ডারবানে আম্পায়ারিং বিতর্ক, সাকিবের সাথে একমত বাশার-সুজন

ডারবানে আম্পায়ারিং বিতর্ক, সাকিবের সাথে একমত বাশার-সুজন

ডারবান টেস্টের চতুর্থ দিন বোলারদের কল্যাণে দারুণভাবে কামব্যাক করা বাংলাদেশ শেষ বিকেলে ডুবেছে ব্যাটারদের দায়ে। তবে সব ছাপিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্টে আম্পায়ারিং দারুণ প্রশ্নবিদ্ধ। বেশ কিছু সিদ্ধান্তই গিয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে।

টেস্ট সিরিজে না থাকা টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলছেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে, এখনই সময় নিরপেক্ষ আম্পায়ারের পুরোনো রীতিতে ফেরার। তার সাথে একমত প্রকাশ করেছেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।

করোনা প্রভাব শুরু হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিরপেক্ষ আম্পায়ার নিয়োগ দিত আইসিসি। তবে করোনা হানা দিলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঝুঁকি এড়াতে স্বাগতিক দেশের আম্পায়ার দিয়ে কাজ চালানো শুরু করে আইসিসি। যা চলছে এখনো, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়াতে পুরোনো পন্থায় ফিরে যাওয়া উচিৎ বলছেন বাংলাদেশের সাবেক, বর্তমান ক্রিকেটাররা।

আজ (৩ এপ্রিল) আলাদা করে এই দাবি উঠছে ডারবান টেস্টের দায়িত্বে থাকা দুই আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টোক ও মেরাইস এরাসমাসের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ সুবিধা পেয়েছে আম্পায়ার্স কল নিয়মের। বেশ ক্লোজ কিছু জোরালো আবেদনেও সাড়া দেননি, পরে টিভি রিপ্লেতে যা বোলারকে হতাশ করেছে।

দিনের শুরতেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরতে পারতো ফিফটি হাঁকানো প্রোটিয়া অধিনায়ক ডিন এলগার। কিন্তু শুরুতে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নেয় বাংলাদেশ, যা আউট হওয়ার সব চাহিদাই পূরণ করে। তবে আম্পায়ার্স কল নট আউট হওয়াতে বেঁচে যান এলগার। দক্ষিণ আফ্রিকার পুরো ইনিংসজুড়েই ছিল এমন দৃশ্য, অপেনার সারেল এরউইয়ে ও ডিন এলগারকে ফেরাতে আলাদা করে নিতে হয়েছে রিভিউ।

এমন সব সিদ্ধান্ত দেখে বর্তমানে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সাকিব আল হাসান এক টুইটে জানিয়েছেন এখনই সময় নিরপেক্ষ আম্পায়ারের পুরোনো পন্থায় ফিরে যাওয়ার।

সাকিবের সাথে একমত পোষণ করে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ একমত। কারণ আম্পায়াররাও ভুল করে থাকেন। কিন্তু অবশ্যই নিরপেক্ষ আম্পায়ার না থাকলে যেটা হয় সুবিধাটা আপনার পক্ষে চলে যেতে পারে। এই সিরিজে এ জিনিসটা আমরা কম-বেশি দেখেছি।’

‘ডিআরএস থাকাতে সুবিধা হয়েছে কিন্তু আম্পায়ার্স কল আমাদের পক্ষে যাচ্ছে না কোনোভাবে। আমি শতভাগ একমত, এখন আর প্রোটোকল নেই সেরকম, আমাদের এখন নিরপেক্ষ আম্পায়ারে ফিরে যাওয়া উচিৎ।’

অন্যদিকে চতুর্থ দিন সংবাদ সম্মেলনে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আমি মনে করি আম্পায়ারিং একটা বড় ভূমিকা রাখে। একটা টেস্ট ম্যাচে একজন ব্যাটারের আউটের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আজকে সকাল থেকে আমরা সবাই দেখেছি, এটাতো লুকানোর কিছু নেই। বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গেছে যেগুলো আমাদের পক্ষে গেলে হয়তো ২৭০ এর পরিবর্তে আমরা ১৮০ তাড়া করতাম। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত আমাদের মেনে নিতে হয় মাঠে।’

‘হয়তোবা আমরা একটা রিভিউ নিই নাই ভয়ে, ওটা হলেও একটা উইকেট পেতাম আমরা। তবে এমন অধারাবাহিক আম্পায়ারিং আসলে অনেক দিন পরে দেখলাম আজ। সত্যি কথা বলতে এখন তো সারা বিশ্ব খুলে গেছে, আমার মনে হয় আম্পায়ারিংয়ের বিষয়টা এখন আইসিসির দেখা উচিৎ। যদি নিরপেক্ষ আম্পায়ার দেওয়া হয় টেস্ট ম্যাচগুলোতে তাহলে আরও বেটার হবে আশা করি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

রিপন মন্ডলের অলরাউন্ড নৈপুণ্য, রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতলো শাইনপুকুর

Read Next

জানা বাস্তবতায় শেষদিনে বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা জয়

Total
0
Share