পোর্ট এলিজাবেথে বড় হারের সামনে বাংলাদেশ

পোর্ট এলিজাবেথে বড় হারের সামনে বাংলাদেশ
Vinkmag ad

পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচ বাঁচানোর যেটুকু আশা ছিল তৃতীয় দিন প্রথম দুই সেশনেই তা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। আর শেষ সেশনে আরেক দফা কেশব মহারাজ ও সিমন হারমার ঘূর্ণিতে এলোমেলো হয়ে অপেক্ষা চতুর্থ দিন কত দেরি করে অলআউট হওয়া যায়। ফলো অনে পড়লেও তা করায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা, তবুও বড় পরাজয়ের দিকেই ছুটছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৫৩ রানের জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২১৭ রানে। ফলো অন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে প্রোটিয়ারা। ৪১৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ২৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে মুমিনুল হকের দল।

বৃষ্টির কারণে ২০ মিনিট দেরীতে শুরু হয় তৃতীয় দিনের খেলা। ৫ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। মুশফিক ৩০ ও ইয়াসির আলি ৮ রানে অপরাজিত ছিল।

উইলিয়ামসের করা দিনের প্রথম তিন বলেই টানা চার মেরে শুরু ইয়াসিরের। মুশফিককে এক পাশে রেখে প্রায় প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি হাঁকান। ধীরে ধীরে তার সাথে রান তোলাতে যোগ দেন মুশফিকও।

দিনের ৯ম ওভারে আক্রমণে আসা বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজকে মিড উইকেট দিয়ে দারুণ চারে স্বাগত জানান ইয়াসির। তবে মহারাজও স্পিন ঘূর্ণিতে বেকায়াদায় ফেলেন মুশফিক-রাব্বিকে।

দারুণ এক ডেলিভারিতে মুশফিকের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদনও হয়। সেসব সামলে ভালোই খেলছিলেন মুশফিক-ইয়াসির। কিন্তু বিপত্তি ইনিংসের ৬০তম ওভারে কেশবের বলেই, চতুর্থ বলে ইয়াসিরের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন নাকচ করে আম্পায়ার।

রিভিউ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা, বল আউট সাইড লেগে পিচড হওয়াতে নষ্ট হয় রিভিউ। কিন্তু এক বল পর নিচু হওয়া ডেলিভারিতে কেশবকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন ইয়াসির। ৮৭ বলে ৭ চারে ৪৬ রানে বিদায় নিলে মুশফিকের সাথে ভাঙে ৭০ রানের জুটি।

মিরাজকে নিয়ে অনায়েসেই লাঞ্চের আগের সময়টুকু পার করে দিতে পারতেন মুশফিক। লাঞ্চের মাত্র ১ ওভার আগে সিমন হারমারকে চার মেরে ফিফটিও তুলে নেন। কিন্তু এক বল পরই অপ্রয়োজনে রিভার্স সুইপ করে ফিরেছেন বোল্ড হয়ে। ১৩৬ বলে ৮ চারে ৫১ রান তার ব্যাটে।

শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২১০ রান তুলে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। মিরাজ ৯ ও তাইজুল ০ রানের অপরাজিত ছিলেন।

লাঞ্চের পর মাত্র ৪.২ ওভার টিকেছে বাংলাদেশের ইনিংস, তাতে দলীয় সংগ্রহে যোগ হয় মাত্র ৭ রান। তাইজুল (৫) ও এবাদত (০) হারমারের শিকার হলেও মিরাজকে (১১) ফেরান মহারাজ। ২২ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

২১৭ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট হারমার ও মুলডারের। দুইটি করে উইকেট নেন ওলিভিয়ার ও মহারাজ।

২৩৬ রানে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশকে ফলো অন করায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারাতে পারতো দক্ষিণ আফ্রিকা। এবাদত হোসেনের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বল বেশ জোরালো শটে পয়েন্টে পাঠান সারেল এরউই।

কিন্তু অন্য মনষ্ক মিরাজ ক্যাচ নেওয়াতো দূরের কথা বলই দেখেননি বরং হুট করে এসে পেটে লাগায় ব্যথা পেয়ে স্ট্রেচারে ভর করে কিছুক্ষণের জন্য মাঠও ছাড়তে হয়।

