এক যুগের অপেক্ষা শেষে দেশে নারী আম্পায়ারের যাত্রা

এক যুগের অপেক্ষা শেষে দেশে নারী আম্পায়ারের যাত্রা
Vinkmag ad

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবির) নতুন পরিচালনা পর্ষদ অল্প দিনেই বেশ কিছু চমক দেখিয়েছে। এবার আম্পায়ার্স কমিটি প্রথম বারের মতো যাত্রা শুরু করলো নারী আম্পায়ারদের দিয়ে ম্যাচ পরিচালনার। প্রথম যাত্রার অংশ সাবেক নারী ক্রিকেটার সাথিরা জাকির জেসি, ২০০৯ সালে কোর্স করে এতোদিন পর কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত।

বিসিবির সর্বশেষ মেয়াদে সবচেয়ে বিতর্কিত কমিটি ছিল আম্পায়ার্স কমিটি। তবে এই কমিটির নতুন চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু শুরু থেকেই ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছেন। নতুন মেয়াদে এখনো পর্যন্ত আম্পায়ারিং নিয়ে নেই কোনো বিতর্ক। দিন কয়েক আগে ঘোষণা দেন আম্পায়ার, রেফারি ও স্কোরার সব জায়গাতেই নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান।

মিঠু কথা দিয়েই আটকে ছিলেন না, তা বাস্তবায়নে সময় নেননি খুব বেশি। দেশের ক্রিকেটে নারী আম্পায়ারের যাত্রা করালেন দেশের ৫১তম স্বাধীনতা দিবসে। সাবেক পুরুষ ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত প্রীতি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই আম্পায়ারিংয়ের সুযোগ পেলো নারীরা।

আজ (২৬ মার্চ) মিরপুর একাডেমি মাঠে বাংলাদেশ লাল ও সবুজ দলে বিভক্ত হয়ে খেলা ম্যাচে ৩ আম্পায়ারের দুজনই ছিলেন নারী। অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে সাবেক ক্রিকেটার সাথিরা জাকির জেসি ও সৈয়দ মাহবুবউল্লাহর সাথে তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন আরেক নারী ডলি রানী সরকার।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশে প্রথম নারী আম্পায়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন জেসি। ২০০৯ সালে কোর্স করা জেসি আশাবাদী আজ থেকে শুরু হওয়া যাত্রা মসৃণভাবে সামনে এগোবে।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে জাতীয় দলে থাকতেই আমি, সালমা, পান্না থেকে শুরু করে সবাই কিন্তু মোটামুটি আম্পায়ারিং কোর্সটা করেছি। আজকে ২০২২ সালে এসে আমরা কাজ করার সুযোগ পেলাম বা শুরুটা করলাম।’

‘আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো কাজ করার সুযোগ পাবো। অবশ্যই লক্ষ্য তো আছে…আপনারা দেখবেন যেহেতু মেয়েদের বিশ্বকাপ চলছে ম্যাচ রেফারি আছে, আম্পায়ার মেয়েরা আছে। এমনকি ছেলেদের ক্রিকেটে এখন মেয়ে আম্পায়ার আছে।’

স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি এই ম্যাচে অংশ নেয় দেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা। যেখানে দেখা যায় ইউসুফ বাবু, মেহরাব হোসেন অপি, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, মোহাম্মদ রফিক, আফতাব আহমেদ, শাহরিয়ার নাফিস, খালেদ মাসুদ পাইলটরা। এমন সব তারকাদের ম্যাচে আম্পায়ারিং যাত্রা, কিছুটা নার্ভাস ছিলেন বলেও জানান জেসি।

‘একটু নার্ভাস ছিলাম যে নান্নু ভাইরা খেলবে, রফিক ভাইরা খেলবে। তাদের খেলা দেখে ক্রিকেটার হয়েছি, বড় হয়েছি। তাদের ম্যাচে আম্পায়ারিং করবো এটা নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটা ব্যাপার। রোমাঞ্চের সাথে নার্ভাসনেসও কাজ করেছিল।’

‘কিন্তু যখনই মাঠে চলে এসেছি তখন আমার কাছে পুরো ব্যাপারটা পেশাদার মনে হয়েছে। খুবই ভালো লাগছে আমার জন্য এই ম্যাচে আম্পায়ারিং করা অনেক বড় পাওয়া। আজকে শুরু হয়েছে, শুরুটা করা গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো নতুন কিছুর।’

বাংলাদেশের হয়ে দুইটি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলা জেসি মনে করেন এমন যাত্রায় অবসরের পর নারী ক্রিকেটারদের কাজ করার সুযোগ বাড়লো।

‘মিঠু ভাই যেটা বলল স্কুল ক্রিকেট দিয়ে মেয়েদের আম্পায়ারিংটা (ভালোভাবে) শুরু করবে। সেটা হলে মেয়েদের জন্য ক্রিকেট ছারার পরে অনেক বেশি জায়গা বেড়ে গেলো যে কোথায় কাজ করবে, বিকল্প থাকছে।’

‘যার যেখানে প্যাশন সে সেটা নিয়ে কাজ করবে। এমনকি তারা মেয়ে স্কোরার খুঁজছে, অনেক আম্পায়ার আনবে, মেয়ে ম্যাচ রেফারি আনবে। সবকিছু মিলিয়ে মেয়েদের জন্য জায়গাটা অনেক বেড়ে গেল কাজ করার আমি মনে করি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ইনজুরির কবলে স্মিথ, সাদা বলের সিরিজ না খেলেই ফিরছেন দেশে

Read Next

স্বাধীনতা দিবস প্রদর্শনী ম্যাচে লাল দলের বড় জয়

Total
34
Share