লিটনের অমন ইনিংসের পরেও ২০০ পার হল না

লিটনের অমন ইনিংসের পরেও ২০০ পার হল না
Vinkmag ad

আগেই সিরিজ নিশ্চিত হয়েছে, তবে নানা কারণেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগের ১০ পয়েন্ট অর্জনে নজর ছিল টাইগারদের। তবে লিটন দাসের আরও একটি বড় ইনিংসের পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় সফরকারীদের জন্য খুব বড় কোনো লক্ষ্য দিতে পারেনি বাংলাদেশ।

টস জিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে স্বাগতিকরা। ৪৬.৫ ওভারে গুটিয়ে গিয়ে করতে পারেনি ১৯২ রানের বেশি। লিটনের ৮৬ রানের বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাকিব আল হাসানের ৩০ রান।

দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস আজ শুরুটা করেন কিছুটা ধীরে। কিছুটা সময় নিতে লিটন অবশ্য ফেরেন নিজের চেনা ছন্দে। ৯ম ওভারে ফজল হক ফারুকীকে হাঁকান ২ চার, পরের ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকেও কাট শটে দারুণ ১ চার।

তবে ফারুকীর করা ১১তম ওভারে ফুল লেংথে করা ভেতরে ঢুকানো ডেলিভারিতে বোল্ড তামিম। এই নিয়ে সিরিজে তিনবারই একই বোলারকে উইকেট দিয়েছেন তামিম, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার, যেখানে ৩ ম্যাচেই একই বোলার তার উইকেট নিয়েছেন।

২৫ বলে ১১ রান করা তামিমের বিদায়ে ভাঙে লিটনের সাথে ৪৩ রানের জুটি। ক্রিজে এসেই কাভার অঞ্চলে চার মেরে শুরু সাকিবের। পরের বলেই অবশ্য এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিয়ে দেয় আম্পয়ার, সাথে সাথে রিভিউ নেন সাকিব। আউট সাইড লেগে পিচড হওয়াতে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়।

১৬তম ওভারে প্রথম আক্রমণে আসা রশিদ খান প্রথম বলটিই দেন বাজে, ফাইন লেগ দিয়ে সেটিকে চারে পরিণত করতে সময় নেননি লিটন। ২০তম ওভারে লিটন তুলে নেন ফিফটি। ঐ ওভারে লিটনের হাঁকানো কাভার ড্রাইভটা চোখ জুড়ানো। ততক্ষণে সাকিবের সাথে জুটিতেও যোগ হয়ে যায় ৫০ এর বেশি রান।

জুটি অবশ্য ৬১ রানের বেশি লম্বা হয়নি ওমরাজাইয়ের শর্ট অব লেংথ ডেলিভারি ডিফেন্স করতে গিয়ে সাকিব স্টাম্পে টেনে আনলে। ফিরেছেন ৩৬ বলে ৩ চারে ৩০ রান করে।

আগের ম্যাচে হার না মানা ৮৬ রানের ইনিংস খেলা মুশফিকুর রহিম ১৫ বলে ৭ রানের বেশি করতে দেননি রাশিদ। আফগান লেগ স্পিনার ইয়াসির আলি রাব্বিকে (৪ বলে ১) নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করতেও নেননি বেশি সময়। ১২৫ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথেও লিটনের জুটি বড় হয়নি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ফেরেন আগের ম্যাচের নায়ক লিটন। মোহাম্মদ নবির বলে গুলবাদিন নাইবকে ক্যাচ দিয়েছেন ১১৩ বলে ৭ চারে ৮৬ রান করে। নিজের করা পরের ওভারে আফিফকেও (৫) ফেরান নবি।

মেহেদী হাসান মিরাজ (৬), তাসকিন আহমেদ (০), শরিফুল ইসলাম (৭), মুস্তাফিজুর রহমান (১) একই পথ ধরলে ১৯২ রানেই গুটিয়ে যেতে হয় বাংলাদেশকে। এক পাশ আগলে রেখে যোগ্য সঙ্গ না পাওয়া মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ৫২ বলে ২৯ রানে। আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট রাশিদ খানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১৯২/১০ (৪৬.৫), তামিম ১১, লিটন ৮৬, সাকিব ৩০, মুশফিক ৭, রাব্বি ১, মাহমুদউল্লাহ ২৯*, আফিফ ৫, মিরাজ ৬, তাসকিন ০, শরিফুল ৭, মুস্তাফিজ ১; ফারুকি ৭.৫-০-৩৩-১, ওমরজাই ৬-০-২৯-১, রাশিদ ১০-০-৩৭-৩, নবি ১০-০-২৯-২।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাঞ্জাবের নতুন অধিনায়ক মায়াঙ্ক আগারওয়াল

Read Next

শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নয় সাকিবের চূড়ান্ত ভাবনা নিয়েই বসছে বোর্ড!

Total
7
Share