগ বিতন্ডায় জড়ান আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেক। মূলত উইকেটের মাঝখানে চলে আসছিলেন ব্যাটার বিজয়, বারবার একই জিনিস ঘটায় আম্পায়ার কোনো ভূমিকা পালন করছিলেন না দেখেই ক্ষিপ্ত মোসাদ্দেক।

অনফিল্ড আম্পায়ার শরফদ্দৌলা ইবনে সৈকতও রাগান্বিত হন মোসাদ্দেকের উপর। দুজনের কথা কাটাকাটি চলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত।

তবে সেসব বিতর্কে নিজেদের না জড়িয়ে দুরন্ত গতিতে জুটি লম্বা করায় মনযোগ দেন বিজয়-দিপু। শহিদুল ইসলামের করা ১৫তম ওভারে মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে ৪৭ বলে তুলে নেন টুর্নামেন্টে নিজের ৬ষ্ট ফিফটি। দুজনের ৯৭ রানের জুটি ভাঙে শহিদুলের বলে দিপু আউট হলে। ৫০ বলে তার ব্যাটে ৩৮ রান।

৩ নম্বরে নামা মুমিনুল হক করতে পারেননি ৮ রানের বেশি। লঙ্কান অফ স্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে বিজয়ে ফেরেন ৮৫ বলে ৭ চার ৩ ছক্কায় ৭৭ রান করে। বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে নাসির হোসেনও (৬) ফেরেন দ্রুত। ১৫৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক মিঠুন ও ইয়াসিরের ৫৯ রানের জুটি।

মিঠুনের ব্যাটে ৫৯ বলে ৪৪ ও ইয়াসিরের ব্যাটে ৪৩ বলে ৪৩ রান। কিন্তু শুরুর ছন্দ শেষদিকে ধরে রাখতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক ব্যাটাররা, বড় সংগ্রহের আভাস দিয়েও ব্যর্থ হয়। শেখ মেহেদী অপরাজিত ছিলেন ৩৪ রানে।

প্রাইম ব্যাংককে ২৭৩ রানে আটকে দেওয়ার পথে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট ধনঞ্জয়া ডি সিলভার। ২ উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ২৭৩/৯ (৫০ ওভার) বিজয় ৭৭, দিপু ৩৮, মুমিনুল ৮, মিঠুন ৪৪, নাসির ৬, ইয়াসির ৪৩, শুভ ০, শেখ মেহেদী ৩৪*, তাইজুল ২, রাকিবুল ৬*, সাইফউদ্দিন ১০-০-৩৫-২, আরাফাত ৫-০-৩৭-১, শহিদুল ৯-০-৬০-১, তানভীর ১০-০-৫৩-১, ধনঞ্জয়া ১০-০-৫৭-৩, মোসাদ্দেক ৬-০-২৮-১

আবাহনী লিমিটেড ১৩১/১০ (৩২.৪ ওভার) জাকের ০, লিটন ২৩, শান্ত ৪, ধনঞ্জয়া ০, আফিফ ৫, সাইফউদ্দিন ১১, মোসাদ্দেক ৬৫, শামীম ৪, শহিদুল ১, তানভীর ৭, আরাফাত ২*; রাকিবুল ৬-১-১৮-৩, শেখ মেহেদী ৭.৪-২-১৯-২, তাইজুল ৭-০-৪২-২, নাসির ১০-১-৩৩-৩, রাজা ২-০-১৮-০

ফলাফল: প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১৪২ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: এনামুল হক বিজয় (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিজয় ইস্যুতে মাঠেই উত্তাপ ছড়িয়েছেন মোসাদ্দেক-শরফুদ্দৌলা

Read Next

সাকিব খেলছে ধরে নিয়েই দল সাজাচ্ছে নির্বাচকরা

Total
1
Share