আম্পায়ারিং বিতর্কের ম্যাচে আবাহনীর ২০ রানের জয়

আম্পায়ারিং বিতর্কের ম্যাচে আবাহনীর ২০ রানের জয়
Vinkmag ad

আবাহনীর বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির বলে ডিফেন্স করেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমতির ব্যাটার হাসানুজ্জামান। বল ব্যাটে লেগে চলে যাচ্ছিলো ফাইন লেগ অঞ্চলে। ব্যাট মিস করাতে পারেননি বলে কিছুটা হতাশায় ক্রিজে দাঁড়িয়ে রইলেন বোলার সানি, উইকেটরক্ষকেরও যেন একই আক্ষেপ।

কিন্তু স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডারের দায়সারা আবেদন, আম্পায়ারের জন্য এতটুকুই যেন যথেষ্ট। আঙুল উঁচিয়ে সাঝঘরের পথ দেখালেন হাসানুজ্জামানকে, এ যেন তার কাছে রীতিমত বিস্ময় হয়ে ধরা দিল। কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না এভাবেও আউট হওয়া যায়! কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, আন্তর্জাতিক আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুলের এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তেই যত আলোচনা, সমালোচনা।

বিতর্ক ঠেলে এগোনো ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে অবশ্য প্রত্যাশিত জয়ই পেয়েছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। খেলাঘরকে হারিয়েছে ২০ রানের ব্যবধানে।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) ৩ নম্বর মাঠে আগে ব্যাট করে নাইম শেখের ৮৪ ও মোসাদ্দেক হোসেনের ৬৩ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ২৬১ রানের পুঁজি আবাহনীর। অমিত মজুমদার ও অমিত হাসানের জোড়া ফিফটিতেও অবশ্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি খেলাঘর, ৯ উইকেটে থামে ২৪১ রানে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৮ রানেই ৩ উইকেট হারায় আবাহনী। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেট জুটিতে নাইম শেখ ও মোসাদ্দেক যোগ করেন ১১১ রান। শুরুতে বেশ ধীর গতির ব্যাটিং উপহার দেন নাইম। প্রথম ৫০ বলে তার ব্যাটে মাত্র ১৯ রান, ফিফটি ছুঁয়েছেন ৯২ বলে, নিজের খেলা ১০০ বলে রান ৫৪!

তবে শেষদিকে কিছুটা পুষিয়ে দেন আই বাঁহাতি, আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে তোলেন ৩০ রান। চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ফিরলে মোসাদ্দেকের সাথে জুটি, নামের পাশে ১১৮ বলে ৬ চার ৩ ছক্কায় ৮৪ রান।

নাইমের বিদায়ের পর আবাহনীর রানের চাকা সচল রাখেন মোসাদ্দেক, ৭০ বলে ফিফটি তুলে আউট হয়েছেন ৮০ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৬৩ রান করে। শেষদিকে শামীমের ব্যাটে আসে ৩৯ বলে ৪ চারে ৪২ রান।

মাঝে আফিফ হোসেন করেন ২৩ রান। আবাহনীকে ২৬১ রানে আটকানোর পথে খেলাঘরের হয়ে সর্বোচ্চ ২ টি করে উইকেট মেহেদী হাসান ও সালমান হোসেন ইমনের।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৩০ রানে ২ উইকেট হারায় খেলাঘর, যেখানে ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে ঐ বিতর্কিত উইকেটও ছিল। পরে অমিত হাসান ও অমিত মজুমদারের ব্যাটে ১২১ রানের জুটি। ৯০ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৭৯ রান করে মজুমদার আউট হলে ভাঙে জুটি।

২০ রানের ব্যবধানে ফিরে যান ফিফটি হাঁকানো আরেক ব্যাটার অমিত হাসান। ৮২ বলে ৬ চারে তার ব্যাটে ৫৪ রান। তার বিদায়ের পর আর দাঁড়াতে পারেনি খেলাঘরের কোনো ব্যাটার। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে। শেষ পর্যন্ত থামতে হয় ৯ উইকেটে ২৪১ রানে। আবাহনীর হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি করে উইকেট আরাফাত সানি ও তানজিম হাসান সাকিবের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী ২৬১/৯ (৫০ ওভার), নাইম ৮৪, জাকের ২০, হনুমা ৩, তৌহিদ ০, মোসাদ্দেক ৬৩, আফিফ ২৩, শামীম ৪২, সাইফউদ্দিন ১, সাকিব ৮, তানভীর ৩*, আরাফাত ০*; মেহেদী ৯-১-৩১-২, টিপু ৯-০-৫৩-১, টুটুল ১০-০-৫০-১, সাজ্জাদ ৬-০-৩৫-১, নিহাদুজ্জামান ৬-০-৩৪-০, সালমান ১০-০-৫৮-২।

খেলাঘর ২৪১/৯ (৫০ ওভার), পিনাক ১৫, হাসানুজ্জামান ৮, অমিত মজুমদার ৭৯, অমিত হাসান ৫৪, সালমান ৫, প্রীতম ১২, টুটুল ১৩, মেহেদী ৬, টিপু ০, নিহাদুজ্জামান ১৫*, সাজ্জাদ ১৮*; সাইফউদ্দিন ১০-০-৫০-২, আরাফাত ১০-০-৪৪-৩, মোসাদ্দেক ৮-১-২৫-০, সাকিব ৯-০-৪৮-৩, তানভীর ৮-০-৫২-১, আফিফ ৫-০-১৯-০।

ফলাফল: আবাহনী ২০ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: নাইম শেখ (আবাহনী)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

প্রাইম ব্যাংকের রান পাহাড়ে চাপা পড়ল শাইনপুকুর

Read Next

ফিজবিহীন দিল্লি ক্যাপিটালস হারিয়ে দিল মুম্বাইকে

Total
1
Share