তিন ফিফটিতে বাংলাদেশের ৩০০ পার

তিন ফিফটিতে বাংলাদেশের ৩০০ পার
Vinkmag ad

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে যা করতে পারেনি বাংলাদেশ তা করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। এতো বছরেও না পাওয়া সে কাঙ্খিত জয় ধরা দেবে কীনা সেটা সময় বলে দিবে। তবে আজ (১৮ মার্চ) সেঞ্চুরিয়নে প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে অবশ্য অনেক প্রথমের রেকর্ড গড়লো তামিম ইকবালের দল।

সুপারস্পোর্ট পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাস, সাকিব আল হাসান ও ইয়াসির আলির ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৩১৪ রানের সংগ্রহ পেল বাংলাদেশ। যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। সাকিবের ব্যাটে সর্বোচ্চ ৭৭ রান।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১৫ রান তুলে সাকিব-ইয়াসির প্রথম বারের মতো প্রোটিয়া মুল্লুকে এনে দিলেন শত রানের জুটি। এর আগে তামিম-লিটনের ব্যাটেও উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ ৯৫ রান এসেছে, অথচ এর আগে ছিল না ওপেনিংয়ে ৫০ রানের জুটিও।

ইনিংস ওপেন করতে নেমে সাবধানী শুরু দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবালের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে লুঙ্গি এনগিডিকে আপার কাটে ছক্কা মেরে রানের খাতা খোলেন তামিম। বিনা উইকেটে ৩৩ রান আসে পাওয়ার প্লেতে।

মার্কো জেনসেনের করা ১৬তম ওভারের প্রথম বলে চার মেরে দলীয় ৫০ রান পূর্ণ করেন তামিম। সময়ের সাথে লিটনকে নিয়ে কিছুটা হাত খুলে খেলার চেষ্টাও করেন। ১৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজের উপর চড়াও হন লিটন। এক ছক্কার বিপরীতে হাঁকান ২ চার।

জুটি যখন সেঞ্চুরির পথে তখনই ফিরেছেন তামিম। আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োর করা ২২তম ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন টাইগার দলপতি। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা শর্ট অব লেংথের কিছুটা নিচু হওয়া ডেলিভারি পরাস্ত করে তামিমকে, বাঁচতে পারেননি রিভিউ নিয়েও।

৬৭ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় টাইগার অধিনায়কের ব্যাটে ৪১ রান। দুজনের ৯৫ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং রানের জুটি।

তামিম মিস করলেও লিটন ঠিকই তুলে নেন ফিফটি। মহারাজের করা ২৩তম ওভারে কাভার পয়েন্টে ঠেলে ২ রান নিয়ে ৬৬ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। কিন্তু পরের বলেই কাট করতে গিয়ে নিচু হওয়া ডেলিভারিতে হন বোল্ড (আউট হন ৬৭ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৫০ রানে)।

৯ রানের ব্যবধানে ২ ওপেনারের বিদায়। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের জুটি টিকেনি ২০ রানের বেশি। মহারাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মুশফিক ফেরেন ১২ বলে ৯ রান করে।

সেখান থেকে সাকিব আল হাসান ও ইয়াসির আলি রাব্বির ১১৫ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যেকোনো উইকেটে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এটিই একমাত্র শতরানের জুটি।

ফেলুকওয়ায়োর করা ৩৮তম ওভারে লং অফ দিয়ে ছক্কা মেরে ৫০ বলে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। ফিফটির পর রান তুলেছেন আরও দ্রুত গতিতে। জেনসেনের করা ৪০ তম ওভারে একটি করে চার, ছক্কা হাঁকান। তবে এনগিডির বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয়েছে ৬৪ বলে ৭ চার, ৩ ছক্কায় ৭৭ রান করে।

ততক্ষণে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া ইয়াসিরও পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা। কিন্তু ফিফটির পর টিকেননি এক বলের বেশি, কাগিসো রাবাদাকে ফিরতি ক্যাচ দেন ৪৩ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৫০ রান করে।

এমন শক্ত ভীতের পর শেষদিকে বাংলাদেশকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে অবদান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১৭ বলে ২৫), আফিফ হোসেন (১৩ বলে ১৭) ও মেহেদী হাসান মিরাজের (১৩ বলে ১৯*)।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল ২০১৭ সালে কিম্বারলিতে ৭ উইকেটে ২৭৮ রান। আজ প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটী করে উইকেট নেন জেনসেন ও মহারাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ৩১৪/৭ (৫০), তামিম ৪১, লিটন ৫০, সাকিব ৭৭, মুশফিক ৯, ইয়াসির ৫০, মাহমুদউল্লাহ ২৫, আফিফ ১৭, মিরাজ ১৯*, তাসকিন ৭*; এনগিডি ১০-১-৭৫-১, রাবাদা ১০-০-৫৭-১, জানসেন ১০-১-৫৭-২, মহারাজ ১০-০-৫৬-২, ফেলুকওয়ায়ো ১০-১-৬৩-১।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অধিনায়কোচিত ইনিংসে দলকে জেতালেন ইমরুল কায়েস

Read Next

অনিকের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জয়ে ফিরল গাজী গ্রুপ

Total
1
Share