জিতল বাংলাদেশ, কাটল দক্ষিণ আফ্রিকা গেরো

জিতল বাংলাদেশ, কাটল দক্ষিণ আফ্রিকা গেরো
Vinkmag ad

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের ব্যাটারদের বিপক্ষে আগুন ঝরাচ্ছে বাংলাদেশী পেসাররা। এমন দৃশ্য কল্পনাতেও ভেবেছেন কজনই? তবে সব কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে, অতীত পরিসংখ্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইতিহাস বদলে দেওয়া ম্যাচে সেরকম কিছুই করলো তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামরা। তবে বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও স্পিন ভেল্কি দেখিয়ে পূর্ণতা এনে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সব ফরম্যাট মিলিয়ে প্রথম জয় পাওয়া ম্যাচে এক গুচ্ছ রেকর্ড সঙ্গী হয়েছে টাইগারদের। স্বাগতিকদের ৩৮ রানে হারিয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।

বোলারদের পিষে ফেলা হয় এমন উইকেটগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্ক। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে সর্বোচ্চ রানের দলীয় সংগ্রহ।

যেখানে ব্যাট হাতে নেতৃত্বটা দিয়েছেন মানসিক ও শারীরিক অবসাদে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেই বিশ্রাম চাওয়া সাকিব আল হাসান। তার ৭৭ রানের ইনিংসের সাথে লিটন দাস ও ইয়াসির আলি রাব্বির জোড়া ফিফটি।

শেষদিকে কার্যকর ক্যামিওতে দলকে ৭ উইকেটে ৩১৪ রানের পুঁজি এনে দেন মাহমুদউল্লাহ, আফিফ, মিরাজরা। এই প্রথম প্রোটিয়া মুল্লুকে ৩০০ এর বেশি সংগ্রহ পেয়েছে টাইগাররা।

জবাবে তাসকিন-শরিফুলদের তোপে শুরুতে খেই হারায় স্বাগতিকরা। মাঝে র‍্যাসি ব্যান ডের ডুসেন ও শেষদিকে ডেভিড মিলারের দারুণ দুই ইনিংসও পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। ২৭৬ রানে গুটিয়ে যায় টেম্বা বাভুমার দল।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিতই দিচ্ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকানরা। পাওয়ার প্লেতে তোলে ৪৪ রান, তবে তার আগেই হারিয়ে বসে ৩ উইকেট।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ওপেনার ইয়ানেমান মালানকে (১০ বলে ৪) কট বিহাইন্ডে পরিণত করেন শরিফুল ইসলাম। ইনিংসের নবম ও নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে জোড়া শিকার তাসকিন আহমেদের।

কাইল ভেরেনেকে (২৫ বলে ২১) এলবিডব্লিউ ও এইডেন মার্করামকে খালি হাতে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে।

৩৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চাপে না পড়ে উল্টো ঘুরে দাঁড়ায় প্রোটিয়ারা। অধিনায়ক বাভুমাকে নিয়ে ডুসেনের ৮৫ রানের জুটি। ইনিংসের ২৪তম ওভারে তাসকিনকে হুক শটে ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি ছুঁয়েছেন ডুসেন।

জমে যাওয়া জুটি ভাঙতে আরেক দফা হাজির বাঁহাতি পেসার শরিফুল। নিজের দ্বিতীয় স্পেল করতে এসেই ফেরান বাভুমাকে। তার বেশ লাফিয়ে ওঠা বলকে আপার কাট করতে চেয়েছেন বাভুমা (৫৫ বলে ৩১)।

যেখানে নিজের উচ্চতা হয়েছে বড় বাঁধা। কেবল এজই করতে সক্ষম হন, উইকেটের পেছনে ক্যাচ লুফে নেন মুশফিক। তবে ফিফটির পর ডেভিড মিলারকে নিয়ে দলকে টেনে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা ডুসেনের।

ব্যক্তিগত ৮১ রানেই ফিরতে পারতেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার। শান্তর করা সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প যখন ভাঙে তখন তার ব্যাট ছিল পপিং ক্রিজের ভেতরে, কিন্তু তা হাওয়ায় ভাসানো। সেটি ঠিকঠাক বুঝতে না পেরে টিভি আম্পায়ার নট আউটের সিদ্ধান্ত দেন।

কিন্তু ফিরেছেন খানিক পরেই, পুরো ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করা তাসকিনকে ডিপ স্কয়ারে খেলতে গিয়ে পরিণত হন ইয়াসিরের দারুণ এক ক্যাচে। তাতে মিলারের সাথে ভাঙে ৭০ রানের জুটি। ৯৮ বলে ৯ চার ১ ছক্কায় নামের পাশে সেঞ্চুরি মিস করা ৮৬ রান।

