সাকিবকে ছাড়া অভ্যস্থ হয়ে গেছেন মুমিনুল

সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ চলবে না, বিষয়টা এমন নাঃ মুমিনুল
Vinkmag ad

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সাকিব আল হাসানকে পাওয়া যাচ্ছে না নিশ্চিত। এমনকি দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে তার যাওয়ার ব্যাপারেও আছে অনিশ্চয়তা। অধিনায়ক মুমিনুল হক অবশ্য নিজেকে দূর্ভাগা ভাবতে নারাজ। এতোদিনে সাকিবকে ছাড়া টেস্ট খেলার অভ্যাস যে তৈরি হয়ে গেছে তার।

২০১৯ সালে সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়কত্ব পান মুমিনুল। তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পরও সাকিবকে খুব বেশি পাননি টাইগার টেস্ট কাপ্তান। চোট, বিশ্রাম কিংবা ছুটিতে প্রায় সময়ই ছিলেন না টেস্টে।

সাকিব নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর বাংলাদেশ খেলেছে ৯ টেস্ট, যেখানে সাকিব ছিলেন মাত্র ৩ টিতে। তার মধ্যে ২০২১ সালে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তন টেস্টেই কুঁচকির চোটে মাঝপথে ছিটকে যান। এই ৩ টেস্টের সর্বশেষটি খেলেছেন গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ছুটি নেওয়ায় হতে পারেননি নিউজিল্যান্ডে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের অংশও।

এবারের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট থেকেও ছুটি চেয়েছিলেন কয়েক মাস আগে। তবে আইপিএলে দল না পাওয়ায় তার টেস্ট খেলার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এ দফায় সাকিব পুরো সফর থেকেই বিশ্রাম চেয়ে বসেন। শারীরিক ও মানসিক অবসাদ আমলে নিয়ে বোর্ড ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটিও দেয়।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজেই সিদ্ধান্ত বদল করে ওয়ানডের সাথে টেস্ট সিরিজ খেলতেও দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে শেষেই খবর দেশে সন্তান, স্ত্রী, মা ও শাশুড়ি সহ পরিবারের পাঁচ সদস্য হাসপাতালে।

সাকিবকে দেশে ফেরার সবুজ সংকেত দেয় বোর্ড, তবে তৃতীয় ওয়ানডে খেলেই ফিরতে চান সাকিব। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হারাতে চাননি।

ঐতিহাসিক সিরিজ জয় শেষে গতকাল (২৪ মার্চ) দেশে ফেরেন সাকিব, প্রথম টেস্টে নিশ্চিত থাকছেন না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যেতে পারেন দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে, তবে তার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি।

এমন পরিস্থিতিতে সাকিবকে পেতে পেতেও হারানো অধিনায়ক মুমিনুল হকের জন্য কতটা খারাপ লাগার? আজ ডারবানে উপস্থিত বাংলাদেশী সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মুমিনুল জানালেন সাকিবকে ছাড়া খেলায় তিনি অভ্যস্ত। তবে তার থাকাটা কাজ সহজ করতো নিশ্চিতভাবেই।

মুমিনুল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় উনি থাকাটা, উল্টাটা আরকি। প্রায় সময়তো উনি থাকে না, থাকাটা লাকি/আনলাকি…(হাসি)। যদিও জিনিসটা আমি মানিয়ে নিয়ে ফেলেছি। উনি থাকলে টিম কম্বিনেশন সহজ হয়, একটা অতিরিক্ত ব্যাটার, একটা বাড়তি বোলার খেলানো যায়। ওসব জায়গায় খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন যেহেতু নাই, যেসব অস্ত্র আছে সেসব কাজে লাগিয়েই ম্যাচ জেতার চেষ্টা করতে হবে।’

এদিকে দীর্ঘদিন পর টেস্টে ফিরছেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালও। গত বছর এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন তামিম। তবে এক্ষেত্রেও টেস্ট কাপ্তান মুমিনুলের একই দর্শন, কে থাকলো কে থাকলো না সেতা নিয়ে ভাবেন না, বরাবরের মতোই থাকেন আশাবাদী।

তবে তামিমের উপস্থিতিতি টপ অর্ডারে ফেরাবে স্বস্তি উল্লেখ করে মুমিনুল যোগ করেন, ‘দেখেন যখন আমরা নিউজিল্যান্ডে গেলাম তখন কিন্তু তামিম ভাই, সাকিব ভাই ছিল না, শুধু মুশফিক ভাই ছিল। অনেক ক্রিকেটার ছিল অনেক ক্রিকেটার ছিল না।’

‘থাকুক না থাকুক আমি সব সময় প্রেস কনফারেন্সে বলি, আশাবাদী থাকতে পছন্দ করি। তামিম ভাইয়ের ভূমিকাটা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে উপরের দিকে। উনাকে পাওয়াতে আমাদের জন্য কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

দুই জাকিরের সেঞ্চুরির দিনে রুপগঞ্জের জয়

Read Next

লাহোর টেস্ট জিতে সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

Total
8
Share