সাড়ে ৬ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেই বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে ফেললেন হারমার

সাড়ে ৬ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেই বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে ফেললেন হারমার
Vinkmag ad

সাড়ে ৬ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে টেস্ট খেলতে নেমেছেন স্পিনার শিমন হারমার। ব্যাট হাতে শেষদিকে দারুণ এক ইনিংসের পর বল হাতে ঘূর্ণি জাদুতে প্রত্যাবর্তনটা রাঙিয়ে রাখলেন হারমার। তার এমন পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়াদের ৩৬৭ রানে আটকে দিয়েও অস্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

হারমার ঘূর্ণি মোহে পড়ে ৪ উইকেটে ৯৮ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। সবকটি উইকেটই নিজের পকেটে পুরেছেন এই অফ স্পিনার। বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে ২৬৯ রানে। টাইগারদের আশা হয়ে এক প্রান্ত আগলে রাখা মাহমুদুল হাসান জয় অপরাজিত আছেন ৪৪ রানে।

অথচ দিনের নায়ক হতে পারতেন এই টেস্টে খেলার কথাই ছিল না যার সেই খালেদ আহমেদ। ৪ উইকেটে ২৩৩ রানে দিন শুরু করা প্রোটিয়াদের বেশি দূর যেতে না পারার নৈপথ্যে যে খালেদ। ডানহাতি এই পেসারের শিকার ৪ উইকেট।

ডারবান টেস্টের উইকেট প্রথম দিনই উপহার দেয় বিষ্ময়। দুই দলের কাছেই অপ্রত্যাশিত উইকেট ছিল। উইকেট থেকে যে কোনো ফায়দাই পায়নি পেসাররা, দেখা মিলে এক টুকরো ব্যাটিং স্বর্গের।

আজ (১ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনশেষ সেশনে তো মনেই হচ্ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে খেলা হচ্ছে। এতো বেশি স্পিন ধরেছে, দেখে মনে হতেই পারে উপমহাদেশের কোনো মাঠের দৃশ্য।

লাঞ্চের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করে সাদমান ইসলামের উইকেট হারিয়ে ২৫ রান তুলে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। শিমন হারমারের বলে সাদমান (৩৩ বলে ৯) বোল্ড হন।

১৬ রানে অপরাজিত থেকে চা বিরতিতে যাওয়া জয় চা বিরতির পরের সেশনে দারুণ ব্যাটিং করেন শান্তকে নিয়ে। আলোক স্বল্পতায় পেসারদের দিয়ে বল করানো সম্ভব না হওয়ায় দুই স্বীকৃত স্পিনার কেশব মহারাজ ও শিমন হারমারের সাথে হাত ঘুরান অধিনায়ক ডিন এলগারও।

স্পিনাররাও পেয়েছেন উইকেট থেকে দারুণ সুবিধা। পুরো সময়টাই টার্ন ও বাউন্সের ছোবল সামলাতে হয়েছে টাইগার ব্যাটারদের।

হারমার-কেশবের নিয়মিত ভয়ঙ্কর হয়ে হয়ে ওঠা ডেলিভারিগুলোকে সামলে সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন জয়-শান্ত। দৃষ্টিনন্দন চারের সাথে জোনে পেয়ে ছক্কা হাঁকাতেও বিলম্ব করেননি শান্ত। যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে দিনের বাকি সময় অনায়েসেই কাটিয়ে দিবেন বলে মনে হচ্ছিল।

কিন্তু দিনের মাত্র কয়েক ওভার বাকি থাকতে শান্ত ফিরেছেন হারমারের বলে বোল্ড হয়ে। মিডল স্টাম্পে পিচড হয়ে হাল্কা টার্নে বেরিয়ে যাওয়ার আগে চুমু খেয়ে যায় অফ স্টাম্পে। ৮৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংসটি সাজান সমান দুইটি করে চার, ছক্কায়, জয়ের সাথে ভাঙে ৫৫ রানের জুটি।

নিজের পরের ওভার করতে এসে অধিনায়ক মুমিনুল হককে হারমার ফেরান খালি হাতে। সিলি পয়েন্টে এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন কিগান পিটারসেন।

এরপর ক্রিজে এসে অস্বস্তি কাটানোর আগেই সাজঘরের পথ ধরতে হয় মুশফিকুর রহিমকেও। কট বিহাইন্ডের আবেদনে আম্পায়ার একবার আঙুল তুলে দিলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচেন।

তবের পরের দফায় হারমারের টার্ন করা ডেলিভারি মুশফিকের (৭) গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেট রক্ষকের হাতে জমা হয়। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল দক্ষিণ আফ্রিকা।