তার বিদায়ের পর ডেভিড মিলারের ৫৭ বলে ৭৯ রানের ইনিংসে কেবল হারের ব্যবধানটাই কমাতে পেরেছে গত জানুয়ারিতে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে হারানো দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৭৬ রানে আটকে দেওয়ার পথে টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট মিরাজের। ৩ উইকেট তাসকিনের, ২ টি নেন শরিফুল।

এর আগে ইনিংস ওপেন করতে নেমে সাবধানী শুরু টাইগার দুই ওপেনার লিটন ও তামিমের। বিনা উইকেটে ৩৩ রান আসে পাওয়ার প্লেতে। ১৬তম ওভারে দলীয় ৫০ পূর্ণ হয়।

সময়ের সাথে সাথে লিটনকে নিয়ে হাত খুলে খেলার চেষ্টা করেন তামিম। ১৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজের উপর চড়াও হন লিটন। এক ছক্কার বিপরীতে হাঁকান ২ চার।

জুটি যখন সেঞ্চুরির পথে তখনই ফিরেছেন তামিম। আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োর রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা শর্ট অব লেংথের কিছুটা নিচু হওয়া ডেলিভারি পরাস্ত করে তামিমকে, বাঁচতে পারেননি রিভিউ নিয়েও।

৬৭ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় টাইগার অধিনায়কের ব্যাটে ৪১ রান। দুজনের ৯৫ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি।

তামিম মিস করলেও মহারাজের করা ২৩তম ওভারে লিটন তুলে নেন ফিফটি। কিন্তু পরের বলেই কাট করতে গিয়ে নিচু হওয়া ডেলিভারিতে হন বোল্ড (৬৭ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৫০ রানে)।

৯ রানের ব্যবধানে ২ ওপেনারের বিদায়। সাকিব-মুশফিকের জুটি টিকেনি ২০ রানের বেশি। মহারাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মুশফিক ফেরেন ১২ বলে ৯ রান করে।

সেখান থেকে সাকিব ও ইয়াসিরের ১১৫ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যেকোনো উইকেটে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ও একমাত্র শতরানের জুটি।

ফেলুকওয়ায়োর করা ৩৮তম ওভারে লং অফ দিয়ে ছক্কা মেরে ৫০ বলে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। ফিফটির পর রান তুলেছেন আরও দ্রুত গতিতে। তবে এনগিডির বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয়েছে ৬৪ বলে ৭ চার, ৩ ছক্কায় ৭৭ রান করে।

ততক্ষণে ইয়াসিরও পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা। কিন্তু ফিফটির পর রাবাদাকে ফিরতি ক্যাচ দেন ৪৩ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৫০ রান করে।

এমন শক্ত ভীতের পর শেষদিকে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ায় অবদান মাহমুদউল্লাহ (১৭ বলে ২৫), আফিফ (১৩ বলে ১৭) ও মিরাজের (১৩ বলে ১৯*)।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল ২০১৭ সালে কিম্বারলিতে ৭ উইকেটে ২৭৮ রান। আজ প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট নেন জানসেন ও মহারাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ৩১৪/৭ (৫০), তামিম ৪১, লিটন ৫০, সাকিব ৭৭, মুশফিক ৯, ইয়াসির ৫০, মাহমুদউল্লাহ ২৫, আফিফ ১৭, মিরাজ ১৯*, তাসকিন ৭*; এনগিডি ১০-১-৭৫-১, রাবাদা ১০-০-৫৭-১, জানসেন ১০-১-৫৭-২, মহারাজ ১০-০-৫৬-২, ফেলুকওয়ায়ো ১০-১-৬৩-১

দক্ষিণ আফ্রিকা ২৭৬/১০ (৪৮.৫), ভেরেনে ২১, মালান ৪, বাভুমা ৩১, মার্করাম ০, ডুসেন ৮৬, মিলার ৭৯, ফেলুকওয়ায়ো ২, জানসেন ২, রাবাদা ১, মহারাজ ২৩, এনগিডি ১৫*; শরিফুল ৮-০-৪৭-২, তাসকিন ১০-১-৩৬-৩, মিরাজ ৯-০-৬১-৪, মাহমুদউল্লাহ ১.৫-০-২৪-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৩৮ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)। 

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অনিকের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জয়ে ফিরল গাজী গ্রুপ

Read Next

ইতিহাস গড়া জয়ে প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ দল

Total
35
Share