রেকর্ড গড়া জুটিতে সাকিবের যে পরিকল্পনা ছিল

রেকর্ড গড়া জুটিতে সাকিবের যে পরিকল্পনা ছিল
Vinkmag ad

সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে ইতিহাস গড়া রাত বাংলাদেশের জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে টাইগাররা পেলো প্রথম জয়। প্রথম ওয়ানডেতে ৩৮ রানে হারানো ম্যাচে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ রান সিরিজে নাটকীয়ভাবে অন্তর্ভূক্ত হওয়া সাকিবের। ম্যাচ শেষে সাকিব বলছেন ব্যাটিং ইনিংসে কিছু ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়েই সফল হয়েছেন।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সাকিবের ৭৭ রানের সাথে লিটন দাস ও ইয়াসির আলি রাব্বির জোড়া ফিফটি। অধিনায়ক তামিম ইকবালের ৪১ রান ছাড়াও শেষদিকে কার্যকর ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ, আফিফ, মিরাজরা।

৭ উইকেটে বাংলাদেশের ৩১৪ রানের জবাবে র‍্যাসি ভ্যান ডার ডুসেন (৮৬) ও ডেভিড মিলারের (৭৯) রানের ইনিংসেও ২৭৬ রানে আটকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

বাংলাদেশ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি সাকিব-ইয়াসিরের। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজনের ১১৫ যেকোনো উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ।

মানসিক ও শারীরিক অবসাদে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে বিশ্রাম নেওয়া সাকিব শেষ মুহূর্তে যোগ দেন দলের সাথে। ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জানান ব্যাটিং করার সময় কি পরিল্পনা ছিল।

সাকিব বলেন, ‘আমি ৭-৮ বল খেলার পর বুঝতে পারি যে উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। আমাদের ৩০০’র কাছাকাছি রান করতে হতো। আমাদের শুরুটাও ভালো হয়েছে। লিটন-তামিম ভালো শুরু এনে দিয়েছে। আমাদের জন্য ছন্দটা ধরে রাখা উচিত ছিল। কারণ নতুন বলের উজ্জ্বলতা চলে যাওয়ার পর রান করা সহজ মনে হচ্ছিল।’

‘সেই সুবিধাটাই নিতে চেষ্টা করেছি। ভাগ্য ভালো আজ সেটা কাজে লেগেছে। ইয়াসির খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। ওর সঙ্গে আমার জুটিটা ভালো ছিল। ইয়াসিরকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। কারণ সে তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচ খেলছে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে। এটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না।’

৬৪ বলে ৭ চার ৩ ছক্কায় সাকিবের ৭৭ রানের ইনিংস। আউট হয়েছেন ৪২ তম ওভারে। তবে ৩০-৪০ ওভার সময়কালে যে লক্ষ্যে ব্যাট করতে চেয়েছেন সেটা সফল করেই ফিরেছেন।

সাকিব বলেন, ‘আমি যখন ক্রিজে আসি তখন বল তেমন কিছুই করছিল না যেমনটা প্রথম ১০ ওভারে করছিল। আমরা সোজা ব্যাটে খেলেছি, কিছু হিসেবি ঝুঁকি নিয়েছি। ৩০-৪০ ওভার সময়কালে বোলারের উপর চড়াও হতে চেয়েছি। রাবাদা ফের আক্রমণে আসুক সেটা চেয়েছি, এটাই আজ কাজে লেগেছে। আমি ভাবছিলাম ওই সময়ই দ্রুত রান করা উচিত ছিল। তা না হলে আমরা ২৬০-২৭০ রানের বেশি করতে পারতাম না।’

‘আমরা যে ছন্দটা পাই ৩০ ওভারের সময়, ওটাই ম্যাচের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। আমরা জানতাম যে ডেথ ওভারে রাবাদা তিন-চার ওভার বোলিং করবে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম যেন তাঁরা রাবাদাকে আগে বোলিং করাতে বাধ্য হয়। সে জন্যই আমাদের ঝুঁকি নিতে হয়েছে। এটাই আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ইতিহাস গড়া জয়ে প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ দল

Read Next

মিরাজের মতো চরিত্র সব দলে প্রয়োজন বলছেন তামিম

Total
1
Share