বাংলাদেশকে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়ে প্রোটিয়াদের জেতালেন মহারাজ

বাংলাদেশকে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়ে প্রোটিয়াদের জেতালেন মহারাজ
Vinkmag ad

ম্যাচ থেকে কিছুটা দূরে সরে যাওয়া বাংলাদেশ চতুর্থ দিন বোলারদের কল্যাণে দারুণভাবে কামব্যাক করে। এরপরও ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া যেকোনো উইকেটেই খুব সহজ কাজ নয়। তবে সেই কাজটি প্রায় অসাধ্য করে তোলে চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে প্রোটিয়াদের স্পিন ঘূর্ণিতে ৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন ঐ অবস্থান থেকেই দেখেছেন জয়ের স্বপ্ন।

কিন্তু সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করতে আজ পঞ্চম দিন স্পিনার কেশব মহারাজ ও সিমন হারমার মাত্র ১৩ ওভার সময় নেন। প্রথম সেশনের এক ঘন্টার মধ্যেই ৪২ রান যোগ করতে ৭ উইকেট হারিয়ে ২২০ রানের ব্যবধানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ।

৫৩ রানে অলআউট হয়ে ডারবানের কিংসমিডে সর্বনিম্ন টেস্ট সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে টাইগাররা। এটি বাংলাদেশের সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহও। এর আগে ১৯৯৬ সালে ভারতকে এই মাঠে অলআউট হয়েছিল ৬২ রানে। বাঁহাতি স্পিনার কেশব একাই নেন ৭ উইকেট, যেখানে হারমারের শিকার ৩ উইকেট।

ডারবানের কিংসমিডে সাম্প্রতিক সময়ে স্পিন নির্ভরতা বাড়ছে। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে এই সিরিজ দিয়েই কাজ শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা পেসার অ্যালান ডোনাল্ড দিন কয়েক আগেও এমনটা জানান।

নিজে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া দল নাইটসের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন, কিংসমিডে একাদশ সাজাতেন তিন স্পিনার নিয়েও। কিন্তু সব যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান কন্ডিশনে সফরকারী দলের ১০ উইকেটই প্রোটিয়া স্পিনারদের দখলে যাওয়া বড় বিস্ময়য়ই।

২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে কেশব-হারমারের স্পিন বিষে নীল হতে হয়েছে চতুর্থ দিন পড়ন্ত বেলায়। মাত্র ৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১ রান তুলে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। যেখানে কেশবের ২ টি ও হারমারের ছিল ১ উইকেট।

আজ পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৬৩ রান ও দক্ষিণ আফ্রিকার ৭ উইকেট।

বাংলাদেশ আসলে জয় নাকি ড্রয়ের পথে হাঁটবে সেটা ভাবার সুযোগই পায়নি এ দিন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একে একে সাঝঘরে ফিরতে হয় ব্যাটারদের।

আজ কেশবের আঘাত হানা শুরু হয় আগেরদিন এক বল খেলে কোনো রান না করে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিমকে দিয়ে। আজ দিনের পঞ্চম বলেই তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন, খুলতে পারেননি রানের খাতা।

এরপর দাঁড়াতেই পারেননি লিটন দাস (২), ইয়াসির আলি (৫), মেহেদী হাসান মিরাজরা (০)। এক পাশ আগলে রেখেও বেশি দূর যেতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত, হারমারের বলে স্টাম্পড হয়েছেন ২৬ রান করে। শেষদিকে তাসকিনের ব্যাটে ১৩ রান না এলে পড়তে হত নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন সংগ্রহের লজ্জাতেও।

ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার পথে কেশব খরচ করেছেন ৩২ রান। সাড়ে ৬ বছর পর নাটকীয়ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্টে দলে ফেরা হারমার প্রথম ইনিংসে নেন ৪ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে ২১ রান খরচায় শিকার করেন ৩ উইকেট।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৬৭ রানের সংগ্রহ পায়। জবাবে বাজে পরিস্থিতিতে পড়া বাংলাদেশকে টেনে নেন মাহমুদুল হাসান জয়। তরুণ এই ব্যাটারের ১৩৭ রানের অনবদ্য এক ইনিংসে বাংলাদেশ থামে ২৯৮ রানে।

৬৯ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণ শুরু পেয়েও থেমেছে ২০৪ রানে। ফলে বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য ঠিক হয় ২৭৪।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসে ৩৬৭/১০ (১২১), এলগার ৬৭, এরউই ৪১, পিটারসেন ১৯, বাভুমা ৯৩, রিকেলটন ২১, ভেরেনে ২৮, মুলডার ০, মহারাজ ১৯, হারমার ৩৮*, উইলিয়ামস ১২, অলিভিয়ার ১২; এবাদত ২৯-১০-৮৬-২, খালেদ ২৫-৩-৯২-৪, মিরাজ ৪০-৮-৯৪-৩

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ২৯৮/১০ (১১৫.৫), জয় ১৩৭, সাদমান ৯, শান্ত ৩৮, মুমিনুল ০, মুশফিক ৭, তাসকিন ১, লিটন ৪১, রাব্বি ২২, মিরাজ ২৯, খালেদ ০, এবাদত ০*; অলিভিয়ার ১৫-৫-৩৬-১, উইলিয়ামস ১৮.৫-৩-৫৪-৩, হারমার ৪০-১২-১০৩-৪, মুলডার ৪-১-২৩-১

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংসে ২০৪/১০ (৭৪), এরউই ৮, এলগার ৬৪, পিটারসেন ৩৬, বাভুমা ৪, রিকেলটন ৩৯*, ভেরেনে ৬, মুলডার ১১, মহারাজ ৫, হারমার ১১, উইলিয়ামস ০, অলিভিয়ার ০; মিরাজ ৩৫-৬-৮৫-৩, এবাদত ১৩-১-৪০-৩, তাসকিন ১১-১-২৪-২

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসে ৫৩/১০ (১৯), জয় ৪, সাদমান ০, শান্ত ২৬, মুমিনুল ২, মুশফিক ০, লিটন ২, রাব্বি ৫, মিরাজ ০, তাসকিন ১৪, খালেদ ০, এবাদত ০*; মহারাজ ১০-০-৩২-৭, হারমার ৯-৩-২১-৩

ফলাফলঃ দক্ষিণ আফ্রিকা ২২০ রানে জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মহারাজের স্পিন বিষে নীল বাংলাদেশ

Read Next

সব জেনে শুনেও কেন বেহাল দশা? ব্যাখ্যায় যা বললেন মুমিনুল

Total
1
Share