সাকিব বেঁচে থাকুক কোটি হৃদয়ে বিশ্বাস হয়ে, ভরসা হয়ে অথবা আদর্শ হয়ে

Shakib
Vinkmag ad

“হি ইজ এ সুপারস্টার অফ বাংলাদেশ ক্রিকেট এন্ড হি হ্যাজ প্লেয়ড লাইক এ সুপারস্টার” -কমেন্টেটর নাসের হুসাইনের কণ্ঠে। বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করেছেন যারা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে একসাথে আনন্দ করার উপলক্ষ এনে দিয়েছেন তিনি অনেকবার। সবাইকে গর্ব করে বলতে পারার সুযোগ করে দিয়েছেন, “এক নাম্বার অলরাউন্ডারটা আমার দেশের”। সেই সাকিব আল হাসানের আজ ৩৫তম জন্মদিন।

সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক অর্জনের নাম। রেকর্ড, র‍্যাংকিং, অলরাউন্ডার, নাম্বার ওয়ান, এগ্রেশন এইসব শব্দের সাথে সাকিব বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়েছেন। ভাগ্যিশ সাকিব জন্মেছিলেন এইদেশে, তাইতো বিশ্ব মানচিত্রে গর্ব করে চলতে পারি, বলতে পারি বাংলাদেশের নাম। সাকিব বেঁচে থাকুক কোটি হৃদয়ে বিশ্বাস হয়ে, ভরসা হয়ে অথবা আদর্শ হয়ে!

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাকিব আল হাসান কোনো একটি অধ্যায় নয়, পুরো একটা মহাকাব্য। দ্য গ্রেটেস্ট অফ বাংলাদেশ ক্রিকেট হিস্টোরি। দলের বিপর্যয়, স্কোরবোর্ডে রান দরকার? সাকিব আছে না! প্রতিপক্ষের উইকেট পড়ছে না, পার্টনারশিপ বড় হয়ে যাচ্ছে? সাকিব আছে তো! প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়া দরকার কম রানেই, সাকিবই প্যাকড করে দেবে! কভার অঞ্চলে দারুণ একজন ফিল্ডার দরকার… নিয়ে এসো সাকিবকে। এমন অদ্ভুত ক্যারেক্টারের খেলোয়াড় বাংলাদেশ কি আদৌ পেয়েছে এর আগে? মোটামুটি চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায়, উত্তরটা হবে, “না!”

পাহাড় সমান চাপ নিয়েও হাসিমুখে খুনে মেজাজে পারফর্ম করে যাওয়ারাই বিশ্ব ক্রিকেটে তারকা থেকে মহাতারকা হয়েছেন যুগে যুগে। মাথার উপর সমালোচনার একরাশ ঝড় তুফান নিয়েও দিব্যি চলতে পারেন নিজের মত করে। কারণ তিনি যে সাকিব, তাঁর যে তুলনা হয় না, কাজটাও যে করেন সাকিবের মতোই। বড়পর্দায় সাকিবের মতো একটানা সাফল্যে ঝুলি ভরেছে এমন নায়ক নেহাতই হাতে গোনা।

২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পয়তাল্লিশতম ওভারের পঞ্চম বল, অ্যাডাম মিলনের ১৩৯ কিলোমিটার পার আওয়ার এর বলটা যখন সাকিব উইকেটকিপারের মাথার উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূরণ করল তখন বাংলাদেশ ঐতিহাসিক জয় থেকে মাত্র ১৮ রান দূরে।

কমেন্টেটর নাসের হুসাইন এর কন্ঠে ভেসে আসছিল – “He is a SUPERSTAR of Bangladesh Cricket and he has played like a SUPERSTAR”

জানিনা কোন শব্দ জাস্টিফাই করবে এই ম্যাচ, এই ইনিংস। সাকিবকে আমরা সেরা মানি। লেজেন্ড বলি। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটকে এইরকম কিছু উপহার না দিলে শুধু পরিসংখ্যান দেখে হয়ত লেজেন্ড বলতে সংকোচ করত। তাই এইরকম একটা অবিশ্বাস্য ইনিংসের দরকার ছিল।

জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অভিষেক। অভিষেক ম্যাচের পারফর্মেন্স খুব আহামড়ি কিছু ছিল না। এলটন চিগুম্বুরার উইকেট আর ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩০ রান। একসময় সাকিব মাঠে নামা মানেই দুইটা উইকেট আর ৩০ এর অধিক রান বলে বিশ্বাস করতাম। কিন্তু সেই সাকিব আজ এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্রিকেট খেলছে। খেলার ধারটা বিন্দুমাত্র কমেনি বরং তাঁর বেশ বেড়েছে। পরিসংখ্যানের দিকে খুব বেশি যাবোনা কারণ সেসব আমাদের প্রায় সবারই মুখস্থ। কত ম্যাচ খেলেছে! কয়টা উইকেট পেয়েছে! কত রান করেছে! কয়টা ক্যাচ নিয়েছে! ওয়ানডেতে ৩০০ উইকেট, ৭ হাজার রান হতে আর কয়টা উইকেট আর কয়টা রান প্রয়োজন এগুলো আমাদের প্রায়ই সবারই জানা। কারণ প্রত্যেক টা ম্যাচের পর পরই হিসেবগুলো আমাদের নতুন করে কষতে হয় যে!

বরং অন্য কিছু বলি! একসময় বাংলাদেশ টিম মানেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের একটা ব্যাপার। খুব একটা ভয় পাওয়ার মত টিমে কেউই ছিলনা। আশরাফুল যদিও ভয়ংকর ছিল কিন্তু রেগুলার না। তাই এই টিমটা নিয়ে অন্যদের অতোটা মাথাব্যথা ছিলনা। অথচ অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলার আগে ওদের অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আর ব্রেট লিদের নাম শুনে অন্যান্য দলের প্লেয়ারদের গ্লাসে গ্লাসে পানি খাওয়া লাগত। ভারতের শচীন, শেহওয়াগ। পাকিস্তানের ইনজামাম,শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব আক্তার। কিন্তু বাংলাদেশে কেউ ছিল না। ২০০৬ এর জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর পরই ক্রিকেট ভক্তরা বুঝে গেল আরেকটা সিরিজে যে বাংলাদেশ এমনই একজনকে পেতে যাচ্ছে।

গত ১০ বছরে এমন কোন ম্যাচ আছে কিনা যেখানে সাকিব ব্যাট হাতে, বল হাতে অথবা উভয় জায়গায় পারফর্ম করেনাই? আমার উত্তরঃ সাকিব এর ২২১ ওয়ানডে আর ৫৯ টেস্টের মধ্য হতে এমন ম্যাচ খুব হাতে গোনা দুই একটা যেখানে সাকিব ব্যাটে বলে কোনটাতেই পারফর্ম করেনি।

Consistency | Application | Average | Aggression | Technique | clever | Best | One of the best of all time | Records | Ranking |

                              এই শব্দগুলা শুধু আমরা অন্যান্য দেশের ক্রিকেটার ব্যাপারে শুনতাম সাকিব আমাদের কে এইসব শব্দের সাথে পরিচয় করিয়েছে। সাকিব দলের বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যেও একটা বিশ্বাস এনে দিয়েছে যে আমরাও ওদের সাথে সমানে-সমানে লড়াই করতে পারি।

সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক অর্জনের নাম। টেস্ট ক্রিকেটে রেগুলার পাঁচ উইকেট পাওয়া, ওয়ানডে ম্যাচে সবাইকে ছাপিয়ে ম্যাচ সেরা হওয়া, সিরিজ গুলোতে ‘সিরিজ সেরার পুরষ্কার’ এসব জিনিসগুলোকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে যেন ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলছে সাকিব। ম্যাচের সিচুয়েশন অনু্যায়ী প্লেয়িং স্টাইল চেঞ্জ করা মাথা খাটিয়ে বোলিং করা এই ব্যপারগুলাতে সাকিব তার পারদর্শিতা দেখিয়েছে গত দশটা বছর ধরেই। আরও দশ বছর সাকিব এভাবেই খেলে যাবে দেশের হয়ে আমাদের জন্য।

সাকিবের জন্মটা শুভই হয়েছে কোটি বাঙ্গালি ক্রিকেট ভক্তের জন্য। ১৯৮৭ সালের আজকের এই দিনে (২৪শে মার্চ) মাগুরা জেলায় জন্ম নেন এই ক্রিকেটীয় বিস্ময়। লাল সবুজের জার্সি গায়ে চাপিয়ে শাসন করছেন গোটা বিশ্বকে।

সাকিবের জন্মদিনে শুধু বাংলাদেশ না, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ভক্তেরা সাকিবকে জানিয়েছে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাকিব ভক্ত ছাড়াও সাকিবকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে সতীর্থ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম।

শুভ জন্মদিন সাকিব আল হাসান।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সরে দাঁড়ালেন ধোনি, চেন্নাইয়ের নয়া কাপ্তান জাদেজা

Read Next

বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব এমন বিশ্বাস তৈরির এখনই সময়: ডোমিঙ্গো

Total
1
Share