আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাবে বিসিবি

ডারবানে আম্পায়ারিং বিতর্ক, সাকিবের সাথে একমত বাশার-সুজন
Vinkmag ad

ডারবান টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের অমানবিক স্লেজিং এবং আম্পায়ারদের দৃষ্টিকটু পারফরম্যান্সের বিরুদ্ধে আইসিসির কাছে অফিসিয়ালি অভিযোগপত্র দিবে বাংলাদেশ।

ওয়ানডে সিরিজের আম্পায়ারিং নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অভিযোগ করেছিল। তবে টেস্টে আরও ভিন্ন কিছু বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। ২য় ইনিংসে মাত্র ৫৩ রানে অলআউট হওয়ায় ২২০ রানের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান জালাল ইউনুস ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘ ওয়ানডে সিরিজের আম্পায়ারিং নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা একটি অভিযোগ করেছি। আমাদের ম্যানেজার নাফিস ইকবালের সাথে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের মধ্যে তর্ক হয়েছিল। কিন্তু এরপর আমরা তাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। টেস্ট ম্যাচ নিয়ে আমরা আরেকটি অফিসিয়াল অভিযোগ করবো।’

বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল হক, দলের পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন, নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও সাকিব আল হাসান টেস্টে আম্পায়ারদের পারফরম্যান্স নিয়ে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেন।

‘স্লেজিং খুবই স্বাভবিক ব্যাপার। কিন্তু আম্পায়াররা এটাতে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। ম্যাচে আম্পায়ারিং একদমই আমাদের পক্ষে ছিল না। আমি মনে করি আইসিসির উচিত নিরপেক্ষ আম্পায়ারের ব্যবস্থা করা,’ বলেন মুমিনুল।

৪র্থ দিনের খেলা শেষে ম্যাচ অফিসিয়ালদের ভৎসর্না করেছিলেন সুজন ও সুমন। ব্যক্তিগত কারণে টেস্ট থেকে সরে গেলেও টুইটারে সাকিব জানান, কোভিড ১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া আইসিসিকে নিরপেক্ষ আম্পায়ার দেওয়ার পরামর্শ দেন। তামিম ইকবালও আম্পায়ারদের নিয়ে বলেন, তবে কি বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন, তা জানা যায়নি।

‘উভয় পক্ষই স্লেজিং করতে পারবে। তবে এটি যখন মাতাতিরিক্ত হয়ে যায়, আমরা আম্পায়ারদের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। তবে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। আমাদের ভালোভাবে মানাতে হবে। আমরা আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি। কিন্তু আইসিসিরও উচিত, নিরপেক্ষ আম্পায়ারের ব্যবস্থা করা।’

২য় ইনিংসে প্রোটিয়া অধিনায়ক ডিন এলগারের আউটের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন আম্পায়ার মেরাইস এরাসমাস। ৫ম ওভারের এ বলটি পেছনের পায়ে লাগে। আম্পায়ার কলের কারণে বেচে যায় এলগার।

১৯তম ওভারে বাংলাদেশ সফলভাবে আদ্রিয়ান হক্সটকের নট আউটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ করে সফল হয়েছিল বাংলাদেশ, ব্যাটসম্যান ছিলেন সারেল এরউই।

২৬ তম ওভারে খালেদ আহমেদের বলে কিগান পিটারসেনের লেগ বিফোরের সিদ্ধান্তও আউট দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। যদি সেটা নিশ্চিত আউট দেখাচ্ছিল রিপ্লেতে।

৪র্থ দিন সকালে এবাদতের বোলিংয়ের পর স্টাম্পকে উদ্দেশ্য করে থ্রো করেছিল। যদিও তা এলগারের পেছনের পায়ে লাগায় দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আম্পায়ার হোল্ডস্টক পরে তাদের শান্ত হতে বলেন।

‘টেস্ট ম্যাচে নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং দেখা যাচ্ছে না। প্রথম দিন থেকেই তা নজরে আসছে। সাইটস্ক্রিন জটিলতায় প্রথম ৩০ মিনিট খেলাই হয়নি। শুরুর দিকে সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছিলাম। ৩০ মিনিটের ক্ষতি পূরণ করার জন্য তারা দুপুরের খাবারের সময় দীর্ঘায়িত করে। এটা অবশ্যই আম্পায়ারদের দোষ আছে। সাধারণত কোনদিন সময় নষ্ট হলে আম্পায়াররা দ্রুত শুরু করতে চায়। এটা যুক্তিসংগত’, বলেন জালাল ইউনুস।

‘মাহমুদুল হাসান জয় যখন ব্যাটিংয়ে গিয়েছিল, তারা সবাই তখন তাকে ঘিরে ধরেছিল। তারা কিছু একটা বলছিল। জয় তখন কিছু বলেনি, কেননা সে একজন জুনিয়র খেলোয়াড়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এমন করাটা খুবই অসৌজন্যমূলক। স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে উলটো আম্পায়াররাই আমাদের খেলোয়াড়দের সতর্ক করে, আমরা কেন স্লেজিংয়ের বিপক্ষে অভিযোগ করেছিলাম এ ব্যাপারে।’

‘উভয় পক্ষ থেকে স্লেজিং করাটা ঠিক আছে। কিন্তু তারা যখন অতিরিক্ত করে বসে, আমরা আম্পায়ারদের অভিযোগ করেছিলাম। এটা মানা যায় না। আমরা সঠিকভাবে করেছিলাম। আমাদের এখন আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। একইসাথে আইসিসিকেও নিরপেক্ষ আম্পায়ার নিযুক্ত করতে হবে,’ জানান জালাল ইউনুস।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

মুমিনুলের চোখে হারমার-মহারাজদের উইকেট দেওয়া বিরাট অপরাধ

Read Next

কোহলি সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি রোনালদো হয়ে যান; প্রথমেই করবেন মস্তিষ্ক স্ক্যান

Total
25
Share