৯৪ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দিন শেষ করে জয় ও নাইট ওয়াচম্যান তাসকিন আহমেদের ব্যাটে। জয় ১৪১ বলে ৪ চারে ৪৪ ও ৬ বলে কোনো রান না করে অপরাজিত আছেন তাসকিন। ২০ ওভারে ৭ মেডেনসহ ৪২ রান খরচায় ৪ উইকেট হারমারের।

এর আগে ৪ উইকেটে ২৩৩ রান নিয়ে দিন শুরু করে স্বাগতিকরা (বাভুমা ৫৩* ও ভেরেনে ২৭*)। তবে দিনের শুরুতেই খালেদের এক ওভারেই জোড়া আঘাত। ইনিংসের ৮৩তম ওভারে পরপর দুই বলে ফেরান কাইল ভেরেনে ও উইয়ান মুল্ডারকে।

ভেরেনেকে (৮১ বলে ২৮) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বাভুমার সাথে ৬৫ রানের জুটি ভাঙেন খালেদ। পরের বলেই খালি হাতে ফেরান মুল্ডারকে, গালিতে তার সহজ ক্যাচ নেন মাহমদুল হাসান জয়।

৬ উইকেটে ২৪৫ রানে পরিণত হওয়া প্রোটিয়াদের টেনে নিচ্ছিলেন বাভুমা। ২০১৬ সালে পাওয়া ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পর কেটে গেছে ৪৩ টেস্ট, নিজের ৫০তম টেস্টে ছুটছিলেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিকে।

এবাদত হোসেনের করা ইনিংসের ৯২তম ওভারে অবশ্য জীবন পেয়েছেন। ব্যক্তিগত ৭৭ রানে ব্যাট করছিলেন বাভুমা, বাড়তি বাউন্সের লেংথ বলে ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে। গতি আর উচ্চতার কারণে ঠিকঠাক তালুবন্দী করতে পারেননি ইয়াসির আলি।

জীবন পেয়েও অবশ্য তুলে নিতে পারেননি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হন ৯৩ রানে। ১৯০ বলে ১২ চারে সাজান ইনিংসটি। বাভুমার বিদায়ে কেশব মহারাজের সাথে ৫৩ রানের জুটি ভাঙে। লাঞ্চের আগে কেশবকে ফেরান ( ৪০ বলে ১৯) এবাদত।

৮ উইকেটে ৩১৪ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় প্রোটিয়ারা। শিমন হারমার ৮ ও লিজাড উইলিয়ামস অপরাজিত ছিলেন ৬ রানে।

লাঞ্চের পর উইলিয়ামসকে (১২) ফিরিয়ে চতুর্থ উইকেট শিকার খালেদের। তবে ১০ম উইকেটে জুটিতে শিমন হারমার ও ডুয়ানে অলিভিয়ার যোগ করে ফেলে ৩৫ রান। মিরাজের বলে অলিভিয়ার (১২) এলবিডব্লিউ হলে শেষ হয় প্রোটিয়াদের ইনিংস। ৭৩ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন হারমার।

২৫ ওভারে ৯২ রান খরচায় ৪ উইকেট খালেদের, যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশী পেসারদের সেরা বোলিং ফিগার। সবচেয়ে বেশি ৪০ ওভার বল করে ৯৪ রানে ৩ উইকেট মিরাজের। ২৯ ওভারে ৮৬ রান খরচায় এবাদতের শিকার ২ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (২য় দিন শেষে):

দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৬৭/১০ (১২১), এলগার ৬৭, এরউই ৪১, পিটারসেন ১৯, বাভুমা ৯৩, রিকেলটন ২১, ভেরেনে ২৮, মুলডার ০, মহারাজ ১৯, হারমার ৩৮*, উইলিয়ামস ১২, অলিভিয়ার ১২; এবাদত ২৯-১০-৮৬-২, খালেদ ২৫-৩-৯২-৪, মিরাজ ৪০-৮-৯৪-৩

বাংলাদেশ ৯৮/৪ (৪৯), জয় ৪৪*, সাদমান ৯, শান্ত ৩৮, মুমিনুল ০, মুশফিক ৭, তাসকিন ০*; হারমার ২০-৭-৪২-৪।

বাংলাদেশ ২৬৯ রানে পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

দক্ষিণ আফ্রিকা নয় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে উঠছেন সাকিব

Read Next

এখনই সব শেষ হয়ে গেছে মানতে নারাজ মিরাজ

Total
1
Share