কিংবদন্তী হতে চাওয়া তাসকিন বলছেন যেতে হবে বহুদূর

featured photo updated
Vinkmag ad

তাসকিন আহমেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের গল্পটা কোনো অংশে উপন্যাস কিংবা সিনেমার রোমাঞ্চের চেয়ে কম না। গতি আর আগ্রাসণে মোড়ানো পেসার সংকটে ভোগা বাংলাদেশের মতো মরুভূমিতে খানিক স্বস্তির বৃষ্টি হয়েই এসেছিলেন। কিন্তু কিছুটা মোহ, কিছুটা দূর্ভাগ্য আর পেসারদের নিয়তির সাথে মিশে যাওয়া চোটে পড়ে হারিয়েই যেতে বসেছিলেন। একটা নির্দিষ্ট সময় কোথাও দেখা না যাওয়া তাসকিন ফিরে এসে চমকে দিলেন।

আর তাতে শুধু প্রতিপক্ষ ব্যাটার নয় চমকে গেলো সমালোচক থেকে শুরু করে সতীর্থরাই। তার নিবেদন, নিজেকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে আবার নতুন রূপে গড়ে তোলার যে প্রক্রিয়া তাতে এক যুগের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাটিয়ে দেওয়া টাইগার সিনিয়র ক্রিকেটাররাও তাকে উদাহরণ হিসেবে মানছেন। আর তরুণ ও উঠতি ক্রিকেটাররা প্রচেষ্টা, নিজের সাথে লড়াই, হার মেনে না নেওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবেই যে দেখেন ডানহাতি এই পেসারকে।

ফিটনেস ও মানসিকতা এই দুইয়ের সুনিপুণ বন্ধন করেছেন তাসকিন। ‘মনের জোরে চলছেরে দেহ দেহর জোরে মন’ জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হাবিব ওয়াহিদের গানের এই লাইনকে অন্যভাবে গেঁথে নিয়েছেন মস্তিষ্কে। মনের জোর বাড়াতে দেশ সেরা মাইন্ড ট্রেনারের কাছে নিয়মিত নিচ্ছেন দীক্ষা, আর শরীরের জোর বাড়াতে তাসকিন যা করেছেন সে নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

বছরের পর বছর দেশী-বিদেশী ট্রেনাররা ফিটনেস ইস্যুতে যে মানসিকতা বদলাতে পারেননি তাসকিন ছোঁয়ায় যেন বদলে গেল সেই ড্রেসিং রুমে সতীর্থদের মানসিকতাও। গত দেড় বছরে সমান তালে খেলছেন, দেশে-বিদেশে পারফর্মও করছেন একই ধারায়। তবে এবারের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ওয়ানডে সিরিজে তাসকিন যেন সেটার চূড়ান্ত ফলই পেলেন। ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে ৩ ম্যাচে নিলেন ৮ উইকেট। গতকাল (২৩ মার্চ) তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৩৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুটিয়ে দেন ১৫৪ রানেই। যা তামিম-লিটনের ব্যাটে ৯ উইকেট হাতে রেখেই জেতে বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তাসকিনকে প্রশ্ন করতে গিয়ে টেনে আনেন ২০১৬ সালের একটি স্মৃতি। বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) প্রকাশিত দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বই ‘মাশরাফি’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ঘটনা।

খুলনায় জিম্বাবুয়ের সাথে সিরিজ চলছিল, টিম হোটেলের ঐ অনুষ্ঠানে তাসকিন মাশরাফিকে তার নামে প্রকাশিত বই নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘হিরো একদিন তুই আমার চেয়েও বড় কিছু হবি , আমার চেয়েও বড় বই বের হবে তোকে নিয়ে।’ আজ এত বছর পরে তাসকিন কি তবে সে পথেই হাঁটছেন? তার নিজের অনুভূতি কি?

এমন প্রশ্নের জবাবে তাসকিন বলেন কিংবদন্তী মাশরাফির ভক্ত তিনি সেই ক্রিকেট খেলার শুরুর দিক থেকে। তার নিজের চাওয়া একদিন মাশরাফির মতো দেশের অন্যতম কিংবদন্তী পেস বোলার হওয়া। তবে সে পথের বাস্তবতাও জানেন ডানহাতি এই পেসার, যে কারণে নিজেই যোগ করেছেন যেতে হবে বহু দূর।

এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘যখন খেলা শুরু করেছি তখন থেকেই আমি মাশরাফি ভাইয়ের বড় ভক্ত। তার সাথে খেলার সৌভাগ্য হয়েছে, তার অধীনে বিশ্বকাপ খেলেছি। এখনো আমি সুযোগ পেলে অনেক সময় ফোন করি, উনি রেসপন্স করে।’

‘ফাস্ট বোলারদের মাঝে এখনো পর্যন্ত কিংবদন্তী, আমিও চাইবো যেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তী পেসার হতে পারি। অনেক দূর যেতে হবে। দেখেন কিছু ম্যাচ ভালো হবে কিছু ম্যাচ খারাপ হবে। আমি আমার প্রসেসেই স্ট্রিক্ট থাকতে চাই। সামনেও আমি একই প্রসেসে আগাবো ইন শা আল্লাহ।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ইতিহাস গড়া সিরিজ জয়ে টাইগাররা পাচ্ছেন ৩ কোটি টাকা

Read Next

তাসকিনের আইপিএল ক্ষতিপূরণে লক্ষ্য রাখছে বিসিবি

Total
1
Share