দেশের ক্রিকেটকে টার্নিং পয়েন্ট এনে দিয়েও যে কারণে ব্যথিত আকরাম

দেশের ক্রিকেটকে টার্নিং পয়েন্ট এনে দিয়েও যে কারণে ব্যথিত আকরাম
Vinkmag ad

১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়ার কিলাত কেলাব মাঠে ইতিহাস রচনা করে বাংলাদেশ। আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপ খেলার মর্যাদা অর্জন করে আকরাম খানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। এমন অর্জনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে আকরাম জানালেন এই অর্জন কোনো দিন ভুলতে পারবেন না। তবে টেস্টে বাংলাদেশ এখনো ভালো খেলে না বলে আক্ষেপ আছে সাবেক এই তারকার।

১৯৭৯ থেকে ১৯৯৪, টানা পাঁচ বার আইসিসি ট্রফিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণে কাঙ্খিত ফল পায়নি একবারও। তীরে গিয়ে তরী ডুবেছে দুই-একবার।

কিন্তু ১৯৯৭ সালে ধরা দেয় সে সাফল্য। আকরামের নেতৃত্বে বিজয় কেতন উড়ানোর পথে লড়াই করেছেন খালেদ মাসুদ পাইলট, হাসিবুল হোসেন শান্ত, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ রফিক, খালেদ মাহমুদরা।

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কেনিয়া। আগে ব্যাট করে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪১। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য ২৫ ওভারে ১৬৬। যা শেষ ওভারে গিয়ে তারা করেছিল বাংলাদেশ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও হাসিবুল হোসেন শান্তর ব্যাটে নিশ্চিত হয় ২ উইকেটের জয়।

যে জয়ে বদলে গেলো বাংলাদেশের ক্রিকেট। জনপ্রিয়তার ব্যারিকেড পাশ কাটিয়ে পেশা হিসেবেই ক্রিকেট গ্রহণযোগ্য হতে শুরু করে। ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপ খেলার পর ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস। ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া দিনে আকরাম খান আজ স্মৃতিচারণ করলেন সে দিনের।

মিরপুরে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ এটাতো অনেক বড় অর্জন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। কারণ এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট যে অবস্থানে আছে তখন এরকম ছিল না। আর সেটা আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। বাংলাদেশে ক্রিকেট যে এত জনপ্রিয় এখন তার কারোন ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্বর্ধনা দিয়েছিল, এক লাখের চেয়ে বশি লোক এসেছিল।’

‘সে অনুষ্ঠানই প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে বার্তা দিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলে। এ কারণেই কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ দলে অনেকগুলো ভালো ভালো ক্রিকেটার আসছে। মাশরাফি, আশরাফুল, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মুস্তাফিজরা আসছে।’

তবে এমন অর্জনের হাত ধরে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ায় বাংলাদেশ প্রায় ২ যুগ টেস্ট খেলেও উন্নতির ছাপ রাখতে পারছেনা। টেস্টে টাইগারদের মলিন পারফরম্যান্স হতাশ করে সাবেক এই অধিনায়ককে।

আকরাম বলেন, ‘এতো কিছু হওয়ার পরও আমরা যে টেস্টে ভালো না এটা মাঝে মাঝে ব্যথিত করে। কিন্তু ইন শা আল্লাহ একটা সময় ভালো খেলবে এই বিশ্বাসটা আছে। তবে ঐ অর্জন আসলে কোনো দিন ভুলতে পারবো না। শুধু খেলোয়াড়েরা তখনরা বোর্ড কর্তারাও অনেক পরিশ্রম করেছে, যারা কোচ ছিলেন (তারাও পরিশ্রম করেছে)। আমরা খুব বেশি বিদেশী কোচ পেতাম না।’

‘এরপর সাংবাদিক ভাইয়েরাও, আপনারা এখন যেমন সুযোগ সুবিধা পান উনারা কিন্তু তখন এতো সুযোগ সুবিধা পেতো না। আমার মনে আছে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক আছেন যারা মাঠে গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট করতেন। তো সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ এখানে এসেছে। দোয়া করি সামনে আরও ভালো হবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ক্রিকেটের চাইতে ক্রিকেটের বাইরের ব্যাপারে চিন্তিত বাংলাদেশ বলছেন আকরাম

Read Next

র‍্যাংকিংয়ে তাইজুলের উন্নতি, অনেকটা পেছালেন মুমিনুল-জয়রা

Total
27
Share