মিঠুনের সেঞ্চুরিকে ম্লান করে আবাহনীর জয়

মিঠুনের সেঞ্চুরিকে ম্লান করে আবাহনীর জয়
Vinkmag ad

দক্ষিণ সফর থেকে দেশে ফেরার ২৪ ঘন্টার মাথায় ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) নিজ নিজ দলের হয়ে খেলতে নেমে যান লিটন দাস, মাহমুদুল হাসান জয়, মুমিনুল হকরা। কেউই অবশ্য খেলতে পারেননি আহামরি ইনিংস, তবে জয়-লিটনের ফেরার দিনে মুমিনুলের প্রাইম ব্যাংককে হারিয়েছে আবাহনী।

মোহাম্মদ মিঠুনের দারুণ এক সেঞ্চুরিকে ম্লান করে আবাহনীর জয় ২৮ রানের। ফলে টানা ৩ হারে হ্যাটট্রিক করলো প্রাইম ব্যাংক। এই জয়ে আবাহনী উঠে গেল পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করা আবাহনীর ইনিংস তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকজন ব্যাটারের কার্যকরী ইনিংসের সৌজন্যে। ৭ উইকেটে আবাহনীর স্কোরবোর্ডে ২৭১। যেখানে সর্বোচ্চ ৫৮ রান আসে হনুমা বিহারির ব্যাটে।

জবাবে মোহাম্মদ মিঠিনের ১০৩ রানের ইনিংসের পরও অন্য প্রান্তে যোগ্য সঙ্গ না পাওয়ায় ২৪৩ রানেই গুটিয়ে যেতে হয় প্রাইম ব্যাংককে।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা আবাহনী মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকের আলির উদ্বোধনী জুটিতে তোলে ৩৫ রান। ১৯ বলে ২১ রান করে জয় আউট হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানের বলে।

এরপর ৩ নম্বরে নামা লিটন দাস ও জাকের আলির ৪৮ রানের জুটি। রাকিবুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে জাকের (৩০) ফিরলে ভাঙে জুটি। লিটনও ২ রানের ব্যবধানে সমান রান করে আউট হন কিছুটা দৃষ্টিকটুভাবে।

শেখ মেহেদীর বলে সুইপ করার চেষ্টায় গড়মিল করেন, বল যায় উইকেট রক্ষকের হাতে। ততক্ষণে পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়েছেন বলে স্টাম্পড করার সুযোগ নষ্ট করেনি উইকেট রক্ষক মোহাম্মদ মিঠুন।

৮৫ রানে ৩ উইকেট হারানো আবাহনীকে পথ দেখান ভারতীয় হনুমা বিহারি। তার ব্যাটে ৭৪ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় সাজানো ৫৮ রানের ইনিংস। শেষদিকে কাজটা সেরেছেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ও শামীম পাটোয়ারী। দুজনের ব্যাটে যথাক্রমে ৪০ ও ৩৬ রান।

৭ উইকেটে ২৭১ রানে টকানোর পথে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শেখ মেহেদীর।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা ইনিংসের প্রথম দুই বলেই ফর্মের তুঙ্গে থাকা এনামুল হক বিজয় (০) ও ভারতীয় অভিমন্য ইশ্বরণকে (০) হারায় প্রাইম ব্যাংক। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক সম্ভাবনাও জাগান সাইফউদ্দিন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যর্থ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক লিগে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেও করেছেন হতাশ। ৩৪ বলে করতে পারেননি ১৫ রানের বেশি। ২৩ রানেই ৩ উইকেট নেই প্রাইম ব্যাংকের।

সেখান থেকে একাই লড়ে গেছেন অধিনায়ক মিঠুন। শাহাদাত হোসেন দিপুর সাথে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৫১ রান। ৬৪ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ৩৯ রান দিপুর ব্যাটে। এরপরের যাত্রায় লড়াইটা চলে শুধু মিঠুনের, পাননি যোগ্য সঙ্গ। ৬৯ বলে ফিফটি ছুঁয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন ৯৫ বলে।

তবে অন্য পাশ থেকে সমর্থন না পেয়ে আউট হন সেঞ্চুরির পরপরই। রান আউট হয়ে সাঝঘরে ফেরেন ৯ম ব্যাতার হিসেবে, নামের পাশে ৯৫ বলে ৮ চার ৫ ছক্কায় ১০৩ রান। তার বিদায়ের পর দলের ইনিংস গুটিয়ে গেছে দ্রুতই। ২৪৩ রানে অলআউট হওয়ার আগে শেখ মেহেদী ১৯ ও নাহিদুল ইসলাম করেন ২৪ রান।

আবাহনীর হয়ে সর্বোচ্চ ২ টি করে উইকেট সাইফউদ্দিন, তানজিম হাসান সাকিব, মোসাদ্দেক হোসেন ও তানভীর ইসলামের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী লিমিটেড ২৭১/৭ (৫০ ওভার) জয় ২১, জাকের ৩০, লিটন ৩০, আফিফ ৩০, হনুমা ৫৮, মোসাদ্দেক ৪০, শামীম ৩৬, সাইফউদ্দিন ১৪*, তানভীর ০*; নাহিদুল ১০-০-৫০-১, রুবেল ৮-০-৫৯-০, রাকিবুল ১০-০-৩০-২, রাজা ৭-০-৩৭-০, মুমিনুল ৪-০-৩১-০, শেখ মেহেদী ৮-০-৪০-৩, নাসির ৩-০-১৮-০

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ২৪৩/১০ (৪৮.১ ওভার) বিজয় ০, দিপু ৩৯, অভিমন্যু ০, মুমিনুল ১৫, মিঠুন ১০৩, নাসির ৭, শেখ মেহেদী ১৯, নাহিদুল ২৪, রাজা ১৬, রাকিবুল ১৪*, রুবেল ১*; সাইফউদ্দিন ১০-১-৩৯-২, সাকিব ৯.১-০-৪৮-২, মোসাদ্দেক ৯-০-৪৩-২, আরাফাত ১০-০-৫৬-১, তানভীর ১০-০-৫৫-২

ফলাফল: আবাহনী লিমিটেড ২৮ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা: মোহাম্মদ মিঠুন (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আঁটসাঁট বোলিংয়ে রুপগঞ্জ টাইগার্সের জয়ের নায়ক নাসুম

Read Next

ক্লাব ক্রিকেটেও জায়গা হারানো সৌম্যকে পথ দেখাচ্ছেন ফাহিম

Total
6
Share