এরপর যতক্ষণ ক্রিজে টিকেছেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে রান তুলেছেন ডিন এলগার ও এরউইয়ে। তাইজুলের বলে এলগার (২৯ বলে ২৬) বোল্ড হলে ভাঙে ৬০ রানের জুটি। তিন নম্বরে নামা কিগান পিটারসেনকেও (২৫ বলে ১৪) বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাইজুল।

২ উইকেটে ৮৪ রান তুলে চ বিরতিতে যায় প্রোটিয়ারা। ৬৪ বলে ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন এরউই।

চা বিরতির পর আরও ২০ ওভার ব্যাট করে স্বাগতিকরা। এরউই ফিরে গেছেন সেশনের দ্বিতীয় ওভারেই। খালেদের বলে মুমিনুলকে ক্যাচ দিয়ে থামেন ৪১ রানে। তাইজুলের তৃতীয় শিকার হয়ে রায়ান রিকেলটন করতে পারেননি ১২ রানের বেশি।

১১৯ রানে ৪ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকা মিরাজের টানা ২ উইকেটে ১৭৬ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয়। ৬ষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে মুলডার আউট হলে ইনিংস ঘোষণা করে প্রটিয়ারা। টেম্বা বাভুমার ব্যাটে ৩০ ও কাইল ভেরেনে অপরাজিত ছিলেন ৩৯ রানে।

ফলে বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য ঠিক হয় ৪১৩! হাতে সময় দুই দিনের বেশি।

কেশব মহারাজ ও সিমন হারমারের স্পিন ঘূর্ণিতে ৯.১ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৭ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

ইনিংসের তৃতীয় বলেই মহারাজের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে কিপারের গ্লাভস হয়ে স্লিপে মুলডারের হাতে ধরা পড়েন মাহমুদুল হাসান জয় (০)। মহারাজের পরের ওভারে ফেরেন শান্ত (১০ বলে ৭)। আর হারমারের বলে তামিমও ( ১৩) ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে। তামিম আউট হলেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়ার।

৩৮৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের হয়ে ৫ রানে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক মুমিনুল। ৫ ওভারে ১৭ রান খরচায় মহারাজের দুই ও ৪.১ ওভারে ৮ রান খরচায় হারমারের শিকার এক উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৩য় দিন শেষে):

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসে ৪৫৩/১০ (১৩৬.২), এলগার ৭০, এরউই ২৪, পিটারসেন ৬৪, বাভুমা ৬৭, রিকেলটন ৪২, ভেরেনে ২২, মুলডার ৩৩, মহারাজ ৮৪, হারমার ২৯, উইলিয়ামস ১৩, অলিভিয়ার ০*; খালেদ ২৯-৬-১০০-৩, মিরাজ ২৬.২-৪-৮৫-১, তাইজুল ৫০-১০-১৩৫-৬

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ২১৭/১০ (৭৪.২), তামিম ৪৭, জয় ০, শান্ত ৩৩, মুমিনুল ৬, মুশফিক ৫১, লিটন ১১, ইয়াসির ৪৬, মিরাজ ১১, তাইজুল ৫, খালেদ ০*, এবাদত ০; অলিভিয়ার ১৫-৪-৩৯-২, হারমার ১০.২-১-৩৯-৩, মহারাজ ২৪-৬-৫৭-২, মুলডার ১৩-৭-২৫-৩

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংসে ১৭৬/৬ (৩.৯.৫ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), এরউই ৪১, এলগার ২৬, পিটারসেন ১৪, বাভুমা ৩০, রিকেলটন ১২, ভেরেনে ৩৯*, মুলডার ৬; খালেদ ১০-০-৩৮-১, তাইজুল ১৫-২-৬৭-৩, মিরাজ ৯.৫-৩-৩৪-২

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসে ২৭/৩ (৯.১), তামিম ১৩, জয় ০, শান্ত ৭, মুমিনুল ৫*; মহারাজ ৫-১-১৭-২, হারমার ৪.১-১-৮-১

বাংলাদেশের জিততে চায় ৩৮৬ রান, দক্ষিণ আফ্রিকার ৭ উইকেট।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

নিজ শহরে গিয়ে করোনা পজিটিভ ডোমিঙ্গো

Read Next

মুশফিকের অমন বোকামিতে হতাশ পুরো দল

Total
1
Share